সঞ্জয় লীলা বনশালির পরবর্তী মহাকাব্যিক ছবি Love & War নিয়ে প্রত্যাশা ক্রমশই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে। কারণ একটাই— এই প্রথমবার বড়পর্দায় একসঙ্গে আসছেন রণবীর কাপুর, আলিয়া ভাট এবং ভিকি কৌশল। ত্রয়ীর এই অনন্য সংযোজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বনশালির নিজস্ব সিনেম্যাটিক স্কেল, আবেগঘন গল্প বলা এবং চরিত্র নির্মাণের নিখুঁততা।
এই প্রতীক্ষার মাঝেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ভিকি কৌশল। THR India Actors Roundtable-এ দেওয়া সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি প্রকাশ করেছেন সঞ্জয় লীলা বনশালির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা— যা শুধুই একজন পরিচালকের সঙ্গে কাজ নয়, বরং এক গভীর শিল্পীসত্তার পাঠশালায় প্রবেশের মতো।
ভিকির কথায়, বনশালির সঙ্গে কাজ করার সবচেয়ে বড় স্বস্তি হল— তিনি নিজের শিল্পে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকা একজন নির্মাতা। অভিনেতাকে শুধু অভিনয় করতে বলেন না, বরং চরিত্রের ভেতরের সম্ভাবনাগুলো অন্বেষণ করতে বাধ্য করেন। এই প্রক্রিয়া যেমন আনন্দের, তেমনই চ্যালেঞ্জিং।
Love & War তাই শুধু আরেকটি বড় বাজেটের ছবি নয়। এটি অভিনেতাদের জন্য এক আবেগী যাত্রা, যেখানে প্রতিটি দৃশ্য, প্রতিটি অনুভূতি নতুন করে আবিষ্কৃত হয়। ভিকি কৌশলের বক্তব্য সেই সৃষ্টিশীল যাত্রারই এক অন্তরঙ্গ জানালা খুলে দেয়।
সঞ্জয় লীলা বনশালির পরিচালনায় অভিনয়ের স্বাধীনতা

ভিকি কৌশল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বনশালির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে অভিনেতা হিসেবে আরও শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। “আমি এত কিছু শিখছি,”— বলেই থামেননি তিনি। তাঁর মতে, এমন একজন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করা যিনি চরিত্র এবং দৃশ্যের উপর সম্পূর্ণ দখল রাখেন, অভিনেতাকে অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করে।
ভিকির ভাষায়, “আমি অনেক বেশি রিল্যাক্সড হয়ে সেটে যাই। চরিত্র নিয়ে আমার ভাবনাকে পাথরের মতো শক্ত করে ধরতে হয় না।” এই স্বাধীনতাই অভিনেতাকে মুহূর্তের মধ্যে আবিষ্কারের সুযোগ দেয়। প্রস্তুতি অবশ্যই থাকে, কিন্তু সেই প্রস্তুতির সঙ্গে থাকে খোলা মন।
বনশালির পরিচালনায় দৃশ্য কখনোই স্থির থাকে না। প্রতিটি দৃশ্য যেন একাধিক সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়। ভিকির মতে, পরিচালক হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই— তিনি অভিনেতাকে সেই সম্ভাবনাগুলো অনুভব করতে বাধ্য করেন, কেবল নির্দেশ দিয়ে নয়, অনুভূতির গভীরে নিয়ে গিয়ে।
এই পদ্ধতি অভিনেতাকে শুধু অভিনয় করতে শেখায় না, বরং চরিত্রের সঙ্গে এক ধরনের মানসিক সংযোগ তৈরি করে। Love & War–এর মতো আবেগঘন ছবিতে এই স্বাধীনতা অভিনেতাদের পারফরম্যান্সকে আরও গভীর ও স্মরণীয় করে তুলবে বলেই মনে করছেন সিনেমা মহল।
“একটি দৃশ্যে ঢোকা”— ভিকি কৌশলের চোখে বনশালির মাস্টারস্ট্রোক

