কলকাতার দ্রুত বর্ধনশীল কুইক সার্ভিস রেস্টুরেন্ট (QSR) বাজারে বড়সড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চেন্নাই-ভিত্তিক বিকল্প সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থা Vivriti Asset Management শহরের এক উদীয়মান QSR চেইনের সঙ্গে প্রাথমিক বিনিয়োগ আলোচনা শুরু করেছে। এই পদক্ষেপ রাজ্যের ফুড রিটেল ও সংগঠিত রেস্তোরাঁ খাতে নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা।
গত কয়েক বছরে কলকাতায় QSR সেগমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তরুণ প্রজন্মের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের বিস্তার এবং ব্র্যান্ডেড ফুড চেইনের প্রতি ঝোঁক—সব মিলিয়ে এই খাত এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয়।
Vivriti Asset Management সাধারণত মধ্য ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে বিকল্প ঋণ ও বিনিয়োগ কাঠামোর মাধ্যমে পুঁজি জোগায়। কলকাতার QSR চেইনের সঙ্গে তাদের আলোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, আঞ্চলিক ব্র্যান্ডগুলোকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে নতুন ফান্ডিং মডেল কার্যকর হতে পারে।
শিল্পমহলের মতে, এই সম্ভাব্য চুক্তি সফল হলে কলকাতা কেবল সাংস্কৃতিক রাজধানী নয়, সংগঠিত খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রেও একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসতে পারে।
কলকাতার QSR বাজারে নতুন পুঁজি, কী বলছে শিল্পমহল?

কলকাতায় গত পাঁচ বছরে সংগঠিত QSR চেইনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয় ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে জাতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি—সবাই শহরের সম্ভাবনাময় বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ব্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে বড় বিনিয়োগ সংস্থার আগ্রহ বাজারের আস্থাকেই আরও মজবুত করছে।
Vivriti Asset Management সাধারণত এমন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে, যেখানে স্কেল-আপের সুযোগ স্পষ্ট। কলকাতার সংশ্লিষ্ট QSR চেইন ইতিমধ্যেই শহরের একাধিক প্রিমিয়াম লোকেশনে উপস্থিত। তাদের লক্ষ্য আগামী দুই থেকে তিন বছরে পূর্ব ভারতের অন্যান্য শহরেও সম্প্রসারণ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, QSR সেক্টরে মার্জিন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং ভলিউম-ড্রিভেন গ্রোথ মডেল বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে। সঠিক সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, ব্র্যান্ডিং এবং প্রযুক্তি-সমর্থিত অর্ডার সিস্টেম থাকলে দ্রুত রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।
কলকাতার মতো শহরে যেখানে খাদ্য সংস্কৃতি গভীরভাবে প্রোথিত, সেখানে স্থানীয় স্বাদের সঙ্গে আধুনিক প্রেজেন্টেশনের মেলবন্ধন ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রাইভেট ইকুইটি ও অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের নজর পড়া অস্বাভাবিক নয়।
Vivriti Asset Management-এর কৌশল ও বিনিয়োগ মডেল

Vivriti Asset Management মূলত ক্রেডিট-ফোকাসড অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজির জন্য পরিচিত। তারা ঐতিহ্যগত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে মাঝারি ও উদীয়মান সংস্থাগুলিকে কাঠামোবদ্ধ ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করে।
কলকাতার QSR চেইনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য চুক্তিটি ইকুইটি ও ডেট—দুইয়ের সংমিশ্রণে হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এতে ব্যবসার ক্যাশ ফ্লো স্থিতিশীল রাখা এবং সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় পুঁজি নিশ্চিত করা—দুই লক্ষ্যই পূরণ করা সম্ভব।
বর্তমানে ভারতের সংগঠিত ফুড সার্ভিস মার্কেট দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। টিয়ার-টু ও টিয়ার-থ্রি শহরেও QSR ব্র্যান্ডের চাহিদা বাড়ছে। Vivriti-র মতো সংস্থা যদি আঞ্চলিক ব্র্যান্ডকে প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজি দেয়, তবে তারা জাতীয় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো শক্তি পাবে।
এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর অর্ডারিং সিস্টেম, ডেটা অ্যানালিটিক্স ও সাপ্লাই চেইন অপ্টিমাইজেশন—এসব ক্ষেত্রেও বিনিয়োগের অংশ বরাদ্দ হতে পারে। ফলে শুধু আউটলেট বাড়ানো নয়, অপারেশনাল দক্ষতাও বাড়বে।
পূর্ব ভারতের ফুড রিটেল খাতে সম্ভাবনার দিগন্ত

পূর্ব ভারতে সংগঠিত ফুড রিটেল এখনও পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের তুলনায় তুলনামূলকভাবে অনুন্নত। তবে নগরায়ণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং তরুণ কর্মজীবী জনগোষ্ঠীর প্রসার এই বাজারকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে।
কলকাতা, ভুবনেশ্বর, গুয়াহাটি—এই শহরগুলোতে আধুনিক ফুড কোর্ট ও ক্লাউড কিচেন মডেল জনপ্রিয় হচ্ছে। অনলাইন ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন সহজেই ব্র্যান্ডেড খাবার পাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে Vivriti Asset Management-এর মতো বিনিয়োগকারী যদি স্থানীয় QSR চেইনে পুঁজি ঢালে, তবে পূর্ব ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরবরাহ শৃঙ্খলার উন্নতি এবং স্থানীয় কৃষিপণ্যের ব্যবহারও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আঞ্চলিক ব্র্যান্ড যদি গুণগত মান বজায় রেখে সঠিক স্কেলিং কৌশল গ্রহণ করে, তবে তারা জাতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজির বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। কলকাতার QSR চেইনের এই সম্ভাব্য বিনিয়োগ আলোচনা সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।
Vivriti Asset Management ও কলকাতার QSR চেইনের মধ্যে চলা বিনিয়োগ আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে—পূর্ব ভারতের ফুড রিটেল বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজির প্রবাহ বাড়ছে।
যদি চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি কেবল একটি সংস্থার সম্প্রসারণ নয়; বরং কলকাতার সংগঠিত খাদ্য ব্যবসার পরবর্তী অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও স্থানীয় স্বাদের সমন্বয়ে শহরের QSR ইকোসিস্টেম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।






