বাংলা চলচ্চিত্র জগতে রহস্য, আবেগ এবং ব্যতিক্রমী গল্প বলার ক্ষেত্রে বরাবরই আলাদা জায়গা করে নিয়েছে Windows Production। এবার সেই প্রযোজনা সংস্থার আসন্ন রহস্য-নির্ভর ছবি Phool Pishi O Edward ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা আরও একধাপ বাড়িয়ে দিল রাজতাভ দত্তের নতুন চরিত্র পোস্টার। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া এই পোস্টারে জনপ্রিয় অভিনেতা রাজতাভ দত্তকে দেখা গিয়েছে ‘বাল্মীকি’ চরিত্রে, যা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
পরিচালক জুটি Nandita Roy এবং Shiboprosad Mukherjee-র পরিচালনায় তৈরি এই ছবিটি আগামী ২৯ মে ২০২৬ মুক্তি পেতে চলেছে। বাংলা মূলধারার সিনেমায় মানবিক গল্প বলার পাশাপাশি সামাজিক বার্তা তুলে ধরার জন্য পরিচিত এই জুটি এবার পা রাখছে রহস্য নাটকের জগতে। আর সেই কারণেই Phool Pishi O Edward নিয়ে আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি।
নতুন পোস্টারে রাজতাভ দত্তের চেহারা যেমন কঠোর, তেমনই তার মধ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত হাস্যরসাত্মক আবহ। পুলিশ-প্রভাবিত পোশাক, গভীর দৃষ্টি এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের রহস্যময় পরিবেশ ইঙ্গিত দিচ্ছে এমন এক চরিত্রের দিকে, যার উপস্থিতি ছবির গল্পে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে চলেছে। দর্শকদের একাংশ ইতিমধ্যেই অনুমান করতে শুরু করেছেন, ‘বাল্মীকি’ আদতে কি রহস্য সমাধানের মূল চাবিকাঠি, নাকি তিনিই গল্পের সবচেয়ে বড় ধোঁয়াশা।
রাজতাভ দত্ত বরাবরই নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলেন। কমেডি, থ্রিলার, সামাজিক নাটক কিংবা গাঢ় মনস্তাত্ত্বিক চরিত্র—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজস্ব ছাপ রেখেছেন। ফলে Phool Pishi O Edward-এ তাঁর উপস্থিতি যে ছবির অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে চলেছে, তা বলাই যায়।
রহস্য আর কৌতুকের মিশেলে ‘বাল্মীকি’ চরিত্রে নতুন চমক
নতুন পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পোস্টারে রাজতাভ দত্তের মুখভঙ্গি যেমন কঠোর, তেমনই সেখানে রয়েছে এক ধরনের ব্যঙ্গাত্মক আবহ, যা চরিত্রটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। এই দ্বৈত অভিব্যক্তিই সম্ভবত ‘বাল্মীকি’ চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য।
বাংলা ছবিতে রহস্যধর্মী চরিত্র সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে—একদম গম্ভীর অথবা সম্পূর্ণ অদ্ভুত স্বভাবের। কিন্তু এখানে দুইয়ের মিশ্রণ স্পষ্ট। পরিচালক জুটি সম্ভবত এমন একটি চরিত্র নির্মাণ করেছেন, যিনি একইসঙ্গে দর্শককে হাসাবেন এবং সন্দেহের জালে আটকে রাখবেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা সিনেমায় থ্রিলার এবং মিস্ট্রি ঘরানার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থানের পর দর্শকের রুচিতেও এসেছে পরিবর্তন। এখন দর্শক শুধু আবেগঘন গল্প নয়, বরং বহুস্তরীয় চরিত্র এবং অপ্রত্যাশিত টুইস্টও খুঁজছেন। Phool Pishi O Edward সেই চাহিদাকেই লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
রাজতাভ দত্তের অভিনয় জীবনের অন্যতম বড় শক্তি হল চরিত্রের গভীরতা ফুটিয়ে তোলা। তাঁর সংলাপ বলার ধরন, অভিব্যক্তি এবং টাইমিং বরাবরই দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। ফলে ‘বাল্মীকি’ চরিত্রটি ছবির রহস্যকে আরও জটিল এবং আকর্ষণীয় করে তুলবে, এমনটাই প্রত্যাশা।
নন্দিতা-শিবপ্রসাদের সঙ্গে প্রথম কাজ, কী বললেন রাজতাভ দত্ত?
