ডিসেম্বরের শেষলগ্নে এসে বাংলায় শীত যেন হঠাৎ করেই নিজের উপস্থিতি জোরালো করে জানিয়ে দিল। বুধবার সকাল থেকেই কলকাতা ও আশপাশের জেলাগুলিতে পারদের পতন চোখে পড়ার মতো। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, এদিনই চলতি মরশুমের শীতলতম দিন হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারে।
ভোরের দিকে ঘন কুয়াশা, উত্তুরে হাওয়ার দাপট এবং মেঘমুক্ত আকাশ—সব মিলিয়ে শীতের আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়ারা, সকলেই যেন শীতের কামড়ে কিছুটা কাবু।
শুধু কলকাতা নয়, পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও তাপমাত্রা দ্রুত নামছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষশেষে ঠান্ডার দাপট আরও বাড়তে পারে। নতুন বছরের শুরুতেও কি এই ঠান্ডা বজায় থাকবে? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
আবহাওয়ার এই বদলের পিছনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ। মৌসুমি বাতাসের গতি থেকে শুরু করে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব—সব কিছুরই সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজ্যের তাপমাত্রায়।
🌡️ আজকের আবহাওয়া: কেন এত ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে?


আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বইতে থাকা শুষ্ক ও ঠান্ডা হাওয়াই এই তাপমাত্রা পতনের প্রধান কারণ। হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় তুষারপাত বাড়ায় সেই ঠান্ডা হাওয়া সরাসরি নেমে আসছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে।
কলকাতায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে প্রায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি, যা স্বাভাবিকের থেকে বেশ কিছুটা কম। শহরের উপকণ্ঠ ও গ্রামাঞ্চলে পারদ আরও নিচে নামার খবর মিলেছে।
শীতের সকালের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হল কুয়াশা। ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা অনেক জায়গায় কমে গিয়েছিল। এর ফলে রাস্তায় যান চলাচলে কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়, বিশেষ করে হাইওয়ে ও রেলপথে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, দিনের বেলায় রোদ থাকলেও উত্তুরে হাওয়ার জন্য ঠান্ডা অনুভূতি বজায় থাকবে। সন্ধ্যার পর আবারও তাপমাত্রা দ্রুত কমবে।
❄️ দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে পারদের ওঠানামা


দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই শীত এখন স্পষ্ট। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে রাতের তাপমাত্রা দ্রুত নামছে। গ্রামাঞ্চলে ভোরের দিকে কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও কঠোর। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে পারদ এক অঙ্কের ঘরে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় কুয়াশা ও ঠান্ডা হাওয়ার দাপট সবচেয়ে বেশি।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২–৩ দিন এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে। উত্তরবঙ্গে রাতের তাপমাত্রা আরও ২–৩ ডিগ্রি পর্যন্ত কমতে পারে। দক্ষিণবঙ্গেও ধীরে ধীরে ঠান্ডা আরও বাড়বে।
চাষিদের জন্য এই আবহাওয়া যেমন কিছু ক্ষেত্রে উপকারী, তেমনই কুয়াশার কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে আলু ও শীতকালীন সবজির জমিতে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
🧣 বর্ষশেষ ও নববর্ষে কেমন থাকবে আবহাওয়া?


সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বর্ষশেষে তাপমাত্রা কতটা নামতে পারে? আবহাওয়া দপ্তরের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি দক্ষিণবঙ্গে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০–১১ ডিগ্রির আশপাশে থাকতে পারে।
কলকাতায় নববর্ষের সকালে ঠান্ডা হাওয়া ও হালকা কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই, ফলে শীতের শুষ্ক আমেজই বজায় থাকবে।
উত্তরবঙ্গে বর্ষশেষে ঠান্ডা আরও তীব্র হতে পারে। পাহাড়ি এলাকাগুলিতে পর্যটকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। পর্যাপ্ত গরম পোশাক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই শীতের দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। তার পর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের দিকে ফিরতে শুরু করবে।
মরশুমের শীতলতম দিনে দাঁড়িয়ে এখন স্পষ্ট—এবারের শীত নিজের শক্তি দেখাচ্ছে। উত্তুরে হাওয়া, কুয়াশা আর কমতে থাকা তাপমাত্রা মিলিয়ে বাংলার আবহাওয়া পুরোপুরি শীতের মেজাজে। বর্ষশেষ ও নববর্ষে ঠান্ডার আমেজ আরও বাড়বে বলেই পূর্বাভাস। তাই স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন চলাফেরায় সতর্ক থাকাই এখন সবচেয়ে জরুরি।