ভিকি কৌশলের বক্তব্যে বারবার ফিরে আসে একটি লাইন— “How to enter a scene, how to approach it, how to commit to it emotionally— that’s where he’s such a master।” এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে বনশালির পরিচালন দর্শনের সারমর্ম।
ভিকির মতে, চরিত্র সম্পর্কে জানা থাকা জরুরি, কিন্তু দৃশ্যে প্রবেশ করার মুহূর্তে সেই চরিত্র কীভাবে নিজেকে প্রকাশ করবে— সেটাই আসল চ্যালেঞ্জ। বনশালি সেই জায়গাটিতেই অভিনেতাকে পথ দেখান। তিনি দৃশ্যকে শুধু সংলাপ বা ব্লকিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন না; বরং আবেগের স্তরে স্তরে নিয়ে যান।
“তিনি চরিত্র কী করতে পারে, কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে— সেই সম্ভাবনাগুলো অন্বেষণ করেন,” বলেন ভিকি। একাধিক চরিত্র একসঙ্গে থাকলে সেই অনুসন্ধান আরও জটিল ও রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। অভিনেতার জন্য সেটি একদিকে আনন্দের, অন্যদিকে অ্যাড্রেনালিনে ভরা অভিজ্ঞতা।
এই অনুসন্ধানী প্রক্রিয়াই Love & War–কে একটি সাধারণ প্রেম ও সংঘাতের গল্পের ঊর্ধ্বে তুলে নিয়ে যায়। বনশালির সিনেমায় আবেগ কখনো একমাত্রিক নয়; তা বহুমাত্রিক, স্তরযুক্ত এবং গভীর— যা অভিনেতাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চটা বের করে আনে।
সৃষ্টিশীল অস্বস্তি থেকে পূর্ণতা: Love & War–এর আবেগী যাত্রা

ভিকি কৌশল অকপটে স্বীকার করেছেন, এই সৃষ্টিশীল স্বাধীনতা সবসময় স্বস্তিদায়ক হয় না। “শুরুর দিকে এটা খুব নার্ভ-র্যাকিং,”— বলেন তিনি। যখন অভিনেতা এখনো কোনো একক আবেগী সিদ্ধান্তে পৌঁছননি, তখন অসংখ্য সম্ভাবনার মধ্যে ঘুরে বেড়ানো মানসিকভাবে ক্লান্তিকর হতে পারে।
অনেক সময় এমন অনুভূতিতেও পৌঁছতে হয় যা স্বাভাবিকভাবে আসে না। “তুমি সেগুলোর দিকে হাত বাড়াও, সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করো,”— বলেন ভিকি। এই প্রক্রিয়া অস্বস্তিকর হলেও, দিনের শুট শেষ হলে এক ধরনের সৃষ্টিশীল তৃপ্তি থেকে যায়।
এই তৃপ্তিই বনশালির সিনেমার বিশেষত্ব। সেটে কাটানো প্রতিটি দিন অভিনেতার মধ্যে কিছু না কিছু পরিবর্তন আনে। Love & War–এর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই ইঙ্গিত মিলছে ভিকির কথায়।
এই ছবির মাধ্যমে দর্শক শুধু এক মহাকাব্যিক প্রেম ও সংঘাতের গল্পই পাবেন না, বরং তিনজন শক্তিশালী অভিনেতার আবেগী রূপান্তরের সাক্ষী থাকবেন। ২০২৬ সালের ২০ মার্চ মুক্তির আগে থেকেই Love & War তাই বছরের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমাটিক ইভেন্টে পরিণত হয়েছে।
সঞ্জয় লীলা বনশালির Love & War নিঃসন্দেহে এমন এক ছবি, যেখানে গল্প, অভিনয় ও আবেগ একসূত্রে গাঁথা। ভিকি কৌশলের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে— এই ছবি শুধুই বড় তারকাদের একত্রিত হওয়া নয়, বরং শিল্পীসত্তার এক গভীর অনুসন্ধান।
রণবীর কাপুর, আলিয়া ভাট ও ভিকি কৌশলের ত্রয়ী যখন বনশালির নির্দেশনায় বড়পর্দায় আবির্ভূত হবেন, তখন দর্শক পাবেন আবেগের এক অনন্য যাত্রা। ২০ মার্চ, ২০২৬— সেই তারিখে ভারতীয় সিনেমা আরও একবার নিজেকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে চলেছে।






