স্টার জলসার নতুন চমক ‘সংসারের সংকীর্তন’: হাসি-কান্নার মোড়কে মধ্যবিত্ত বাঙালির এক অনন্য আখ্যান

স্টার জলসায় ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে নতুন ধারাবাহিক 'সংসারের সংকীর্তন'। মানালি দে এবং সব্যসাচী চৌধুরী অভিনীত এই শো-টি মধ্যবিত্ত বাঙালির ঘটি-বাঙাল দ্বন্দ্ব এবং পারিবারিক ভালোবাসার এক অনবদ্য ড্রামেডি। রাজীব কুমার বিশ্বাসের পরিচালনা ও অভিমন্যু মুখোপাধ্যায়ের লেখনীতে এটি এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে।

Table of Contents

Share Our Blog Now :
Facebook
WhatsApp

বাঙালি ড্রয়িংরুমের সান্ধ্যকালীন বিনোদনে আবারও এক নতুন জোয়ার আনতে চলেছে স্টার জলসা। আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে রাত ১০টার স্লটে শুরু হতে চলেছে নতুন ধারাবাহিক ‘সংসারের সংকীর্তন’। জীবনমুখী হাস্যরস আর আবেগের এক অপূর্ব সংমিশ্রণে তৈরি এই ড্রামেডি (Dramedy) সিরিজটি ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। প্রাত্যহিক জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এই শো।

গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দক্ষিণ কলকাতার এক প্রাণবন্ত এবং স্পষ্টভাষী মেয়ে শান্তি। প্রেমের টানে সে উত্তর কলকাতার এক রক্ষণশীল পরিবারের ছেলে জয়ন্তের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু বিয়ের পর শান্তির সামনে এসে দাঁড়ায় এক বিশাল সাংস্কৃতিক ব্যবধান। এক চঞ্চল ‘ বাঙাল’ মেয়ে যখন আদ্যোপান্ত ‘ঘটি’ পরিবারে গৃহবধূ হয়ে প্রবেশ করে, তখন তার জীবনের ছন্দ কীভাবে বদলে যায়, তা নিয়েই এগিয়েছে গল্পের গরু।

তবে শান্তির জীবন কেবল মানিয়ে নেওয়ার লড়াই নয়, বরং এক অনবদ্য আদর্শগত সংঘাতের সাক্ষী। একদিকে শ্বশুরবাড়ির পুরনো ধ্যানধারণা, আর অন্যদিকে শান্তির আধুনিক মনমানসিকতা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে বাড়ির পরিবেশ হয়ে ওঠে কখনও উত্তপ্ত, কখনও আবার হাসির ফোয়ারায় ভরপুর। সাংসারিক খুঁটিনাটি আর তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়গুলো কীভাবে একটি বাড়ির প্রাণস্পন্দন হয়ে ওঠে, ‘সংসারের সংকীর্তন’ ঠিক সেই সুরটিই ধরার চেষ্টা করেছে।

বাঙালিয়ানা, বাঙাল-ঘটি লড়াই আর পরিবারের অটুট বন্ধনের মিশেলে এই ধারাবাহিকটি কেবল বিনোদন নয়, বরং প্রতিটি সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন নির্মাতারা। স্টার জলসার এই নতুন উদ্যোগটি প্রতিদিন রাত ১০টায় দর্শকদের ড্রয়িংরুমে এক নির্মল আনন্দের আবহ তৈরি করতে প্রস্তুত।


ঘটি বনাম বাঙাল: উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার এক রোমাঞ্চকর মেলবন্ধন

‘সংসারের সংকীর্তন’ ধারাবাহিকের অন্যতম আকর্ষণ হলো উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার জীবনযাত্রার বৈপরীত্য। শান্তির সাবলীল চলন আর জয়ন্তের পরিবারের আভিজাত্যের লড়াই কেবল ভৌগোলিক নয়, বরং তা মনস্তাত্ত্বিকও বটে। শান্তির শ্বশুর বংশীবদন একজন অত্যন্ত কড়া ধাচের মানুষ, যার কাছে নিয়মানুবর্তিতা এবং পারিবারিক ঐতিহ্যই শেষ কথা। কিন্তু শান্তির উপস্থিতিতে সেই পাথুরে নিয়মে যখন ফাটল ধরে, তখনই জন্ম নেয় অম্লমধুর গল্পের।

