প্রেম কখনও হিসেব মেনে আসে না। প্রথম দেখার টান, অজানা অনুভূতির উত্তেজনা কিংবা কাউকে সম্পূর্ণভাবে নিজের করে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা—সব মিলিয়ে প্রেম অনেক সময় মানুষকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যেখানে যুক্তির চেয়ে আবেগই হয়ে ওঠে বড়। সেই আবেগ, তার উন্মাদনা এবং অনিশ্চয়তাকেই সামনে রেখে আসছে নতুন বাংলা ছবি ‘বেপরোয়া’।
আদৃত রায় এবং অভিষেক? না—এবার একেবারে নতুন জুটি। আদৃত রায়ের বিপরীতে দেখা যাবে ডেবিউট্যান্ট আরিয়া রায়কে। আবেগঘন এই নতুন-প্রজন্মের প্রেমের গল্প পরিচালনা করেছেন অভিরূপ ঘোষ। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে ছবির অফিসিয়াল ট্রেলার, যেখানে প্রেমের পাশাপাশি সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অপ্রত্যাশিত মোড়ের ইঙ্গিত মিলেছে।
‘বেপরোয়া’র গল্পে প্রথম প্রেম যে শুধু মিষ্টি অনুভূতি নয়, তার মধ্যে যে উত্তেজনা, ঝুঁকি, ভয় এবং অস্থিরতাও থাকতে পারে—ট্রেলার সেই দিকটিই তুলে ধরছে। ছবিটি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।
আদৃত রায় ও আরিয়া রায়ের নতুন জুটি, প্রেমের গল্পে অন্য রকম আবেগ

বাংলা সিনেমায় নতুন জুটিকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহ বরাবরই থাকে। ‘বেপরোয়া’র ক্ষেত্রে সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে আদৃত রায় ও আরিয়া রায়ের জুটি। পরিচিত মুখের সঙ্গে এক নতুন অভিনেত্রীর জুটি ছবিটিকে একটি সতেজ আবহ দিয়েছে।
আদৃত রায় এর আগে বাংলা সিনেমা ও টেলিভিশনে নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকের কাছে পরিচিতি তৈরি করেছেন। ‘বেপরোয়া’য় তাঁর চরিত্রকে আরও আবেগনির্ভর এবং সম্পর্ককেন্দ্রিক পরিসরে দেখার সুযোগ মিলবে। অন্যদিকে, আরিয়া রায়ের জন্য এটি বড় পর্দায় গুরুত্বপূর্ণ আত্মপ্রকাশ।
ছবিটির গল্প, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনার দায়িত্বও সামলেছেন অভিরূপ ঘোষ। তাঁর আগের কাজের তুলনায় ‘বেপরোয়া’ যে ভিন্ন আবেগের জগতে প্রবেশ করছে, ট্রেলারেই তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
প্রেম এখানে শুধুমাত্র সম্পর্কের সরল সমীকরণ নয়। বরং ভালোবাসার টানে মানুষ কতটা ঝুঁকি নিতে পারে, নিজের সীমারেখা কতটা অতিক্রম করতে পারে এবং আবেগ যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়—সেই প্রশ্নই ছবির অন্যতম আকর্ষণ।
ভালোবাসার নেশা থেকে অস্থিরতা—‘বেপরোয়া’র গল্পে আবেগের সাত রং

‘বেপরোয়া’র অন্যতম আকর্ষণ তার প্রেমের ধারণা। ছবিটির কেন্দ্রে রয়েছে প্রথম প্রেমের সেই তীব্র অনুভূতি, যা একইসঙ্গে আনন্দদায়ক, ভয়ঙ্কর এবং জীবন বদলে দেওয়ার মতো হতে পারে। ছবির গল্পকে প্রথম প্রেমের বিভিন্ন আবেগঘন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতও রয়েছে।
ট্রেলারে প্রেমের পাশাপাশি সংঘাতের ছায়াও স্পষ্ট। অর্থাৎ এই গল্প শুধুমাত্র রোম্যান্টিক মুহূর্ত বা সম্পর্কের মিষ্টি দিককে ঘিরে নয়। ভালোবাসার সঙ্গে যখন আঘাত, প্রতিশোধ, অনিশ্চয়তা কিংবা হারানোর ভয় যুক্ত হয়, তখন সেই সম্পর্ক কতটা বদলে যেতে পারে—‘বেপরোয়া’ সেই দিকেই নজর দিতে চলেছে।
ছবির আগের টিজারেও প্রেমের আঘাতের পর প্রতিশোধের আবহের ইঙ্গিত ছিল। ফলে দর্শকের সামনে যে প্রেমের গল্প আসতে চলেছে, সেটি নিছক প্রচলিত রোম্যান্টিক ড্রামা হবে না—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
এই আবেগকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে ছবির সঙ্গীত। সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই ছবির গান প্রকাশ পেতে শুরু করেছে, যা ছবির রোম্যান্টিক আবহকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
১৭ সেপ্টেম্বর বড় পর্দায় ‘বেপরোয়া’, অপেক্ষায় বাংলা সিনেমার দর্শক
‘বেপরোয়া’র সবচেয়ে বড় পরীক্ষা অবশ্যই প্রেক্ষাগৃহে। ১৭ সেপ্টেম্বর মুক্তির পর দর্শক কীভাবে গ্রহণ করেন আদৃত রায় ও আরিয়া রায়ের জুটিকে, সেটাই এখন দেখার। নতুন মুখ, নতুন সম্পর্কের সমীকরণ এবং অভিরূপ ঘোষের পরিচালনায় ছবিটি বাংলা রোম্যান্টিক সিনেমায় কতটা আলাদা জায়গা তৈরি করতে পারে, তা সময়ই বলবে।
বর্তমান বাংলা সিনেমায় প্রেমের গল্প বলার ধরনও বদলাচ্ছে। শুধুমাত্র নায়ক-নায়িকার সম্পর্ক নয়, সম্পর্কের মনস্তত্ত্ব, আবেগের অন্ধকার দিক এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পরিণতিও ক্রমশ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। ‘বেপরোয়া’ সেই পরিবর্তিত ধারার সঙ্গে কতটা সফলভাবে নিজেকে যুক্ত করতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সবশেষে, ‘বেপরোয়া’র মূল আকর্ষণ সম্ভবত সেই প্রশ্নেই—ভালোবাসা যখন সত্যিই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, তখন মানুষ কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে? আদৃত রায় ও আরিয়া রায়ের পর্দার রসায়ন, অভিরূপ ঘোষের গল্প বলার ধরন এবং আবেগ-সংঘাতের মিশেল মিলিয়ে সেই উত্তর খুঁজতেই ১৭ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে চোখ থাকবে দর্শকের।






