কিছু গল্প শুধু বলা যায় না, অনুভব করতে হয়। তারাপীঠের পবিত্র মাটি, সাধনা, ভক্তি এবং এক সন্তানের মতো মায়ের প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আবহে এবার বড় পর্দায় আসছে SVF-এর ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’। কৌশিকী অমাবস্যার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পেল বহু প্রতীক্ষিত ছবিটির টিজার।
টিজারে উঠে এসেছে বামাচরণের সেই আধ্যাত্মিক জগতের প্রথম ঝলক, যেখানে প্রথাগত আচার বা যুক্তির সীমা পেরিয়ে ভক্তিই হয়ে ওঠে জীবনের একমাত্র সত্য। মা তারার প্রতি বামার সম্পর্ক এখানে শুধুই উপাসনা নয়—এ যেন এক সন্তানের সঙ্গে তার মায়ের চিরন্তন সম্পর্ক।
তারাপীঠের রহস্যময় পরিবেশ, শ্মশানসাধনার আবহ এবং বামাক্ষ্যাপার গভীর ঈশ্বরানুসন্ধান টিজারে তৈরি করেছে এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ। বিশ্বাস, তপস্যা, ভালোবাসা এবং আত্মসমর্পণের এই কাহিনি বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
কালীপুজো ২০২৬-এ মুক্তি পেতে চলেছে ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’। ছবিতে ফের বামাক্ষ্যাপার আইকনিক চরিত্রে দেখা যাবে সব্যসাচী চৌধুরীকে। অভিনয়ের পাশাপাশি ছবিটির Writer এবং Creative Director হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন তিনি।
কৌশিকী অমাবস্যায় প্রকাশ পেল ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’-র টিজার

কৌশিকী অমাবস্যা বাঙালির ধর্মীয় সংস্কৃতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি তিথি। সেই পবিত্র দিনেই ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’-র টিজার প্রকাশ পাওয়ায় ছবিটির বিষয়বস্তুর সঙ্গে মুহূর্তটির সংযোগ আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
টিজারে বামার চরিত্রকে দেখা যায় এক গভীর আত্মিক অনুসন্ধানের মধ্যে। তাঁর কাছে মা তারা কোনও দূরের দেবী নন; বরং তাঁর অস্তিত্বের প্রতিটি মুহূর্তে মিশে থাকা এক জীবন্ত উপস্থিতি।
তারাপীঠের পটভূমি এই গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। মন্দির, সাধনক্ষেত্র এবং রহস্যময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে ছবিটি তুলে ধরতে চলেছে বামাক্ষ্যাপার আধ্যাত্মিক যাত্রার এক আবেগঘন অধ্যায়।
এই গল্পে ভক্তির সংজ্ঞাও যেন প্রচলিত ধারণার চেয়ে আলাদা। এখানে মন্ত্র, আচার কিংবা নিয়মের পাশাপাশি সামনে আসে এক সরল অথচ গভীর সম্পর্ক—যেখানে ভক্ত নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিজের আরাধ্যের কাছে সমর্পণ করে।
বামাচরণের চরিত্রে ফের সব্যসাচী চৌধুরী

বামাক্ষ্যাপার মতো ঐতিহাসিক এবং আধ্যাত্মিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চরিত্রেই আবার ফিরছেন সব্যসাচী চৌধুরী। এর আগে বামাক্ষ্যাপার চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল।
তবে ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ শুধুমাত্র একটি চরিত্রের পুনরাবির্ভাব নয়। ছবিটি একইসঙ্গে বামাচরণের জীবন, সাধনা এবং মা তারার প্রতি তাঁর অটুট ভক্তিকে নতুন আঙ্গিকে বড় পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি ছবিটির Writer এবং Creative Director হিসেবে সব্যসাচীর ভূমিকা গল্পটির নির্মাণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বামাক্ষ্যাপার চরিত্র ও তাঁর আধ্যাত্মিক জগতের সঙ্গে তাঁর সৃজনশীল সংযোগ আরও গভীর হয়েছে।
ছবিতে মা তারার চরিত্রে পায়েল দে এবং সর্বানন্দের চরিত্রে সাহেব চট্টোপাধ্যায় অভিনয় করছেন। তাঁদের উপস্থিতি গল্পের আধ্যাত্মিক এবং মানবিক পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেই প্রত্যাশা।
তারাপীঠের মাটি থেকে কালীপুজোর বড় পর্দায়
‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’-র গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে তারাপীঠ—বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তিপীঠ এবং মা তারার সাধনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত এক পবিত্র ভূমি। এই পটভূমিতেই বামাক্ষ্যাপার সাধনজীবনের আবেগ ও আধ্যাত্মিকতা নতুন করে পর্দায় ধরা দিতে চলেছে।
পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সায়ন্তন ঘোষাল। ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। ফলে গল্পের আবহ, দৃশ্যনির্মাণ এবং সঙ্গীত—সব মিলিয়ে একটি নিবিড় আধ্যাত্মিক সিনেমাটিক অভিজ্ঞতার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
বামাক্ষ্যাপার কাহিনি বাঙালির লোকবিশ্বাস, ধর্মীয় সংস্কৃতি এবং তারাপীঠের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর ভক্তির মধ্যে ছিল সামাজিক নিয়মের বাইরে থাকা এক সহজাত উন্মাদনা, যা তাঁকে ‘বামাক্ষ্যাপা’ নামে কিংবদন্তির মর্যাদা দিয়েছে।
‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ সেই কিংবদন্তিকে শুধুমাত্র ধর্মীয় গল্প হিসেবে দেখবে না—বরং বামা ও মা তারার সম্পর্কের মানবিক আবেগকেও সামনে আনতে চলেছে। একজন সাধকের কাছে তাঁর ঈশ্বর কীভাবে মা হয়ে ওঠেন, সেই অনুভূতিই ছবিটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
কালীপুজো ২০২৬-এ আসছে ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’
কৌশিকী অমাবস্যায় টিজার প্রকাশের পর এবার নজর কালীপুজোর দিকে। কালীপুজো ২০২৬-এ মুক্তি পাবে ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’, যেখানে দর্শক ফিরে যাবেন বামার সেই জগতে—যেখানে সাধনা, ভক্তি এবং আত্মসমর্পণ একাকার হয়ে যায়।
মা তারাকে ঘিরে বামাক্ষ্যাপার যে চিরন্তন ভক্তি বাংলার মানুষের কল্পনা ও বিশ্বাসে আজও জীবন্ত, বড় পর্দায় তার সেই রূপ কতটা নতুনভাবে ধরা পড়ে, সেটাই এখন দেখার।
কিছু গল্প ইতিহাসের পাতায় থেকে যায়। আবার কিছু গল্প প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের বিশ্বাসে বেঁচে থাকে। বামা ও মা তারার গল্প তেমনই এক গল্প—যার কেন্দ্রে রয়েছে এক ভক্তের একমাত্র সত্য: তাঁর মা।






