বাংলা অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার এক অবিস্মরণীয় নাম—কাকাবাবু। বহু প্রজন্ম ধরে যাঁর সঙ্গে বড় হয়েছে পাঠক ও দর্শক, সেই কিংবদন্তি চরিত্র আবার ফিরছে বড়পর্দায়। সদ্য প্রকাশিত Vijaynagar’er Hirey-এর টিজার স্পষ্ট করে দিল—এবারের যাত্রা শুধু রোমাঞ্চকর নয়, রহস্যে আরও গভীর, বিপদে আরও তীক্ষ্ণ।
এর আগে Mishawr Rawhoshyo (2013), Yeti Obhijaan (2017) এবং Kakababur Protyaborton (2022)—প্রতিটি অধ্যায়েই কাকাবাবু প্রমাণ করেছেন কেন তিনি বাংলা সিনেমার সবচেয়ে আইকনিক অভিযাত্রী। প্রতিবার নতুন ভূগোল, নতুন সংকেত, নতুন শত্রু—আর সেই সঙ্গে বুদ্ধি, সাহস ও সূক্ষ্ম রসবোধ। নতুন টিজার দেখে বোঝা যাচ্ছে, সেই স্বাক্ষরশৈলী অক্ষুণ্ণ রেখেই এবার আরও বড় ক্যানভাসে গল্প বলার প্রস্তুতি।
চন্দ্রশীশ রায়ের পরিচালনায়, Vijaynagar’er Hirey অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিতে কাকাবাবু পাড়ি দিচ্ছেন ভারতের ঐতিহাসিক ও রহস্যময় অঞ্চল Hampi-তে। লক্ষ্য—একটি পৌরাণিক হীরে, যার উজ্জ্বলতা নাকি কোহিনূরের থেকেও বেশি। প্রশ্ন একটাই—এই হীরের রহস্য কী, আর কেন কেউ কাকাবাবুর জীবন নিয়ে খেলছে?
টিজারে রহস্যের প্রথম ইশারা: কাকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
টিজারের প্রথম দিকের ফ্রেমগুলোতেই স্পষ্ট—এই অভিযান সহজ নয়। পরিচিত কাকাবাবু, যিনি বিপদের মুখে দাঁড়িয়েও ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি বিচার করেন, এবারও সেই রূপেই ধরা দিয়েছেন। টিজারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তে তাঁকে “living legend” বলা হলে কাকাবাবুর তির্যক মন্তব্য—এই রসবোধই চরিত্রটিকে বাস্তব ও মানবিক করে তোলে।
কাকাবাবুর চরিত্রে আবারও Prosenjit Chatterjee। তাঁর অভিনয়ে অভিজ্ঞতার ভার ও চরিত্রের আত্মবিশ্বাস মিলেমিশে যায় অনায়াসে। টিজারের সংলাপ ও অভিব্যক্তিতে বোঝা যায়, এই অভিযানে তিনি শুধু রহস্য ভেদ করতে আসেননি—বরং নিজের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন।
চিত্রনাট্যের ইঙ্গিত অনুযায়ী, এখানে শত্রু শুধু বাইরে নয়। ইতিহাস, লোককথা আর আধুনিক ষড়যন্ত্র—সব মিলিয়ে এক জটিল গোলকধাঁধা। কাকাবাবুর জীবন নিয়ে কেউ “খেলা” করছে—এই বাক্যটিই টিজারের কেন্দ্রীয় সুর হয়ে ওঠে।
শন্তু ও জোজো: অভিযানের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী

কাকাবাবুর অভিযানে শন্তু মানেই নির্ভরযোগ্য বুদ্ধিমত্তা ও পর্যবেক্ষণক্ষমতা। Aryann Bhowmik অভিনীত শন্তু টিজারে ধরা দেয় শান্ত অথচ দৃঢ় এক সহচর হিসেবে। সংকেত বিশ্লেষণ, তথ্য জোগাড়—এই সবকিছুতেই শন্তুর ভূমিকা অপরিহার্য।
অন্যদিকে, জোজো চরিত্রে Pushan Dasgupta যোগ করেন নতুন মাত্রা। টিজারে তাঁর উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয়—এই অভিযানে শুধু বুদ্ধি নয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত আর সাহসিকতাও সমান জরুরি। তিনজনের রসায়নই গল্পের গতি নির্ধারণ করবে।
এই ত্রয়ীর যাত্রাপথে যুক্ত হন নতুন চরিত্ররা—সত্যম ভট্টাচার্য ও শ্রেয়া ভট্টাচার্য। তাঁদের স্বাগত দৃশ্য থেকেই বোঝা যায়, হামপির প্রতিটি অলিগলি রহস্যে ভরা। বিশ্বাসযোগ্যতা আর সন্দেহ—দুটোই পাশাপাশি হাঁটে।
হাম্পির ঐতিহ্য ও কিংবদন্তি হীরে: গল্পের কেন্দ্রে ইতিহাস


হাম্পি—একসময়ের বিজয়নগর সাম্রাজ্যের গৌরবময় রাজধানী। আজও যার ধ্বংসাবশেষে লুকিয়ে ইতিহাসের অসংখ্য প্রশ্ন। এই পটভূমিতেই বসানো হয়েছে Vijaynagar’er Hirey-এর মূল রহস্য। একটি পৌরাণিক হীরে, যার কথা লোককথায় ঘোরে—সে কি সত্যিই আছে, নাকি এটি ক্ষমতার লোভে তৈরি করা আরেকটি মিথ?
সূর্যাস্তের আলো, পাথরের স্তম্ভ, প্রাচীন মন্দির—এই সবকিছু মিলিয়ে ছবির ভিজ্যুয়াল টোন টিজারেই আলাদা হয়ে ওঠে। এখানে অ্যাডভেঞ্চার মানে শুধু দৌড়ঝাঁপ নয়; ইতিহাসকে বোঝা, সংকেত পড়া, এবং ভুল সিদ্ধান্তের মূল্য চোকানো।
পরিচালক Chandrasish Ray-এর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট—গল্পকে শুধু রোমাঞ্চে আটকে না রেখে, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্তরেও সমৃদ্ধ করা। আর এর নেপথ্যে রয়েছেন সাহিত্যিক Sunil Gangopadhyay—যাঁর কল্পনায় কাকাবাবু মানেই বুদ্ধিদীপ্ত অ্যাডভেঞ্চার।
Vijaynagar’er Hirey-এর টিজার একটাই বার্তা দেয়—কাকাবাবু ফিরেছেন, আর তাঁর সঙ্গে ফিরেছে সেই পুরনো উত্তেজনা, নতুন রহস্যের মোড়কে। অভিজ্ঞ অভিনয়, শক্তিশালী লোকেশন, আর ইতিহাসনির্ভর চিত্রনাট্য—সব মিলিয়ে এই ছবি ২০২৬-এর অন্যতম প্রতীক্ষিত বাংলা মুক্তি।
SVF Entertainment ও Nideas Productions-এর যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবি মুক্তি পাবে ২৩ জানুয়ারি ২০২৬। কাকাবাবু কীভাবে এই রহস্য ভেদ করবেন—তার উত্তর পেতে অপেক্ষা করতেই হবে প্রেক্ষাগৃহে।






