বাংলা সিনেমার দর্শকদের জন্য ২০২৬ সালের অন্যতম প্রতীক্ষিত ছবি হয়ে উঠেছে ‘ফুল পিশি ও এডওয়ার্ড’। ইতিমধ্যেই রহস্য, আবেগ এবং সম্পর্কের জটিল সমীকরণ নিয়ে তৈরি এই ছবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ। আর সেই উত্তেজনাকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল উইন্ডোজ প্রোডাকশনের সদ্য প্রকাশিত চরিত্র পোস্টার। সেখানে একেবারে রাজকীয় অবতারে ধরা দিলেন অভিনেতা সৌম্য মুখার্জি।
নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত এই রহস্যঘন ড্রামা আগামী ২৯ মে ২০২৬ মুক্তি পেতে চলেছে। ইতিমধ্যেই ছবির টিজার, ফার্স্ট লুক এবং বিভিন্ন প্রচারমূলক পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। তবে এবার সৌম্য মুখার্জির ‘সময়’ চরিত্রের পোস্টার যেন ছবির রহস্যকে আরও গভীর করে তুলেছে।
প্রকাশিত পোস্টারে দেখা যাচ্ছে, গাঢ় লাল শেরওয়ানি এবং ক্রিম রঙের পাগড়িতে সজ্জিত সৌম্যকে। মোমবাতির আলোয় আলোকিত রাজকীয় ব্যাকড্রপ গোটা ফ্রেমকে দিয়েছে এক অভিজাত আবহ। পোস্টারের প্রতিটি খুঁটিনাটিতে যেন লুকিয়ে রয়েছে চরিত্রটির অজানা গল্প। দর্শকদের একাংশের মতে, ছবির রহস্যের কেন্দ্রে থাকতে পারে ‘সময়’ চরিত্রটিই।
এই ছবির মাধ্যমে উইন্ডোজ প্রোডাকশনের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত সৌম্য মুখার্জি। অভিনেতার কথায়, স্কুলজীবনে ‘ইচ্ছে’ দেখার পর থেকেই নন্দিতা-শিবপ্রসাদের সঙ্গে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। টেলিভিশন থেকে ‘বহুরূপী’-র মতো সফল সিনেমা পর্যন্ত তাঁদের যাত্রা তিনি কাছ থেকে অনুসরণ করেছেন। তাই এই ছবিতে কাজ করাকে নিজের কেরিয়ারের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলেই মনে করছেন তিনি।
নন্দিতা-শিবপ্রসাদের পরিচালনায় নতুন অভিজ্ঞতা
বাংলা সিনেমায় নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জুটি মানেই অন্যরকম গল্প বলার প্রতিশ্রুতি। তাঁদের ছবিতে সম্পর্ক, আবেগ এবং সামাজিক বাস্তবতা যেমন গুরুত্ব পায়, তেমনই অভিনয়ের সূক্ষ্মতাও হয়ে ওঠে ছবির অন্যতম বড় শক্তি। সৌম্য মুখার্জির বক্তব্যেও উঠে এসেছে সেই অভিজ্ঞতার কথা।
অভিনেতা জানান, এই ছবির শুটিং ছিল তাঁর কাছে একপ্রকার অভিনয়ের কর্মশালা। সংলাপের চেয়ে চোখের ভাষা, শরীরী অভিব্যক্তি এবং নীরবতার গুরুত্ব কীভাবে একটি দৃশ্যকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে, সেই পাঠ তিনি পেয়েছেন পরিচালকদের কাছ থেকে।
একটি বিশেষ দৃশ্যের কথা উল্লেখ করে সৌম্য বলেন, একটি শটে তাঁর মুখের অভিব্যক্তি ঠিকঠাক না হওয়ায় নন্দিতা রায় তাঁকে আলাদা করে বুঝিয়েছিলেন চরিত্রটির আবেগ কতটা সূক্ষ্ম। সেই মুহূর্ত থেকেই তিনি উপলব্ধি করেন, ‘সময়’ চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলতে শুধুমাত্র সংলাপ নয়, অনুভূতির গভীরতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
উইন্ডোজ প্রোডাকশনের সেটে কাজের পরিবেশ নিয়েও প্রশংসায় পঞ্চমুখ অভিনেতা। তাঁর মতে, এখানে থিয়েটার কিংবা গ্রাসরুট স্তর থেকে উঠে আসা শিল্পীদেরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে টিমওয়ার্ক এবং টেকনিক্যাল পারফেকশনের উপর জোর দেওয়াই এই প্রোডাকশন হাউসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
