চার বছরের দীর্ঘ বিরতির পর ফের একবার রহস্য, ইতিহাস আর অ্যাডভেঞ্চারের পথে হাঁটতে চলেছে বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি গুপ্তধন। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সেরে ফেলা হলো বহু প্রতীক্ষিত নতুন ছবির মুহূর্ত—সপ্তডিঙ্গার গুপ্তধন। এই মুহূর্তের সঙ্গেই নিশ্চিত হয়ে গেল, গুপ্তধনের জগৎ আবারও খুলতে চলেছে দর্শকদের জন্য।
২০১৮ ও ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আগের দুটি ছবির সাফল্যের পর দীর্ঘ সময় নীরব ছিল এই ফ্র্যাঞ্চাইজি। সেই নীরবতা ভেঙে আজকের মুহূর্ত যেন শুধু একটি ছবির সূচনা নয়, বরং একটি নতুন অধ্যায়ের ঘোষণা। রহস্যময় ধাঁধা, ঐতিহাসিক সূত্র আর রুদ্ধশ্বাস অভিযানের যে মিশ্রণ গুপ্তধনকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল, সেই স্বাক্ষর ঘরানাই ফেরত আসতে চলেছে।
সবচেয়ে আনন্দের খবর, দর্শকদের প্রিয় ত্রয়ী আবার একসঙ্গে। অভির চট্টোপাধ্যায় ফিরছেন সোনা দা চরিত্রে, সঙ্গে ঝিঙ্ক ও আবির হিসেবে যথাক্রমে ইশা সাহা এবং অর্জুন চক্রবর্তী। নতুন চরিত্র সংযোজনের ইঙ্গিতও মিলেছে, যা কাহিনিকে আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করে তুলবে বলেই ধারণা।
মুহূর্ত সম্পন্ন হওয়ার পর জানা গিয়েছে, জানুয়ারি মাসের শেষের দিকেই ছবির শুটিং শুরু হবে। অর্থাৎ খুব শিগগিরই ক্যামেরার সামনে ফের একবার শুরু হবে গুপ্তধনের সন্ধান।
চার বছরের বিরতি ভেঙে গুপ্তধনের প্রত্যাবর্তন

গুপ্তধন ফ্র্যাঞ্চাইজির ইতিহাসে এই চার বছরের বিরতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে বাংলা সিনেমায় বহু নতুন ধারা, নতুন পরীক্ষা দেখা গেছে। তবু গুপ্তধনের নাম উচ্চারিত হলেই আজও দর্শকের মনে ফিরে আসে ধাঁধায় ভরা অভিযান, পুরনো নথি, ইতিহাসের ইঙ্গিত আর কলকাতা ও বাংলার নানা প্রান্তের লোকেশন।
এই দীর্ঘ বিরতি আসলে প্রত্যাশাকেই বাড়িয়ে তুলেছে। নির্মাতারা সূত্রে ইঙ্গিত, তৃতীয় ছবিতে গল্পের স্কেল ও আবহ আগের তুলনায় আরও বড় হবে। শুধু ধনসম্পদের সন্ধান নয়, ইতিহাসের এমন এক অধ্যায় উঠে আসবে, যা সমসাময়িক সময়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
মুহূর্ত অনুষ্ঠানের দিন থেকেই টিমের ভেতরে যে আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য করা গেছে, তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—এই প্রত্যাবর্তন নিছক নস্টালজিয়া নির্ভর নয়, বরং নতুন দর্শক ও পুরনো অনুরাগী—দু’পক্ষকেই একসঙ্গে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
সোনা দা–ঝিঙ্ক–আবির: প্রিয় ত্রয়ীর পুনর্মিলন

গুপ্তধনের প্রাণ বলা যায় এই তিন চরিত্রকে। সোনা দার বুদ্ধিদীপ্ত বিশ্লেষণ, ঝিঙ্কের আবেগ ও সাহস, আর আবিরের বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি—এই ত্রিভুজ সম্পর্কই সিরিজটিকে প্রাণবন্ত করেছে। চার বছর পর এই চরিত্রগুলোর পুনর্মিলন তাই স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনার কেন্দ্রে।
শোনা যাচ্ছে, সপ্তডিঙ্গার গুপ্তধন-এ এই তিন চরিত্রই কিছুটা পরিণত, কিছুটা বদলে যাওয়া। সময়ের সঙ্গে তাঁদের অভিজ্ঞতা বেড়েছে, সম্পর্কের সমীকরণও নাকি আরও গভীর হয়েছে। ফলে শুধুই অ্যাডভেঞ্চার নয়, চরিত্রগুলোর ভেতরের দ্বন্দ্ব ও আবেগও এবার গল্পের বড় অংশ হয়ে উঠবে।
নতুন চরিত্র সংযোজনের ফলে এই ত্রয়ীর ওপর নতুন চাপ ও নতুন প্রশ্ন আসবে—যা গল্পকে আরও জটিল ও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলেই আশা।
‘সপ্তডিঙ্গার গুপ্তধন’: নতুন অধ্যায়, নতুন রহস্য

ছবির নাম থেকেই স্পষ্ট, এই কিস্তিতে গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ‘সপ্তডিঙ্গা’—যার সঙ্গে ইতিহাস, লোককথা ও প্রতীকের যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা প্রবল। নির্মাতারা এখনই কাহিনি নিয়ে মুখ খুলতে না চাইলেও, সূত্রের খবর অনুযায়ী গল্পে থাকবে একাধিক স্তর ও সময়রেখা।
লোকেশন, ভিজ্যুয়াল টোন এবং প্রোডাকশন ডিজাইনে বড়সড় আপগ্রেডের ইঙ্গিত মিলেছে। আধুনিক সিনেম্যাটিক ভাষার সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে মেলানোর চেষ্টাই নাকি এই ছবির মূল চ্যালেঞ্জ।
জানুয়ারি শেষে শুটিং শুরু হলে ধাপে ধাপে আরও তথ্য সামনে আসবে। তবে মুহূর্ত থেকেই পরিষ্কার—গুপ্তধন ফ্র্যাঞ্চাইজি এবার শুধু ফিরে আসছে না, নিজেকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতেও প্রস্তুত।
চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সপ্তডিঙ্গার গুপ্তধন-এর মুহূর্ত কার্যত ঘোষণা করে দিল, বাংলার অ্যাডভেঞ্চার-রহস্যধর্মী সিনেমা আবার বড় পর্দায় দাপটের সঙ্গে ফিরছে। প্রিয় ত্রয়ীর প্রত্যাবর্তন, নতুন গল্পের প্রতিশ্রুতি ও উন্নত স্কেলের নির্মাণ—সব মিলিয়ে গুপ্তধনের এই নতুন অধ্যায় ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে কৌতূহল ও প্রত্যাশার পারদ চড়িয়েছে।