এই ছবির মাধ্যমে প্রথমবার পরিচালক জুটি নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করলেন রাজতাভ দত্ত। আর সেই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে যে অত্যন্ত বিশেষ ছিল, তা অভিনেতার বক্তব্যেই স্পষ্ট।
রাজতাভ দত্ত বলেন, “নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করা আমার কাছে সত্যিই এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। তাঁদের প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা এবং সেটে কাজের স্বচ্ছতা অসাধারণ। একইসঙ্গে তাঁরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেন, যা উষ্ণ, মনোযোগী এবং ভীষণ পেশাদার।”
তিনি আরও জানান, পরিচালক হিসেবে তাঁরা কখনও অনড় নন। অভিনেতাদের মতামত শোনেন, প্রয়োজনে চরিত্রের স্বার্থে ইম্প্রোভাইজেশনও গ্রহণ করেন। বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রিতে এই সহযোগিতামূলক কাজের সংস্কৃতি খুব বেশি দেখা যায় না বলেই মনে করেন অনেক শিল্পী।
Windows Production-এর ছবিতে কাজ করার ইচ্ছা তাঁর অনেকদিনের ছিল বলেও জানান রাজতাভ। তাঁর কথায়, “Windows Production-এর ছবির অংশ হওয়া সবসময়ই আমার ইচ্ছের তালিকায় ছিল। এখন সেই সুযোগ পেয়ে আমি বলতে পারি, এটা সত্যিই স্মরণীয় এবং তৃপ্তিদায়ক অভিজ্ঞতা।”
পরিচালক জুটির ছবিগুলি সাধারণত সম্পর্ক, সমাজ এবং মানবিক আবেগের গল্প বললেও, এবার তাঁরা রহস্য নাটকের দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে দর্শকদের কৌতূহল আরও বেড়েছে। কারণ তাঁদের গল্প বলার ধরন বরাবরই বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে তৈরি হয়, যেখানে চরিত্রগুলির আবেগ এবং সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পায়।
বাংলা রহস্য নাটকের নতুন অধ্যায় লিখতে চলেছে ‘Phool Pishi O Edward’?
বাংলা সিনেমায় রহস্যধর্মী ছবির ইতিহাস দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দর্শকরা এমন গল্প বেশি পছন্দ করছেন, যেখানে শুধু খুন বা তদন্ত নয়, চরিত্রের মনস্তত্ত্ব এবং সম্পর্কের জটিলতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। Phool Pishi O Edward সম্ভবত সেই ধারাকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
ছবির নাম থেকেই বোঝা যায়, গল্পে একাধিক স্তর রয়েছে। ‘ফুল পিশি’ এবং ‘এডওয়ার্ড’—এই দুই নামই আলাদা ধরনের কৌতূহল তৈরি করে। আর সেই রহস্যময় জগতের মধ্যে ‘বাল্মীকি’ চরিত্রের আবির্ভাব যেন নতুন ধোঁয়াশার জন্ম দিচ্ছে।
Windows Production বরাবরই দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে এসেছে। বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি তাঁদের ছবিগুলি সমালোচকদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে। ফলে Phool Pishi O Edward নিয়েও প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি।
বিশেষ করে বাংলা সিনেমায় এখন যে নতুন ধরনের গল্প বলার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, সেখানে এই ছবির সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। রহস্য, কমেডি এবং আবেগ—এই তিন উপাদান যদি সঠিক ভারসাম্যে উপস্থাপন করা যায়, তাহলে ছবিটি ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত বাংলা চলচ্চিত্র হয়ে উঠতে পারে।
দর্শকদের একাংশ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টারের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। কেউ বলছেন রাজতাভ দত্তের চরিত্রটি হয়তো তদন্তকারী, আবার কারও মতে তিনি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও আসল সত্য আড়াল করে রাখবেন। এই ধরনের জল্পনাই প্রমাণ করে, ছবির প্রচার কৌশল ইতিমধ্যেই সফলভাবে দর্শকের আগ্রহ তৈরি করতে পেরেছে।
Phool Pishi O Edward মুক্তির এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকলেও, রাজতাভ দত্তের চরিত্র পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই ছবিটি ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। পরিচালক জুটি নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নতুন ঘরানায় পদার্পণ, Windows Production-এর প্রযোজনা এবং রাজতাভ দত্তের রহস্যময় উপস্থিতি—সব মিলিয়ে এই ছবি বাংলা সিনেমার দর্শকদের জন্য বড় আকর্ষণ হতে চলেছে।
আগামী ২৯ মে ২০২৬ ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা। এখন দেখার বিষয়, ‘বাল্মীকি’ চরিত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রহস্য ঠিক কতটা চমক দিতে পারে দর্শকদের।