এই ধারাবাহিকে প্রতিটি সংলাপে রয়েছে বুদ্ধিমত্তার ছাপ। বিশেষ করে শ্বশুর ও পুত্রবধূর মধ্যকার আদর্শগত টক্করগুলো অত্যন্ত চমৎকারভাবে সাজানো হয়েছে। এটি কেবল একটি সাধারণ পারিবারিক কলহের গল্প নয়, বরং এটি শেখায় কীভাবে মতবিরোধের মাঝেও ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা বজায় রাখা যায়। মধ্যবিত্ত বাঙালির চিরচেনা রান্নার ঘর থেকে শুরু করে বৈঠকখানা—সবই এখানে ধরা দিয়েছে এক জীবন্ত ক্যানভাস হিসেবে।


তারেকখচিত কাস্টিং ও নেপথ্যের কারিগর: এক শক্তিশালী টিম

এই মেগা ধারাবাহিকের সাফল্যের অন্যতম স্তম্ভ হলো এর কাস্টিং। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মানালি দে। ‘বউ কথা কও’ থেকে ‘ধুলোকণা’—প্রতিবারই তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। জয়ন্তের ভূমিকায় রয়েছেন সব্যসাচী চৌধুরী, যিনি ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’ ও ‘রামপ্রসাদ’-এর মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বাংলার ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ। শ্বশুর বংশীর চরিত্রে আছেন কিংবদন্তি অভিনেতা শুভাশীষ মুখোপাধ্যায়, যার কমিক টাইমিং এবং গম্ভীর অভিনয়ের মিশেল দেখার মতো।

ক্যামেলিয়া প্রোডাকশনস প্রাইভেট লিমিটেডের প্রযোজনায় তৈরি এই শো-টি পরিচালনা করছেন রাজীব কুমার বিশ্বাস। ‘অমানুষ’, ‘পাগলু’, ‘বিন্দাস’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবির পরিচালক হিসেবে তিনি সুপরিচিত। অন্যদিকে, চিত্রনাট্যের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন অভিমন্যু মুখোপাধ্যায়, যার ঝুলিতে রয়েছে ‘বোঝে না সে বোঝে না’ এবং ‘কানামাছি’র মতো জনপ্রিয় কাজ। এছাড়া প্রবীণ অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি এই শো-টিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।


সম্পর্কের নতুন সুর: সংকীর্তন যেখানে ভালোবাসা শেখায়

‘সংসারের সংকীর্তন’ নামটিই ইঙ্গিত দেয় যে, জীবনের প্রতিটি ওঠা-পড়া আসলে এক একটি সুর। বাড়িতে নিয়মিত ঝগড়া থাকলেও, সেই ঝগড়ার আড়ালে থাকে একে অপরের প্রতি গভীর যত্ন। ছোট ছোট অভিমান যখন বড় কোনো বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, তখনই বোঝা যায় যৌথ পরিবারের শক্তি। শান্তির লড়াইটা কেবল নিজের জায়গা করে নেওয়ার নয়, বরং পুরো পরিবারকে এক সুতোয় বাঁধার।

ধারাবাহিকটির প্রতিটি পরতে রয়েছে বাঙালি সংস্কৃতির ছাপ। ঘটিবাড়ির আভিজাত্য আর বাঙালবাড়ির আবেগ যখন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, তখন সেখানে কোনো বিভেদ থাকে না। আধুনিক যুগে যখন একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, তখন এই শো-টি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, তর্কের চেয়েও বড় হলো একত্রে থাকা। এই ইতিবাচক বার্তাটিই ‘সংসারের সংকীর্তন’-কে অন্যান্য মেগা সিরিয়াল থেকে আলাদা করে তোলে।


