২০২৫ সালের সরকারি চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে জোরালো হল স্বচ্ছতার দাবি। কলকাতা হাই কোর্ট এক কঠোর নির্দেশে জানিয়ে দিয়েছে—এসএসসি-কে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নিয়োগপ্রার্থীদের ওএমআর শিট প্রকাশ করতে হবে। আদালতের স্পষ্ট মত, স্বচ্ছতা না থাকলে নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ভেঙে পড়বে।
সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম আলোচিত ইস্যু হল শিক্ষক ও অন্যান্য গ্রুপের নিয়োগপদ্ধতি। অতীতের অনিয়ম, মামলার জট, ফলপ্রকাশে বিলম্ব—সব মিলিয়ে চাকরি প্রত্যাশীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাই এ বার আদালত আগেভাগেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে যাতে ২০২৫ সালের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।
এসএসসি ইতিমধ্যে কিছু নথি প্রকাশ করলেও আবেদনকারীদের দাবি, সমস্ত ওএমআর শিট, কাট-অফ, মার্কিং প্যাটার্ন ও মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রকাশ করতেই হবে। আদালত এই দাবির সঙ্গে সহমত হয়েছে। আদালতের ভাষায়, “যে পরীক্ষা–প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে, সেখানে গোপনীয়তা নয়, স্বচ্ছতা-ই মূল শর্ত।”
এ নির্দেশের পর চাকরি–প্রত্যাশী মহলে আবারও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে—এসএসসি কি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সব নথি প্রকাশ করতে পারবে? নাকি আবারও পুরনো বিতর্কের পুনরাবৃত্তি হবে?
ওএমআর প্রকাশে আদালতের কঠোর অবস্থান

হাই কোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নিয়োগ পরীক্ষাগুলির ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রার্থীর ওএমআর স্ক্যান কপি, প্রশ্নপত্র এবং অফিসিয়াল উত্তরপত্র নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি, মূল্যায়নের অ্যালগরিদম, নর্মালাইজেশন পদ্ধতি এবং কাট-অফের ভিত্তিও জনসমক্ষে আনতে হবে।
আইনজীবী মহলের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা কমাতে সাহায্য করবে। কারণ প্রার্থীরা ফল প্রকাশের পরই নিজেদের স্কোরের উৎস বুঝতে পারবেন এবং সন্দেহ কমবে।
চাকরি–প্রত্যাশীদের মতে, এটি দীর্ঘদিনের দাবি, যা তারা বহু আন্দোলনে তুলে ধরেছিলেন। অবশেষে আদালত সেই কথাই বলল—নিয়োগ স্বচ্ছ হওয়া চাই, নাহলে যে কোনও স্কোর শিট প্রশ্নের মুখে পড়বে।
এসএসসি-এর যুক্তি ও সীমাবদ্ধতা

এসএসসি-র দাবি, এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর ওএমআর শিট প্রকাশ একটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি পরীক্ষায় কয়েক লক্ষ প্রার্থী অংশ নেন। সেই সমস্ত কাগজপত্র ডিজিটাইজ করা, সিকিউর সার্ভারে আপলোড করা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা—সব মিলিয়ে সময় লাগে।
এ ছাড়াও, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পুনর্মূল্যায়ন, আপত্তি গ্রহণ, চূড়ান্ত উত্তরপত্র প্রকাশ—সবটাই নির্দিষ্ট ধাপে হয়। ফলে ওএমআর প্রকাশে বিলম্ব ঘটাই স্বাভাবিক বলে তাদের দাবি।
তবুও আদালতের নির্দেশ মানতে এসএসসি প্রস্তুত। সূত্রের খবর, নতুন সার্ভার, আপডেটেড সফটওয়্যার এবং আলাদা ভেরিফিকেশন টিম নিয়োগ করা হচ্ছে যাতে সময়সীমা লঙ্ঘন না হয়।
নতুন নিয়োগ–স্বচ্ছতা নীতি ও প্রার্থীদের প্রত্যাশা

২০২৫ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রশাসনও নতুন নীতি তৈরি করছে। মূল লক্ষ্য—গোপনীয়তা কমানো, পরীক্ষা–প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছ স্তরে নিয়ে যাওয়া।
চাকরি–প্রত্যাশীরা চাইছেন—
- পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ অনলাইন ট্র্যাকিং সিস্টেমে রাখতে
- প্রতিটি আপডেট এসএমএস বা মেইলে জানানো
- মার্কিং, নর্মালাইজেশন ও কাট-অফ জবাবদিহিমূলক করা
অনেকে আবার মনে করছেন, অতীতের ভুল না সংশোধন করলে শুধু ওএমআর প্রকাশ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ভুল হলে তা দ্রুত সমাধানের জন্য আলাদা গ্রিভান্স সেল প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাকরিক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ফলে নিয়োগপদ্ধতি যত স্বচ্ছ হবে, ততই আস্থা বাড়বে। আদালতের নির্দেশ তাই ভবিষ্যতের অফিশিয়াল পরীক্ষাগুলির নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে।
২০২৫ সালের নিয়োগপর্ব নিয়ে রাজ্যে হতাশা ও আশা—দু’টিই সমান তালে চলছে। হাই কোর্টের কঠোর নির্দেশ স্পষ্ট করেছে যে নিয়োগব্যবস্থা আর আগের মতো অস্বচ্ছ হতে পারে না। এসএসসি-র ওপর চাপ বাড়লেও প্রার্থীদের আস্থাই এখানে মুখ্য।
আগামী কয়েক সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের সময়সীমা মেনেই যদি ওএমআর প্রকাশ হয়, তবে নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার নতুন অধ্যায় শুরু হবে। আর যদি পুরনো ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়, তবে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
চাকরির বাজারে ন্যায়, নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা—২০২৫ সালের নিয়োগপ্রক্রিয়া এই তিনটি মানদণ্ডেই বিচার হবে। হাই কোর্টের নির্দেশ তার প্রথম ধাপ।






