উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (WPL) ২০২৫-এ আরেকটি দাপুটে পারফরম্যান্স উপহার দিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। গুজরাট জায়ান্টসের বিরুদ্ধে সাত উইকেটের জয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছিল হারমানপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন দল। দুই ‘কৌর’—হারমানপ্রীত ও আমনজোত—এবং ক্যারি কেরির সংযত ইনিংস ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ব্যাট ও বল—দু’দিকেই পরিকল্পিত ক্রিকেট খেলেছে মুম্বই। শুরুতে গুজরাটের টপ অর্ডারকে চাপে রেখে মাঝের ওভারগুলোতে রানের গতি কমানো, তারপর লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঝুঁকি না বাড়িয়ে ম্যাচ ফিনিশ—এই সমীকরণেই জয় নিশ্চিত করে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ফ্র্যাঞ্চাইজি।
WPL-এর মতো ছোট ফরম্যাটে অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এ ম্যাচে তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। হারমানপ্রীতের কুল হেডেড নেতৃত্ব, আমনজোতের অলরাউন্ড অবদান এবং ক্যারি কেরির পরিণত ব্যাটিং—সব মিলিয়ে গুজরাটের লড়াই শেষ পর্যন্ত টেকেনি।
গুজরাট জায়ান্টসের ইনিংস: পরিকল্পিত বোলিংয়ে চাপে পড়া ব্যাটিং

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গুজরাট জায়ান্টস আশানুরূপ শুরু পায়নি। পাওয়ারপ্লেতেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় চাপ তৈরি হয়। মুম্বইয়ের পেসাররা নতুন বলে সঠিক লাইন-লেংথ বজায় রেখে ব্যাটারদের খোলস ছাড়তে দেননি।
মাঝের ওভারগুলোতে গুজরাটের ব্যাটাররা ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও বড় শটের অভাব স্পষ্ট ছিল। স্ট্রাইক রোটেশনে মনোযোগ থাকলেও বাউন্ডারি আসেনি ধারাবাহিকভাবে। ফলে স্কোরবোর্ডে চাপ বাড়তে থাকে।
ডেথ ওভারে কিছুটা গতি বাড়ানোর চেষ্টা হলেও মুম্বইয়ের বোলিং রোটেশন ছিল নিখুঁত। স্লোয়ার বল ও ইয়র্কারের মিশ্রণে শেষ ওভারগুলোতে বড় রান তুলতে ব্যর্থ হয় গুজরাট। নির্ধারিত ওভার শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় মাঝারি মানের—যা এই পিচে তাড়া করা সম্ভব বলেই মনে হচ্ছিল।
দুই কৌর ও ক্যারি কেরির ম্যাচ-নিয়ন্ত্রণ


লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা সতর্ক রাখে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ওপেনিং জুটির ভাঙনের পরও প্যানিক করেনি দল। বরং উইকেটে সেট হওয়ার সময় নিয়ে ম্যাচের গতি নিজেদের মতো করে সাজিয়েছে।
হারমানপ্রীত কৌর বরাবরের মতোই সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। বড় শটের পাশাপাশি সিঙ্গল-ডাবলে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন তিনি। তাঁর ইনিংস ছিল ক্লাসিক T20 অ্যাঙ্করের মতো—চাপ শুষে নেওয়া, তারপর সুযোগ পেলেই আক্রমণ।
অন্যদিকে আমনজোত কৌর পরিস্থিতি বুঝে খেলেন পরিণত ইনিংস। মাঝের ওভারগুলোতে ঝুঁকি না নিয়ে তিনি হারমানপ্রীতের সঙ্গে জুটি গড়ে তোলেন। এই পার্টনারশিপই কার্যত ম্যাচের ভিত শক্ত করে দেয়।
শেষদিকে ক্যারি কেরি নামার পর কাজটা আরও সহজ হয়ে যায়। অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা না করে বাউন্ডারি বেছে নেওয়া, রান রেট নিয়ন্ত্রণে রাখা—সব মিলিয়ে তাঁর সংক্ষিপ্ত কিন্তু কার্যকর ইনিংস ম্যাচ দ্রুত মুম্বইয়ের দিকে টেনে আনে।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের গভীরতা ও টুর্নামেন্টের ইঙ্গিত

এই জয় শুধু দুই পয়েন্টের নয়, টুর্নামেন্টের বাকি দলগুলোর জন্য একপ্রকার বার্তাও। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের স্কোয়াড ডেপথ, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও ম্যাচ-ম্যানেজমেন্ট ক্ষমতা তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
WPL-এর লিগ পর্যায় যত এগোবে, ততই চাপ বাড়বে। সেই চাপ সামলানোর মতো মানসিক দৃঢ়তা মুম্বইয়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে স্পষ্ট। বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য, ব্যাটিংয়ে গভীরতা—সব মিলিয়ে তারা আবারও শিরোপার দাবিদার হিসেবে নিজেদের জায়গা পাকা করল।
গুজরাট জায়ান্টসের জন্য এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। শুরুতে উইকেট ধরে রেখে শেষে আক্রমণের কৌশল আরও পরিষ্কার না হলে শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, WPL ২০২৫-এ মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বনাম গুজরাট জায়ান্টস ম্যাচটি ছিল অভিজ্ঞতা বনাম সম্ভাবনার স্পষ্ট উদাহরণ। দুই কৌর ও ক্যারি কেরির ম্যাচ-বুদ্ধি গুজরাটকে ধীরে ধীরে ম্যাচের বাইরে ঠেলে দেয়। সাত উইকেটের জয় মুম্বইয়ের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াল, আর টুর্নামেন্টে তাদের শিরোপা অভিযানের বার্তাও পরিষ্কার করে দিল।