সামগ্রিকভাবে, স্টার জলসার ‘সংসারের সংকীর্তন’ এক নতুন স্বাদের বিনোদন হতে চলেছে। মানালি, সব্যসাচী, শুভাশীষ এবং পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অভিনয়শিল্পীদের সমাবেশ দর্শকদের জন্য এক বড় উপহার। হাসির ছলে জীবনের গভীর সত্যগুলো তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা নিশ্চয়ই সফল হবে। সুতরাং, আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে রাত ১০টায় চোখ রাখুন স্টার জলসার পর্দায় এবং শামিল হোন এই টক-ঝাল-মিষ্টি সংসারের আনন্দ অনুষ্ঠানে।

RELATED Articles :
বিনোদন

‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ টিজার প্রকাশ: মা তারার প্রতি বামার চিরন্তন ভক্তির এক ঝলক

কৌশিকী অমাবস্যার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পেল SVF-এর ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’-র টিজার। তারাপীঠের আবহে বামাচরণ ও মা তারার চিরন্তন সম্পর্ক, সাধনা, ভক্তি ও আত্মসমর্পণের গল্প নিয়ে কালীপুজো ২০২৬-এ বড় পর্দায় আসছে ছবিটি।

Read More »
বিনোদন

প্রেম যখন বেপরোয়া, সাবধানতার জায়গা থাকে কোথায়? আদৃত-আরিয়ার ‘বেপরোয়া’য় নতুন প্রেমের তীব্রতা

আদৃত রায় ও ডেবিউট্যান্ট আরিয়া রায়কে নিয়ে আসছে অভিরূপ ঘোষের নতুন বাংলা ছবি ‘বেপরোয়া’। প্রেমের তীব্রতা, আবেগ, অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার গল্প বলা এই ছবির অফিসিয়াল ট্রেলার ইতিমধ্যেই তৈরি করেছে আগ্রহ। ‘বেপরোয়া’ মুক্তি পাবে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

Read More »
কলকাতা

৫,৬০০ পদ, ১,১০৮ কেজির কেক! জন্মাষ্টমীর ভোগে মন্দিরে মহা আয়োজন

৫,৬০০ পদ এবং ১,১০৮ কেজির বিশাল কেক নিয়ে জন্মাষ্টমীর মহাভোগ আয়োজন। কৃষ্ণের জন্মোৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দিরের এই নজিরবিহীন প্রস্তুতি ভক্তদের মধ্যে তৈরি করেছে ব্যাপক আগ্রহ।

Read More »
কলকাতা

কলকাতা পুজোয় নতুন সুরের আবহ, বিশেষ সঙ্গীত রচনা উন্মোচন করলেন পণ্ডিত বিশ্ব মোহন ভাট

কলকাতার ৮৪তম মণিকতলা চালতাবাগান লোহাপট্টি দুর্গাপুজোর জন্য বিশেষ সঙ্গীত রচনা উন্মোচন করলেন গ্র্যামি জয়ী পণ্ডিত বিশ্ব মোহন ভাট। মহিষাসুরমর্দিনীর আবহ, মোহন বীণা ও তিন প্রজন্মের ভাট পরিবারের সঙ্গীত সহযোগিতায় তৈরি এই সৃষ্টি成为েছে এবারের পুজোর অন্যতম আকর্ষণ।

Read More »
কলকাতা

কলকাতা পুলিশের পুজো প্রস্তুতি জোরদার: ভিড় সামলাতে বড় মণ্ডপে বিশেষ নজর, ট্রাফিক ও নিরাপত্তা পরিকল্পনায় লালবাজার

দুর্গাপুজোর আগেই বড় প্রস্তুতি শুরু কলকাতা পুলিশের। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, মণ্ডপের গেট ও ব্যারিকেড, জরুরি পরিষেবার পথ এবং পুজো কমিটির তথ্য সংগ্রহে জোর দিচ্ছে লালবাজার। বড় পুজো-কেন্দ্রগুলিতে বাড়তি নজরদারির পাশাপাশি ২০০-র বেশি রাস্তা মেরামতের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

Read More »
error: Content is protected !!