মার্চের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় দেখা দিচ্ছে নাটকীয় পরিবর্তন। শীত প্রায় বিদায় নিয়েছে, আর গরমের আগমনী বার্তা স্পষ্ট। তবে তার মাঝেই মাঝে মাঝে বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি করছে নতুন আবহাওয়াগত পরিস্থিতি। ফলে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আকাশের মেজাজ নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের আর্দ্রতা এবং উপরের স্তরের বায়ুপ্রবাহের কারণে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে হাওড়া, হুগলি এবং মুর্শিদাবাদে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—আজ কি কলকাতায় বৃষ্টি হবে? নাকি আংশিক মেঘলা আকাশই থাকবে? আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজকের দিনে কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় মেঘলা আকাশের পাশাপাশি বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
চলুন বিস্তারিতভাবে দেখে নেওয়া যাক আজকের আবহাওয়ার পরিস্থিতি, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি এবং আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া কেমন থাকতে পারে।
আজ কলকাতার আবহাওয়া কেমন থাকবে?
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৯ মার্চ কলকাতার আকাশ সারাদিন আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। দিনের কিছু সময়ে রোদ দেখা গেলেও বিকেলের দিকে মেঘ জমার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে প্রায় ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে ২৩ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। ফলে দিনের বেলায় গরম ও আর্দ্রতার অনুভূতি বাড়তে পারে।
তবে দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আর্দ্র বাতাস এবং স্থানীয় বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতার কারণে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বজ্রসহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। যদিও কলকাতায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
এছাড়াও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অনেকেই অস্বস্তিকর গরম অনুভব করতে পারেন। ফলে দিনের বেলায় বাইরে বের হলে হালকা পোশাক এবং পর্যাপ্ত জল পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।
হাওড়া, হুগলি ও মুর্শিদাবাদে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা
আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে হাওড়া, হুগলি ও মুর্শিদাবাদে স্থানীয়ভাবে বজ্রঝড়ের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এই ধরনের আবহাওয়া সাধারণত তৈরি হয় যখন উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস দ্রুত উপরের ঠান্ডা বায়ুর সঙ্গে সংঘর্ষে আসে। এর ফলে বজ্রপাত, দমকা হাওয়া এবং হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে দমকা হাওয়া বইতে পারে। তাই খোলা জায়গায় থাকা বা গাছের নিচে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। কৃষকদেরও মাঠে কাজ করার সময় আবহাওয়ার দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
এই বৃষ্টিপাত সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে বজ্রঝড়ের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া কিছুটা পরিবর্তনশীল থাকতে পারে। মাঝে মাঝে মেঘলা আকাশ এবং বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বাতাস এবং স্থানীয় বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতা এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের মূল কারণ। এর ফলে কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
তবে দীর্ঘস্থায়ী ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত খুব বেশি নেই। বরং দিনের বেলায় গরম ও আর্দ্রতা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে গরমের তীব্রতা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়াও আবহাওয়ার এই পরিবর্তন শহর ও গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা বাইরে কাজ করেন বা দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করেন, তাদের আবহাওয়ার আপডেট সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ৯ মার্চ কলকাতার আবহাওয়া আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা বেশি। দিনের বেলায় তাপমাত্রা বাড়লেও বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বজ্রসহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে হাওড়া, হুগলি ও মুর্শিদাবাদে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। তাই এই জেলাগুলির বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তন মার্চ মাসের স্বাভাবিক মৌসুমি প্রবণতারই অংশ। তবে যেহেতু বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
পরবর্তী কয়েক দিনে আবহাওয়ার আরও পরিবর্তন হতে পারে। তাই আবহাওয়া সংক্রান্ত আপডেটের জন্য নিয়মিত নজর রাখা উচিত আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাসের দিকে।






