কলকাতার বিড়লা অ্যাকাডেমি অফ আর্ট অ্যান্ড কালচারে ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হল বিশেষ অন্তর্ভুক্তিমূলক অনুষ্ঠান ‘প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে’। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও মানুষদের প্রতিভাকে সমাজের মূলস্রোতে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই আয়োজন। অনুষ্ঠানে নাচ, গান, কবিতা ও নাটকের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের প্রতিভার প্রকাশ ঘটান।
কলকাতাকে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও সুযোগের শহর হিসেবে তুলে ধরে আয়োজকদের বক্তব্যে উঠে আসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের প্রতিভা প্রকাশের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ ও পরিকাঠামো কি এখনও তৈরি হয়েছে? সেই জায়গাতেই অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা সামনে আনে এই অনুষ্ঠান।
এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রাজা দাশগুপ্ত মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য হল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও মানুষদের সমাজের মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করা এবং তাঁদের প্রতিভা প্রকাশের জন্য একটি স্বীকৃত মঞ্চ তৈরি করা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা পারার-না-পারার সীমারেখার ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিভাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাই ছিল এই আয়োজনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
রাজা দাশগুপ্তের স্মৃতিকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা এই সংস্থা ভালোবাসা, যত্ন, অন্তর্ভুক্তি, মূল্যবোধ ও শিক্ষার প্রসারকে সামাজিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখে। তাঁর এই ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সংস্থার অন্যতম কর্ণধার স্বাতী দাশগুপ্ত এবং তাঁর সন্তান কৃতিমান দাশগুপ্ত ও দুহিতা দাশগুপ্ত।
মঞ্চে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিল্পীদের প্রতিভার প্রকাশ

স্বাতী দাশগুপ্তের তত্ত্বাবধানে এবং কৃতিমান ও দুহিতার পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ১৫০ জনেরও বেশি দর্শকের উপস্থিতি ছিল বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে। বিড়লা অ্যাকাডেমির মঞ্চে এই বিপুল দর্শক সমাগম অনুষ্ঠানটির সামাজিক গুরুত্বকেও সামনে নিয়ে আসে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেয় নোবেল মিশন, Dwish, কথা ও কবিতা, সমন্বয় এবং ইউনিফায়েড থিয়েটার দলের সদস্যরা। বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণে নাচ, গান, কবিতা ও নাটকের পরিবেশনা হয়ে ওঠে এই আয়োজনের মূল আকর্ষণ। এর মধ্য দিয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিল্পীদের জন্য সুযোগ তৈরি হলে তাঁদের প্রতিভাও বৃহত্তর দর্শকের সামনে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব—এই বার্তাই উঠে আসে।
বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক বার্তাও
‘প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে’ শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিনোদনের জগতেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও মানুষদের উপস্থিতি এবং সুযোগের অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁদের প্রতিভাকে সামনে আনার জন্য আরও বেশি মঞ্চ ও সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সরকারি স্তরে আরও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিল্পীদের জন্য সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রকে আরও উন্মুক্ত ও সহজলভ্য করে তোলার আহ্বান ছিল এই আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতির পথে আরও এক পদক্ষেপ
একটি সমাজ তখনই আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠতে পারে, যখন প্রতিটি মানুষের প্রতিভা ও সৃজনশীলতাকে প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে ‘প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে’ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিল্পীদের জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করেছে।

কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিসরে এই ধরনের আয়োজন শুধু দর্শকদের বিনোদন দেয় না, বরং সামাজিক সচেতনতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মঞ্চে অংশ নেওয়া শিল্পীদের পরিবেশনা এবং তাঁদের উপস্থিতি আরও একবার মনে করিয়ে দেয়—সুযোগের দরজা খুলে দিলে প্রতিভা নিজের জায়গা করে নিতে পারে।
২৬ সেপ্টেম্বর বিড়লা অ্যাকাডেমি অফ আর্ট অ্যান্ড কালচারে আয়োজিত ‘প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে’ তাই একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তির একটি বার্তাও বহন করেছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও মানুষদের জন্য আরও সুযোগ, মঞ্চ ও পরিকাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে আয়োজকদের এই উদ্যোগ কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা তুলে ধরেছে।







