২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত হিন্দি ছবি হয়ে উঠছে ‘আখিরি সওয়াল’। ছবির ঘোষণার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রবল কৌতূহল। শক্তিশালী বিষয়বস্তু, বিতর্কিত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং সঞ্জয় দত্তের তীব্র উপস্থিতি— সব মিলিয়ে ছবিটি ইতিমধ্যেই বলিউডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ছবির টিজার সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। টিজারে জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-কে ঘিরে কিছু ঐতিহাসিক ঘটনার ইঙ্গিত দেখা যায়, যা দর্শকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রহস্য, রাজনৈতিক আবহ এবং তীব্র আবেগের মিশেলে তৈরি এই ছবিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বড় প্রত্যাশা।
এই বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝেই আগামী ১৪ মে কলকাতায় হতে চলেছে ছবির বিশেষ প্রচার অনুষ্ঠান। শহরে উপস্থিত থাকবেন সঞ্জয় দত্ত, মিঠুন চক্রবর্তী, সমীরা রেড্ডি, ত্রিধা চৌধুরী, নমশি চক্রবর্তী-সহ ছবির একাধিক তারকা। ফলে কলকাতার সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে এখন থেকেই শুরু হয়েছে উৎসাহ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলা এবং হিন্দি সিনেমার জনপ্রিয় মুখদের এক মঞ্চে আনা এবং কলকাতাকে প্রমোশনের বড় কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া ছবির প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। মুক্তির আগে এই অনুষ্ঠান যে ছবিকে আরও বড় আলোচনায় নিয়ে যাবে, তা বলাই যায়।
কলকাতায় তারকাদের মহাসমাবেশ, সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল উন্মাদনা
১৪ মে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হতে চলা এই বিশেষ অনুষ্ঠানে তারকাদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে জমকালো সংবর্ধনার। দীর্ঘদিন পর সঞ্জয় দত্তকে কলকাতার মাটিতে বড় প্রোমোশনাল ইভেন্টে দেখতে পাওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত অনুরাগীরা।
শুধু সঞ্জয় দত্তই নন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলিউড এবং টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। মিঠুন চক্রবর্তী এবং তাঁর ছেলে নমশি চক্রবর্তীর উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইভেন্টে ছবির তারকারা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন এবং ছবির গল্প, চরিত্র ও নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন। পাশাপাশি ভক্তদের সঙ্গে ছবি তোলা এবং সরাসরি আলাপচারিতারও পরিকল্পনা রয়েছে।
কলকাতায় বড় মাপের চলচ্চিত্র প্রচার অনুষ্ঠান সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে বাংলা দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে বহু বলিউড প্রযোজনা এখন কলকাতাকে গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে দেখছে। ‘আখিরি সওয়াল’-এর ক্ষেত্রেও সেই কৌশল স্পষ্ট।
বিতর্ক, সেন্সর বোর্ডের জটিলতা এবং অবশেষে মুক্তির সবুজ সংকেত
ছবিটি সম্প্রতি কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র বোর্ড বা সিবিএফসি-র নজরে আসে। ছবির বিষয়বস্তু এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সেন্সর বোর্ডের পর্যবেক্ষণের কারণে মুক্তি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
এমনকি ট্রেলার মুক্তি নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছিল। কারণ ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছিল, যা নির্মাতাদের জন্য চাপ তৈরি করেছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে ছবিটি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে যায়। নির্মাতারা এখন পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে ছবির প্রচার এবং মুক্তির প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
এই ধরনের বিতর্ক অনেক সময় ছবির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। ‘আখিরি সওয়াল’-এর ক্ষেত্রেও সেই প্রবণতা স্পষ্ট। বিশেষ করে টিজারের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ইঙ্গিত দর্শকদের কৌতূহলকে আরও উস্কে দিয়েছে।
বলিউডে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়ভিত্তিক এবং বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি ছবির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। সেই ধারা বজায় রেখেই ‘আখিরি সওয়াল’ দর্শকদের সামনে নতুন প্রশ্ন এবং নতুন বিতর্ক তুলে ধরতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালকের হাতে তৈরি বড় ক্যানভাসের ছবি
‘আখিরি সওয়াল’ পরিচালনা করছেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক অভিজিৎ মোহন ওয়ারাং। তাঁর পরিচালনায় ছবিটি শুধু একটি রাজনৈতিক ড্রামা নয়, বরং আবেগ, ইতিহাস এবং মানবিক দ্বন্দ্বের জটিল মিশ্রণ হতে চলেছে বলে দাবি নির্মাতাদের।
ছবিটি প্রযোজনা করেছেন নিখিল নন্দা এবং সঞ্জয় দত্ত। সহ-প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন পুনীত নন্দা, ড. দীপক সিং, গৌরব দুবে এবং উজ্জ্বল আনন্দ। ছবির গল্প, চিত্রনাট্য এবং সংলাপ লিখেছেন উৎকর্ষ নৈথানি।
টিজারে যে সিনেমাটিক স্কেল দেখা গিয়েছে, তা থেকেই বোঝা যাচ্ছে নির্মাতারা বড় ক্যানভাসে গল্প বলার চেষ্টা করেছেন। শক্তিশালী ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর এবং গম্ভীর ভিজ্যুয়াল টোন ছবির রহস্যময় আবহকে আরও গভীর করেছে।
সঞ্জয় দত্তের চরিত্র নিয়েও দর্শকদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ রয়েছে। দীর্ঘদিন পর তাঁকে এমন তীব্র এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে দেখতে পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন অনুরাগীরা।
আগামী ১৫ মে ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে ‘আখিরি সওয়াল’। মুক্তির আগেই ছবিটি যে বছরের অন্যতম আলোচিত চলচ্চিত্র হয়ে উঠেছে, তা বলাই যায়।
‘আখিরি সওয়াল’ এখন শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং বিতর্ক, ইতিহাস এবং আবেগকে ঘিরে তৈরি এক বড় আলোচনার কেন্দ্র। কলকাতায় ছবির বিশেষ প্রচার অনুষ্ঠান সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে চলেছে।
সঞ্জয় দত্ত, মিঠুন চক্রবর্তী এবং ছবির অন্যান্য তারকাদের উপস্থিতিতে ১৪ মে-র অনুষ্ঠান যে শহরের সিনেমাপ্রেমীদের কাছে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। এখন দর্শকদের অপেক্ষা শুধু ছবির মুক্তির।






