কলকাতায় ফের বাড়ছে স্বাস্থ্য উদ্বেগ। নিপাহ ভাইরাসের মতো মারাত্মক সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই নার্সকে একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে চিকিৎসক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, ওই দুই নার্স সাম্প্রতিক সময়ে জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও স্নায়বিক সমস্যার মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। যদিও এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে এটি নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ কিনা, তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ স্তরে।
নিপাহ ভাইরাসের নাম শুনলেই কেরালার অতীত অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে, যেখানে এই ভাইরাস বহু প্রাণ কেড়েছে। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা থাকায় কলকাতায় এই ঘটনাকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না কেউই।
রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রশাসন আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। আইসোলেশন, নমুনা পরীক্ষা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই বাড়ানো হয়েছে সতর্কতা।
নিপাহ উপসর্গ নিয়ে নার্সদের ভর্তি: কী জানা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত

হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভর্তি হওয়া দুই নার্স একই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি নিউরোলজিক্যাল উপসর্গ দেখা যাচ্ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁদের আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল নিয়মিত তাঁদের পর্যবেক্ষণ করছে। রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে বিশেষ পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। নিপাহ ভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কাউকে কোনও ঝুঁকি নিতে দেওয়া হচ্ছে না।
এই ঘটনার পর হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীদের মধ্যেও সতর্কতা জারি হয়েছে। যাঁরা ওই নার্সদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাঁদেরও কোয়ারান্টিনে রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্বাস্থ্য দফতরের সতর্কতা ও সংক্রমণ রোধে নেওয়া ব্যবস্থা


ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জরুরি বৈঠকে বসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। সমস্ত আইসোলেশন ওয়ার্ডে বাড়ানো হয়েছে স্যানিটাইজেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নিপাহ সন্দেহে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পিপিই, মাস্ক ও গ্লাভসের জোগান নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে চিকিৎসাকর্মীরা কোনওভাবেই ঝুঁকিতে না পড়েন।
এছাড়াও হাসপাতাল চত্বরে অপ্রয়োজনীয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। রোগীর আত্মীয়দের জন্যও নির্দিষ্ট গাইডলাইন জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, আতঙ্ক নয়—সচেতনতা এবং দ্রুত পদক্ষেপই এই ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিপাহ ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক কেন, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা


বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপাহ ভাইরাসের ক্ষেত্রে আতঙ্কের মূল কারণ এর উচ্চ মৃত্যুহার ও দ্রুত সংক্রমণের ক্ষমতা। সাধারণত বাদুড় থেকে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে মানবদেহে মানবদেহে ছড়াতে পারে।
যদিও কলকাতার বর্তমান ঘটনায় এখনও নিপাহ নিশ্চিত নয়, তবুও উপসর্গ মিল থাকায় সতর্কতা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, সময়মতো শনাক্ত করা গেলে এবং দ্রুত আইসোলেশন করা গেলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জ্বর, মাথাব্যথা বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই একমাত্র নিরাপদ পথ।
কলকাতায় নিপাহ উপসর্গ নিয়ে দুই নার্সের ভর্তি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক, তবে প্রশাসনের তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো। এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত সংক্রমণের প্রমাণ মেলেনি, যা কিছুটা হলেও স্বস্তির। তবুও পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে সতর্কতা ও সচেতনতার কোনও বিকল্প নেই।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর আস্থা রেখে, গুজব এড়িয়ে এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনে চললেই এই সম্ভাব্য স্বাস্থ্য সঙ্কট মোকাবিলা করা সম্ভব—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।






