টলিউড ও প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমার দুনিয়ায় নতুন চমক মানেই কৌতূহল, আর সেই কৌতূহল যখন চরিত্রের প্রথম পোস্টারেই বিস্ফোরণ ঘটায়—তখন উত্তেজনা দ্বিগুণ হয়। ঠিক তেমনই এক শকিং রিভিল সামনে আনল ‘দ্য প্যারাডাইস’ টিম। কমেডি ইমেজ ভেঙে ভয়ংকর এক রূপে হাজির Sampoornesh Babu—চরিত্রের নাম ‘বিরিয়ানি’। নাম যেমন অদ্ভুত, লুক তেমনই অস্বস্তিকর; চোখে-মুখে এক অজানা হিংস্রতার ইঙ্গিত।
A story cannot be set in Hyderabad without Biryani 😉
— THE PARADISE (@TheParadiseOffl) December 19, 2025
Introducing an all new @sampoornesh as 'Biryani' from #TheParadise 🔥❤️🔥
Jadal's Best Friend 🫂 pic.twitter.com/iMLTQY1jgU
নতুন পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা। দর্শকরা অবাক—যে অভিনেতাকে দীর্ঘদিন হালকা-ফুলকা কমেডিতে দেখেছেন, তিনি কীভাবে এমন এক ভীতিকর চরিত্রে নিজেকে ঢেলে দিয়েছেন! পোস্টারের টেক্সচার, আলো-ছায়া আর দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে স্পষ্ট—এই ‘বিরিয়ানি’ কেবল নামেই নয়, উপস্থিতিতেও অনন্য।
এই চরিত্রের আবির্ভাব আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ‘দ্য প্যারাডাইস’ পরিচালনা করছেন Srikanth Odela—যিনি Dasara দিয়ে ইতিমধ্যেই নিজের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর ভিশনে নির্মিত প্রতিটি চরিত্রই আলাদা করে কথা বলে। আর ছবির কেন্দ্রে আছেন Nani—‘ন্যাচারাল স্টার’ খ্যাত অভিনেতা, যার সঙ্গে ওডেলার এই পুনর্মিলন দর্শকের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিরিয়ানি: কমেডি ইমেজ ভেঙে ভয়ংকর রূপান্তর

‘বিরিয়ানি’ নামটাই যেন কৌতূহলের আগুনে ঘি ঢালে। পোস্টারে দেখা যায়, রুক্ষ চেহারা, চোখে অদ্ভুত স্থিরতা, মুখে কঠোরতা—সব মিলিয়ে এক ভীতিকর উপস্থিতি। নির্মাতাদের বর্ণনায়, এই চরিত্র জাদালের (নানির চরিত্র) ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আনুগত্যের প্রতীক। অর্থাৎ, নিষ্ঠা ও হিংস্রতার অদ্ভুত সমন্বয়ই ‘বিরিয়ানি’র মূল সুর।
এখানে আলাদা করে উল্লেখযোগ্য, কমেডি অভিনেতারা যখন সিরিয়াস চরিত্রে যান, তখন প্রায়শই তাঁরা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলেন। দক্ষিণী সিনেমায় Sunil-এর ‘মাঙ্গালাম সীনু’ (পুষ্পা) কিংবা সাম্প্রতিক উদাহরণে ভিন্ন ঘরানার অভিনেতাদের রূপান্তর—সবই প্রমাণ করে, টাইপকাস্ট ভাঙা গেলে চরিত্র আরও গভীর হয়। ‘বিরিয়ানি’ও সেই ধারাতেই এক নতুন সংযোজন বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।
পোস্টারের রঙ, গ্রেইন আর কস্টিউম ডিজাইন স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়—এই চরিত্র কেবল শক ভ্যালু নয়, গল্পের চালিকাশক্তি। সংলাপের আগেই মুখভঙ্গি দিয়ে যে গল্প বলা যায়, ‘বিরিয়ানি’ তারই উদাহরণ।
শ্রীকান্ত ওডেলার ভিশন ও ‘দ্য প্যারাডাইস’-এর দুনিয়া