‘সময়’ চরিত্র নিয়ে বাড়ছে রহস্য
ছবির পোস্টার প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, ‘সময়’ চরিত্রটি ছবির গল্পে বড় কোনও মোড় আনতে চলেছে। পোস্টারের রাজকীয় আবহ এবং সৌম্যর অভিব্যক্তি সেই জল্পনাকেই আরও উস্কে দিয়েছে।
বাংলা সিনেমায় রহস্যঘন গল্পের প্রতি দর্শকদের আকর্ষণ বরাবরই প্রবল। তার উপর যখন পরিচালনায় থাকছেন নন্দিতা-শিবপ্রসাদ, তখন প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। ‘ফুল পিশি ও এডওয়ার্ড’ নিয়েও এখন সেই একই উত্তেজনা কাজ করছে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে।
ছবির প্রেক্ষাপট, চরিত্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক এবং গল্পের কেন্দ্রীয় দ্বন্দ্ব নিয়ে এখনও নির্মাতারা সম্পূর্ণ মুখ খোলেননি। ফলে দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়ছে। বিশেষ করে ‘সময়’ চরিত্রটি আদৌ নায়ক, নাকি রহস্যের মূল সূত্রধর— তা নিয়েই চলছে নানা আলোচনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা ছবির প্রচারে চরিত্র পোস্টারের ব্যবহার দর্শকদের আগ্রহ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উইন্ডোজ প্রোডাকশনও সেই কৌশলেই সফলভাবে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করতে পেরেছে।
তারকাখচিত কাস্টে নিজেকে প্রমাণের লড়াই
এই ছবির অন্যতম বড় আকর্ষণ তার বিশাল ও শক্তিশালী কাস্ট। ছবিতে রয়েছেন সোহিনী সেনগুপ্ত, রাইমা সেন, অর্জুন চক্রবর্তী, রজতাভ দত্ত, অনামিকা সাহা, অনন্যা চট্টোপাধ্যায়-সহ আরও বহু পরিচিত মুখ। এমন অভিজ্ঞ শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগকে নিজের অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলেই মনে করছেন সৌম্য।
তিনি জানান, শুটিংয়ের প্রতিটি দিন তাঁর কাছে ছিল শেখার নতুন সুযোগ। সিনিয়র শিল্পীদের অভিনয়, সংলাপ বলার ধরন এবং দৃশ্যের প্রস্তুতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তাঁর অভিনয়জীবনে বড় ভূমিকা নেবে বলেও বিশ্বাস অভিনেতার।
শুটিংয়ের প্রথম দিন নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সৌম্য বলেন, শুরুটা খুব সহজ ছিল না। প্রথম শটেই তিনি খানিকটা নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন। তবে অভিনেত্রী জিনিয়া সেন তাঁকে সাহস জুগিয়েছিলেন এবং ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে সাহায্য করেছিলেন।
বর্তমানে বাংলা সিনেমায় নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের মধ্যে সৌম্য মুখার্জির নাম দ্রুত উঠে আসছে। তাঁর এই নতুন লুক এবং অভিনয় নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ফুল পিশি ও এডওয়ার্ড’ তাঁর কেরিয়ারের বড় মোড় হয়ে উঠতে পারে।
‘ফুল পিশি ও এডওয়ার্ড’ শুধু একটি রহস্যঘন ছবি নয়, বরং বাংলা সিনেমায় আবেগ, অভিনয় এবং ভিজ্যুয়াল গল্প বলার নতুন সংযোজন হতে চলেছে বলেই মনে করছেন সিনেমাপ্রেমীরা। সৌম্য মুখার্জির রাজকীয় লুক ইতিমধ্যেই দর্শকদের কৌতূহল তুঙ্গে পৌঁছে দিয়েছে। এখন দেখার, ২৯ মে মুক্তির পর এই রহস্যময় গল্প কতটা প্রভাব ফেলতে পারে বক্স অফিস এবং দর্শকদের মনে।






