ভারতীয় সিনেমার মানচিত্রে কিছু নাম শুধু পরিচালক হিসেবেই নয়, একটি সম্পূর্ণ ধারার প্রতীক হয়ে ওঠে। Sukumar সেই বিরল নির্মাতাদের একজন, যাঁর প্রতিটি কাজ দর্শক ও সমালোচকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। আজ তাঁর জন্মদিনে, ‘সুকুমার রাইটিংস’ প্রকাশ করল এক আবেগঘন শ্রদ্ধা—একজন এমন নির্মাতাকে সম্মান জানিয়ে, যাঁর যাত্রা বরাবরই মৌলিকতা, শৃঙ্খলা ও নির্ভীক গল্প বলার উদাহরণ।
পুষ্পা ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে জাতীয় স্তরে এক অপ্রতিরোধ্য নাম করে তুললেও, তেলুগু সিনেমার দর্শকদের কাছে সুকুমার মানে বহু আগেই আলাদা এক পরিচয়। বক্স অফিস সাফল্যের বাইরেও তিনি পরিচিত সাহসী বিষয় নির্বাচন, জটিল চরিত্র নির্মাণ এবং শক্তিশালী চিত্রনাট্যের জন্য।
জন্মদিন উপলক্ষে সুকুমার রাইটিংস তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ পোস্ট শেয়ার করে জানিয়েছে, কীভাবে একজন নির্মাতা শুধু হিট সিনেমা নয়, একটি সম্পূর্ণ প্রজন্মের চলচ্চিত্র ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারেন। সেই পোস্টের আবেগ, গর্ব এবং শ্রদ্ধাই যেন প্রতিফলিত করে সুকুমারের দীর্ঘ ও অনন্য যাত্রা।
পুষ্পা: বক্স অফিসের সীমা ভেঙে তৈরি হওয়া এক সাংস্কৃতিক ঘটনা

Pushpa মুক্তির পর থেকেই ইতিহাস গড়েছে। ভারতীয় সিনেমার সর্বোচ্চ ওপেনিং ডে কালেকশন হিসেবে ₹২৯৪ কোটি বিশ্বব্যাপী আয় করে, যা এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সিনেমাটি ₹৫০০ কোটি এবং পরে ₹১,০০০ কোটি অতিক্রম করে, দ্রুততম আয়ের সব রেকর্ড ভেঙে দেয়।
বিশেষ করে হিন্দি বেল্টে পুষ্পার প্রভাব ছিল অভূতপূর্ব। প্রথম দিনেই ₹৭২ কোটি আয় করে এটি নতুন ওপেনিং ডে রেকর্ড গড়ে তোলে। পরবর্তীতে হিন্দি ভার্সনে সিনেমাটির মোট আয় পৌঁছায় প্রায় ₹৮৩০ কোটিতে—যা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক।
তবে সংখ্যার বাইরেও পুষ্পা হয়ে উঠেছে এক সাংস্কৃতিক প্রতীক। সংলাপ, গান, চরিত্রের স্টাইল—সব মিলিয়ে এটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়। এই সাফল্য প্রমাণ করে, সুকুমার এমন একজন নির্মাতা যিনি গণআবেদন ও শিল্পমানের মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখতে জানেন।
লেখনী ও নতুন প্রতিভায় বিশ্বাস: সুকুমার রাইটিংসের দর্শন


সুকুমার রাইটিংস কেবল একটি প্রযোজনা সংস্থা নয়; এটি এক ধরনের দর্শনের প্রতিফলন। শক্তিশালী গল্প, নতুন প্রতিভা এবং ভাবনাধর্মী সিনেমায় বিনিয়োগ—এই তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে এই ব্যানার।
‘কুমারী ২১এফ’, ‘উপ্পেনা’, ‘বিরুপাক্ষ’ এবং ‘১৮ পেজেস’—প্রতিটি ছবিই আলাদা স্বাদ ও বিষয় নিয়ে এসেছে। এসব প্রজেক্টে বাণিজ্যিক চাপের চেয়ে গল্পের গুরুত্বই ছিল মুখ্য। নতুন পরিচালক ও অভিনেতাদের সুযোগ দিয়ে সুকুমার প্রমাণ করেছেন, আইডিয়া-লেড সিনেমাই দীর্ঘমেয়াদে দর্শকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে।
এই ধারাবাহিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। যেখানে অনেক প্রযোজক নিরাপদ ফর্মুলায় আটকে থাকেন, সেখানে সুকুমার রাইটিংস ঝুঁকি নিতে পিছপা হয় না। ফলাফল হিসেবে তৈরি হয় এমন সিনেমা, যা মুক্তির বহুদিন পরেও আলোচনায় থাকে।
পুষ্পা ২ থেকে ভবিষ্যৎ: সুকুমারের সৃজনশীল উত্তরাধিকার



Pushpa 2: The Rule মুক্তির মাধ্যমে সুকুমার আবারও প্রমাণ করেন, সাফল্যের শীর্ষে থেকেও তিনি নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। সিনেমাটি ভারত ও বিদেশের বাজারে এক বিশাল সাংস্কৃতিক মুহূর্ত তৈরি করে এবং রেকর্ড ভাঙার ধারা আরও মজবুত হয়।
ভবিষ্যতের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাঁর প্রভাব আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ‘পেড্ডি’—যেখানে অভিনয় করছেন Ram Charan—এই প্রজেক্টে সুকুমার রাইটিংসের প্রযোজনা ও তাঁর সৃজনশীল দিকনির্দেশনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি, কার্তিক দণ্ডু পরিচালিত ‘ভ্রুষকর্মা’ ছবিতেও রয়েছে তাঁর শক্তিশালী ক্রিয়েটিভ ইমপ্রিন্ট।
এই সব প্রজেক্ট ইঙ্গিত দেয়, সুকুমার শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ তেলুগু সিনেমার রূপরেখাও তৈরি করছেন। গল্প, স্কেল এবং আবেগ—সবকিছুর মধ্যেই তাঁর স্বাক্ষর স্পষ্ট।
সুকুমার গারুর জন্মদিনে সুকুমার রাইটিংসের এই বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য আসলে একজন নির্মাতার প্রতি সম্মান, যিনি সাহসী গল্প বলার মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। পুষ্পার মতো ব্লকবাস্টার থেকে শুরু করে নতুন প্রতিভা তুলে ধরার প্রচেষ্টা—সব মিলিয়ে তাঁর যাত্রা প্রমাণ করে, প্রকৃত সাফল্য আসে দৃঢ় বিশ্বাস ও সৃজনশীল সততা থেকে। আগামী দিনেও তাঁর হাত ধরেই তেলুগু ও ভারতীয় সিনেমা যে আরও নতুন দিগন্তে পৌঁছবে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।






