ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে হায়দরাবাদভিত্তিক স্পেস-টেক স্টার্টআপ TakeMe2Space। সংস্থাটি আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ SpaceX-এর Transporter-18 rideshare mission-এর মাধ্যমে তাদের MOI-1A orbital computing satellite মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। সংস্থার দাবি, এটি ভারতের প্রথম orbital computing satellite—অর্থাৎ যে স্যাটেলাইট মহাকাশে থেকেই ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারবে।
প্রচলিত উপগ্রহ ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ Earth observation data প্রথমে পৃথিবীতে পাঠানো হয়। এরপর ground-based data centre বা কম্পিউটিং সিস্টেমে সেই ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়। TakeMe2Space-এর MOI-1A সেই প্রক্রিয়াকে বদলানোর লক্ষ্যেই তৈরি—মহাকাশে থাকা অবস্থাতেই ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করে প্রয়োজনীয় ফলাফল বা intelligence পৃথিবীতে পাঠানো হবে।
এই প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য হল raw data-এর বিশাল পরিমাণ পৃথিবীতে পাঠানোর প্রয়োজন কমানো। বিশেষ করে Earth observation-এর ক্ষেত্রে satellite imagery-এর পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। TakeMe2Space-এর মতে, orbital computing ব্যবহার করলে transmission-এর সময় ও খরচ কমানো সম্ভব এবং ব্যবহারকারীরা সরাসরি processed information পেতে পারেন।
SpaceX-এর Transporter-18 মিশনে এই ছোট আকারের উপগ্রহটি rideshare payload হিসেবে মহাকাশে যাবে। Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, MOI-1A-এর ওজন ৫০ কেজির কম এবং এতে Nvidia Orin NX-ভিত্তিক edge-computing processors রয়েছে। মিশনের জন্য ইতিমধ্যেই ২৩ জন গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে TakeMe2Space।
কীভাবে কাজ করবে TakeMe2Space-এর MOI-1A?
MOI-1A-কে মূলত একটি on-orbit edge-computing platform হিসেবে ভাবা যায়। সাধারণ satellite system-এ সেন্সর থেকে সংগৃহীত data ground station-এ পাঠিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়। MOI-1A-এর ক্ষেত্রে সেই processing-এর একটি বড় অংশ উপগ্রহের ভিতরেই সম্পন্ন হবে।
TakeMe2Space-এর নিজস্ব প্রযুক্তিগত তথ্য অনুযায়ী, MOI-1A একটি 6U CubeSat platform, যার ভর প্রায় ১৪ কেজি। এতে রয়েছে 117 TOPS computing capacity, ১৬ GB LPDDR5 memory, ২ TB onboard storage এবং 9-band multispectral imaging system। উপগ্রহটির peak power budget প্রায় ১২০ ওয়াট।

এই onboard computing ক্ষমতা ব্যবহার করে satellite-টি নির্দিষ্ট এলাকার ছবি বা sensor data সংগ্রহ করে সেখানেই AI-based analysis চালাতে পারবে। উদাহরণ হিসেবে কৃষি জমিতে crop stress, জলসম্পদের পরিবর্তন, ভূমির ব্যবহার বা অন্য কোনও geospatial পরিবর্তন শনাক্ত করার মতো কাজ করা সম্ভব।
TakeMe2Space-এর OrbitLab platform-এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের AI model satellite-এ upload করে নির্দিষ্ট task চালানোর সুযোগ পাবেন। সংস্থার দাবি, model মহাকাশেই execute হবে এবং raw data-এর বদলে processed result পৃথিবীতে পাঠানো যাবে।
Agriculture থেকে Mining—কোথায় কাজে লাগবে orbital computing?
Orbital computing-এর সম্ভাব্য ব্যবহার শুধু মহাকাশ গবেষণায় সীমাবদ্ধ নয়। Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, TakeMe2Space-এর commercial users-এর মধ্যে agriculture, mining, supply-chain management এবং insurance-এর মতো ক্ষেত্র রয়েছে। Geographic information system সংস্থা এবং educational institution-ও মিশনের গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে।
কৃষিক্ষেত্রে satellite imagery ব্যবহার করে ফসলের স্বাস্থ্যের পরিবর্তন বা জমির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করা যায়। কিন্তু সেই বিপুল imagery পৃথিবীতে নামিয়ে এনে বিশ্লেষণ করতে সময় ও bandwidth প্রয়োজন হয়। Satellite-এর কাছেই যদি AI processing করা যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় alert বা analysis তুলনামূলক দ্রুত ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছতে পারে।
Mining এবং infrastructure monitoring-এর ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রযুক্তি কাজে লাগতে পারে। কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে পরিবর্তন, অস্বাভাবিকতা বা environmental indicators শনাক্ত করে কেবল প্রয়োজনীয় তথ্য ground system-এ পাঠানো সম্ভব হতে পারে।
Insurance বা supply-chain analytics-এর ক্ষেত্রেও দ্রুত geospatial information গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই প্রযুক্তির বাস্তব commercial performance নির্ভর করবে satellite availability, processing capacity, communication links এবং বিভিন্ন application-এর নির্দিষ্ট requirements-এর উপর।
২০২৪-এর demonstration থেকে MOI-1A
TakeMe2Space-এর orbital computing উদ্যোগ একেবারে নতুন নয়। সংস্থার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তাদের technology-demonstration mission কক্ষপথে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় onboard computing এবং radiation-protection technology যাচাই করা হয়। সংস্থার website অনুযায়ী, demonstration mission ১৪ দিনের orbital operation সম্পন্ন করেছিল।
তবে পরবর্তী MOI-1 satellite একটি launch-vehicle failure-এর কারণে হারিয়ে যায় বলে Reuters জানিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার পর MOI-1A মিশনটি TakeMe2Space-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী ধাপ হয়ে উঠেছে।

সংস্থাটি ভবিষ্যতে আরও বড় এবং networked satellite তৈরির পরিকল্পনা করছে। Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকে বড় satellite-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি TakeMe2Space ভবিষ্যতে orbital data storage বা critical data-এর জন্য space-based backup infrastructure তৈরির পরিকল্পনাও করছে।
TakeMe2Space-এর নিজস্ব পরিকল্পনায় ছয়টি MOI satellite নিয়ে একটি constellation তৈরির কথা রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিদিনের global coverage এবং orbital computing capacity বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংস্থার website অনুযায়ী, এই constellation-এর লক্ষ্য ২০২৭ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের মধ্যে operational coverage তৈরি করা।
এর পাশাপাশি ২০২৮ সালে আরও বড় networked orbital data centre mission-এর পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে। Economic Times-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভবিষ্যতের Generation-2 satellite-গুলিতে আরও শক্তিশালী NVIDIA GPU, বড় storage capacity এবং একাধিক satellite-এর মধ্যে computing workload ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
১ অক্টোবরের MOI-1A উৎক্ষেপণ সফল হলে ভারতের commercial space sector-এ orbital computing-এর একটি নতুন ব্যবহারিক পরীক্ষার দরজা খুলবে। Satellite শুধু ছবি সংগ্রহ করবে না, বরং কক্ষপথেই সেই data থেকে প্রয়োজনীয় information তৈরি করার চেষ্টা করবে।
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রীয় ধারণাটি সহজ—“raw data” পৃথিবীতে নামানোর বদলে মহাকাশেই data থেকে intelligence তৈরি করা। SpaceX Transporter-18 মিশনে MOI-1A-এর যাত্রা সেই ধারণাকে বাস্তবে কতটা কার্যকর করে তুলতে পারে, সেটিই এখন নজরের কেন্দ্রে।







