বাংলা চলচ্চিত্র জগতে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল Windows Production। তাদের আসন্ন ছবি Phool Pishi O Edward-এর নতুন চরিত্র পোস্টার মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হয়েছে তুমুল উন্মাদনা। শুক্রবার প্রকাশ্যে এসেছে অভিনেত্রী Shyamoupti Mudli-র প্রথম লুক, যেখানে তাঁকে দেখা গিয়েছে ‘বিনিতা’ চরিত্রে।
সোনালি আভায় মোড়া পোস্টারে শ্যামৌপ্তির ঐতিহ্যবাহী বধূবেশ ইতিমধ্যেই দর্শকদের দৃষ্টি কেড়েছে। হাতে ‘পান পাতা’, মুখে মিশ্র আবেগের অভিব্যক্তি এবং আবহে এক রহস্যময় সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে পোস্টারটি যেন ছবির গল্পের ভেতরে প্রবেশের প্রথম দরজা খুলে দিল। দর্শকদের একাংশের মতে, পোস্টারের ভিজ্যুয়াল টোনেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সেই চিরচেনা “Windows স্টাইল” যেখানে আবেগ, সম্পর্ক এবং রহস্য একসূত্রে বাঁধা থাকে।
ছবিটির পরিচালনায় রয়েছেন বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় পরিচালক জুটি Nandita Roy এবং Shiboprosad Mukherjee। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের ছবি মধ্যবিত্ত জীবনের অনুভূতি, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সামাজিক বার্তার জন্য আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। ফলে ‘ফুল পিশি ও এডওয়ার্ড’ নিয়েও প্রত্যাশা তুঙ্গে।
আগামী ২৯ মে, ২০২৬ বড়পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে এই ছবি। ইতিমধ্যেই প্রযোজনা সংস্থার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে তাদের আসন্ন প্রজেক্টগুলি। সেই তালিকায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে উঠেছে ‘ফুল পিশি ও এডওয়ার্ড’।
‘বিনিতা’ চরিত্রে শ্যামৌপ্তির নতুন অবতার
চরিত্র পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে ‘বিনিতা’কে ঘিরে। পোস্টারে শ্যামৌপ্তির চোখের অভিব্যক্তি এবং ঐতিহ্যবাহী সাজ অনেকের মতে ছবির আবেগঘন ও রহস্যময় আবহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলা সিনেমায় নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে শ্যামৌপ্তির নাম ইতিমধ্যেই পরিচিত হতে শুরু করেছে। তবে এই ছবিকে তিনি নিজের কেরিয়ারের এক বিশেষ অধ্যায় বলেই মনে করছেন। কারণ এটি শুধু একটি বড় ব্যানারের ছবি নয়, বরং এমন দুই পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ, যাঁরা নতুন শিল্পীদের নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সহযোগিতাপূর্ণ।
শ্যামৌপ্তি জানিয়েছেন, প্রথম দিন থেকেই সেটে তিনি এমন এক পরিবেশ পেয়েছেন যেখানে কোনও চাপ বা অস্বস্তি কাজ করেনি। তাঁর কথায়, “আমি সত্যিই ভাগ্যবান যে আমার প্রথম বড় কাজটাই Windows Production-এর মতো একটি উষ্ণ পরিবারের সঙ্গে। দাদা বন্ধুর মতো, আর দিদি একেবারে বড় বোনের মতো পাশে থেকেছেন।”
অভিনেত্রীর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন শিল্পীদের জন্য এমন পরিবেশই ভবিষ্যতের শিল্পচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
নন্দিতা-শিবপ্রসাদের ছবিতে ফের আবেগ ও রহস্যের মেলবন্ধন
গত এক দশকে বাংলা সিনেমায় দর্শক টানার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে Windows Production। পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক সংকট এবং মানবিক গল্পকে কেন্দ্র করে একের পর এক সফল ছবি উপহার দিয়েছে এই প্রযোজনা সংস্থা।
‘ফুল পিশি ও এডওয়ার্ড’-কেও সেই ধারার এক নতুন সংযোজন বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এবার ছবির কেন্দ্রে থাকছে রহস্য-ড্রামার ছোঁয়া। পোস্টারের রঙ, চরিত্রের উপস্থাপনা এবং প্রচারের ধরণ দেখে ইতিমধ্যেই সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, নন্দিতা-শিবপ্রসাদ জুটির সবচেয়ে বড় শক্তি হল সাধারণ আবেগকে অসাধারণভাবে পর্দায় তুলে ধরা। তাঁদের ছবিতে সম্পর্কের সূক্ষ্মতা যেমন থাকে, তেমনই থাকে জীবনের অদেখা বাস্তবতা। ফলে ‘ফুল পিশি ও এডওয়ার্ড’ও যে আবেগ এবং রহস্যের মিশেলে দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দিতে চলেছে, তা বলাই যায়।
বিশেষ করে Windows Production-এর ২৫ বছর পূর্তির আবহে এই ছবির গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে। প্রযোজনা সংস্থার তরফে ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ২০২৬ সালের অন্যতম বড় বাংলা রিলিজ হতে পারে এই ছবি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল চর্চা, বাড়ছে প্রত্যাশা
চরিত্র পোস্টার প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম জুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং একাধিক চলচ্চিত্রভিত্তিক কমিউনিটিতে শেয়ার হতে শুরু করেছে ‘বিনিতা’-র লুক।
অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে পোস্টারের সিনেম্যাটিক উপস্থাপনা আন্তর্জাতিক মানের। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, শ্যামৌপ্তির অভিব্যক্তিই ছবির গল্প সম্পর্কে কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে তাঁর চোখের ভাষা এবং ঐতিহ্যবাহী সাজ দর্শকদের মনে আলাদা প্রভাব ফেলেছে।
টলিউডে সাম্প্রতিক সময়ে কনটেন্ট-চালিত ছবির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ‘ফুল পিশি ও এডওয়ার্ড’-এর মতো রহস্যঘেরা আবেগময় গল্প দর্শকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন ইন্ডাস্ট্রির একাংশ।
সিনেমাপ্রেমীদের এক বড় অংশ এখন অপেক্ষা করছেন ট্রেলার মুক্তির জন্য। কারণ পোস্টারের মাধ্যমে নির্মাতারা যে আবহ তৈরি করেছেন, তা ছবির মূল গল্প নিয়ে আরও আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন প্রজন্মের মুখ এবং অভিজ্ঞ পরিচালকের মেলবন্ধন বরাবরই দর্শকদের আকর্ষণ করেছে। ‘ফুল পিশি ও এডওয়ার্ড’-এর ক্ষেত্রেও সেই সম্ভাবনাই স্পষ্ট। শ্যামৌপ্তি মুদলির ‘বিনিতা’ লুক শুধু একটি চরিত্র পরিচয় নয়, বরং ছবির আবেগ, রহস্য এবং নান্দনিকতার প্রথম ঝলক।
নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় তৈরি এই ছবি ইতিমধ্যেই দর্শকদের কৌতূহলের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। আগামী ২৯ মে মুক্তির আগে আরও চমক অপেক্ষা করছে বলেই মনে করছে টলিউড মহল। এখন দেখার, বড়পর্দায় ‘ফুল পিশি ও এডওয়ার্ড’ দর্শকদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে।






