২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান। ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই, বিরোধীদের পুনরুত্থানের প্রচেষ্টা, আর জাতীয় রাজনীতির ছায়া—সব মিলিয়ে এই নির্বাচন শুধু রাজ্য নয়, দেশজুড়েই বিশেষ নজরে। ঠিক এই আবহেই The Times of India প্রকাশ করল একটি আলোচিত ফটো স্টোরি, যেখানে ধরা পড়েছে বাংলার রাজনীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী মুখগুলো।
এই ফটো স্টোরি শুধুই ছবি নয়—এটি এক ধরনের রাজনৈতিক মানচিত্র। কে কোথায় দাঁড়িয়ে, কার জনপ্রিয়তা কোন দিকে, আর কার রাজনৈতিক উপস্থিতি সবচেয়ে ভারী—সবকিছুই ইঙ্গিতপূর্ণভাবে উঠে এসেছে ফ্রেমে। ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের মাধ্যমে ভোটারদের সামনে নতুন করে হাজির হয়েছে ‘হেভিওয়েট’ বনাম ‘হেভিওয়েট’-এর লড়াই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট জনমত গঠনে বড় ভূমিকা নেয়। বক্তব্যের চেয়েও অনেক সময় একটি শক্তিশালী ছবি বেশি প্রভাব ফেলে। তাই টাইমস অব ইন্ডিয়ার এই ফটো স্টোরি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রে।
প্রশ্ন একটাই—এই ফ্রেমে কারা জায়গা পেলেন, আর কেন তাঁদেরই বলা হচ্ছে ২০২৬-এর নির্বাচনের মূল ‘হেভিওয়েট’?
তৃণমূল কংগ্রেসের ভারী মুখ: ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বনাম ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব


টাইমস অব ইন্ডিয়ার ফটো স্টোরিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। স্বাভাবিকভাবেই ফ্রেমের কেন্দ্রে রয়েছেন Mamata Banerjee। তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মাঠের লড়াই আর জনসংযোগ—সবই তাঁকে এখনও তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শক্তি করে রেখেছে। ছবিতে তাঁর দৃঢ় দৃষ্টি ও আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি স্পষ্ট বার্তা দেয়—২০২৬-এর লড়াইয়ে তিনি এখনও ফ্রন্টফুটে।
ফটো স্টোরিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি Abhishek Banerjee। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেকের ভূমিকা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক বেড়েছে। যুব ভোটার, সংগঠনের আধুনিকীকরণ এবং জাতীয় স্তরে দলের অবস্থান—সবকিছুতেই তাঁকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
এই দুই মুখের উপস্থিতি আসলে তৃণমূলের দ্বৈত কৌশলের ইঙ্গিত দেয়—একদিকে মমতার অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, অন্যদিকে অভিষেকের তরুণ রাজনৈতিক আগ্রাসন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার ফটো স্টোরি সেই সমীকরণকেই ভিজ্যুয়ালি তুলে ধরেছে, যা ২০২৬-এর ভোটে তৃণমূলের প্রধান অস্ত্র হতে পারে।
বিজেপির চ্যালেঞ্জ: কেন্দ্রীয় প্রভাব বনাম রাজ্য নেতৃত্ব


ফটো স্টোরির দ্বিতীয় বড় অধ্যায় জুড়ে রয়েছে বিজেপির ‘হেভিওয়েট’রা। ছবিতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। তাঁর উপস্থিতি বোঝায়, ২০২৬-এর বাংলা নির্বাচন বিজেপির কাছে কতটা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক বার্তা, জাতীয়তাবাদী রাজনীতি এবং শক্ত সংগঠনের দাবি—সবকিছুই তাঁর ইমেজের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
রাজ্য স্তরে বিজেপির মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন Suvendu Adhikari। একসময় তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা থাকলেও এখন তিনি বিজেপির রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। ছবিতে তাঁর আক্রমণাত্মক ভঙ্গি এবং মাঠের রাজনীতির ছাপ স্পষ্ট।
এই ফটো স্টোরি বিজেপির একটি বড় সমস্যাকেও ইঙ্গিত করে—কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা থাকলেও রাজ্যস্তরে মুখ্যমন্ত্রী মুখের প্রশ্ন এখনও পুরোপুরি মিটে যায়নি। তবু মোদি–শুভেন্দু যুগলকে সামনে রেখে বিজেপি যে ২০২৬-এ পূর্ণ শক্তি দিয়ে লড়াই করতে চাইছে, তা পরিষ্কার।
অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি ও ‘ডার্ক হর্স’ ফ্যাক্টর


টাইমস অব ইন্ডিয়ার ফটো স্টোরি শুধু তৃণমূল ও বিজেপিতেই সীমাবদ্ধ নয়। সেখানে জায়গা পেয়েছে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের একাধিক পরিচিত মুখ। যদিও সাম্প্রতিক নির্বাচনে তাঁদের প্রভাব কমেছে, তবু নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ক এবং জোট রাজনীতির সম্ভাবনা এখনও উপেক্ষা করা যায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দলগুলিই ২০২৬-এর নির্বাচনে ‘ডার্ক হর্স’ হয়ে উঠতে পারে। ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী লড়াই হলে ভোট ভাগের সমীকরণ বদলে যেতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বড় দলগুলোর ফলাফলে। ফটো স্টোরিতে তাঁদের উপস্থিতি সেই সম্ভাবনাকেই মনে করিয়ে দেয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এই নতুন ফটো স্টোরি আসলে ২০২৬-এর বঙ্গ রাজনীতির একটি ভিজ্যুয়াল প্রিভিউ। এখানে ধরা পড়েছে অভিজ্ঞতা বনাম আগ্রাসন, কেন্দ্র বনাম রাজ্য, আর পুরনো শক্তি বনাম নতুন সম্ভাবনার লড়াই। ছবিগুলো শুধু মুহূর্ত বন্দি করেনি, বরং ভোটের আগে জনমনের দিকনির্দেশও দিয়েছে।
২০২৬ যত এগোবে, ততই বদলাবে সমীকরণ। তবে এই ফটো স্টোরি স্পষ্ট করে দিয়েছে—বাংলার নির্বাচনে লড়াইটা হবে হেভিওয়েটদের মধ্যেই, আর সেই লড়াইয়ের প্রতিটি ফ্রেম নজরে রাখবে গোটা দেশ।