Srikanth Odela-র সিনেমা মানেই চরিত্রের ভেতরের অন্ধকারে আলো ফেলা। Dasara-তে তিনি গ্রামীণ বাস্তবতা, সহিংসতা আর মানবিক দ্বন্দ্বকে যেভাবে মিশিয়েছিলেন, তা সমালোচক ও দর্শক—দু’পক্ষেরই প্রশংসা কুড়িয়েছে। ₹১০০ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে সেটি হয়ে উঠেছিল নানির ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য।
‘দ্য প্যারাডাইস’-এ সেই ভিশন আরও বিস্তৃত। গল্পের পরিসর বড়, চরিত্রের স্তর আরও জটিল। এখানে বন্ধুত্ব, আনুগত্য, ক্ষমতা আর বিশ্বাসঘাতকতার সূক্ষ্ম রেখা একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ‘বিরিয়ানি’ সেই জটিলতারই এক মুখ—যার উপস্থিতি গল্পে নৈতিক টানাপোড়েন বাড়াবে বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
নানির সঙ্গে ওডেলার রসায়ন এই ছবির অন্যতম বড় ইউএসপি। নানির স্বাভাবিক অভিনয়শৈলী ও ওডেলার কাঁচা বাস্তবতার ভাষা—এই যুগলবন্দি ‘দ্য প্যারাডাইস’-কে নিছক বিনোদনের বাইরে নিয়ে যেতে পারে।
সঙ্গীত, প্রযোজনা ও গ্লোবাল মুক্তির বড় পরিকল্পনা

ছবির আবহকে আরও তীব্র করেছে সঙ্গীত। Anirudh Ravichander-এর মৌলিক স্কোর, সঙ্গে কণ্ঠে অনিরুদ্ধ ও Arjun Chandy—সব মিলিয়ে এক ইমার্সিভ অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর এখানে কেবল আবহ নয়, গল্প বলার আরেকটি স্তর।
প্রযোজনায় SLV Cinemas—যারা এই ছবিকে প্যান-ইন্ডিয়া থেকে গ্লোবাল মঞ্চে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। ২৬ মার্চ ২০২৬—এই তারিখে মুক্তি পাচ্ছে ‘দ্য প্যারাডাইস’। ভাষার তালিকাও দীর্ঘ—তেলুগু, হিন্দি, তামিল, কন্নড়, মালয়ালম, বাংলা, ইংরেজি ও স্প্যানিশ।
সবচেয়ে চমকপ্রদ খবর, আন্তর্জাতিক বাজারে ছবিটি উপস্থাপনার জন্য নির্মাতারা নাকি হলিউড তারকা Ryan Reynolds-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। যদি তা বাস্তবায়িত হয়, তবে ‘দ্য প্যারাডাইস’ নিঃসন্দেহে ভারতীয় সিনেমার গ্লোবাল যাত্রায় নতুন মাইলফলক হতে পারে।
‘বিরিয়ানি’ রূপে সম্পূর্ণেশ বাবুর শকিং লুক শুধু একটি চরিত্রের পরিচয় নয়—এটি ‘দ্য প্যারাডাইস’-এর উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক। শ্রীকান্ত ওডেলার ডিটেইলিং, নানির প্রভাবশালী উপস্থিতি, অনিরুদ্ধের সুর আর গ্লোবাল রিলিজের পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে এই ছবি নিছক সিনেমা নয়, এক সাংস্কৃতিক মুহূর্তের দিকে এগোচ্ছে। ২০২৬-এর মার্চে মুক্তির অপেক্ষায় এখন একটাই প্রশ্ন—‘বিরিয়ানি’ শেষ পর্যন্ত কতটা ভয়ংকর চমক দিতে পারে?






