ভারতীয় ক্রিকেটে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন একটি ম্যাচ আর শুধুই ম্যাচ থাকে না—তা হয়ে ওঠে ইতিহাসের দরজা। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে ঠিক তেমনই এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন Shreyas Iyer। পরিসংখ্যান বলছে, এই ম্যাচেই ছুঁতে পারেন এমন এক মাইলফলক, যা তাঁর ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
গত কয়েক বছরে শ্রেয়াস আইয়ার নিজেকে শুধুই প্রতিভাবান ব্যাটার হিসেবে নয়, বরং নির্ভরযোগ্য ম্যাচ-ফিনিশার হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মাঝের ওভারে ইনিংস গড়া থেকে শুরু করে শেষদিকে ঝড় তোলা—দু’টাই তাঁর শক্তি। ফলে দ্বিতীয় ওয়ানডে তাঁর জন্য শুধু সিরিজের সমীকরণ নয়, ব্যক্তিগত ইতিহাসের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতীয় দলের বর্তমান ব্যাটিং কাঠামোয় মিডল অর্ডারের ভূমিকা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। ওপেনারদের দ্রুত রান, আবার শেষদিকে অলরাউন্ডারদের ক্যামিও—এই দুইয়ের মাঝখানে ভারসাম্য রক্ষা করেন শ্রেয়াস। আর সেই কারণেই তাঁর সামনে থাকা এই মাইলফলক শুধুই সংখ্যার খেলা নয়, বরং তাঁর গুরুত্বের প্রতীক।
নিউজিল্যান্ডের মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে এই ম্যাচে যদি শ্রেয়াস নিজের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেন, তবে ইতিহাস লেখা শুধু সময়ের অপেক্ষা।
শ্রেয়াস আইয়ারের সম্ভাব্য মাইলফলক: সংখ্যার আড়ালে গল্প

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নামার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রেয়াস আইয়ার এমন এক পরিসংখ্যানের কাছে পৌঁছে যাবেন, যা খুব কম ভারতীয় মিডল অর্ডার ব্যাটারের ঝুলিতে আছে। নির্দিষ্ট রানসংখ্যা পূর্ণ হলেই তিনি এক অনন্য তালিকায় নিজের নাম লেখাবেন—যেখানে রয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত তারকারা।
এই মাইলফলক তাঁর ধারাবাহিকতার স্বীকৃতি। কারণ শ্রেয়াস কখনও এক মরসুমের বিস্ময় হয়ে ওঠেননি; বরং বছরের পর বছর ধরে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের জায়গা। তাঁর ব্যাটিং গড়, স্ট্রাইক রেট এবং চাপের মুহূর্তে ইনিংস গড়ার ক্ষমতা—সব মিলিয়ে তাঁকে আলাদা করেছে।
বিশেষ করে ঘরের মাঠে কিংবা স্পিন সহায়ক উইকেটে শ্রেয়াসের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ফুটওয়ার্ক, ক্লিন হিটিং আর ফাঁক খোঁজার দক্ষতা তাঁকে বিপজ্জনক করে তোলে। এই মাইলফলক অর্জিত হলে, তা প্রমাণ করবে যে তিনি শুধুই সুযোগ পাওয়া ক্রিকেটার নন, বরং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই রেকর্ড আসছে এমন এক সময়ে, যখন ভারতীয় দল ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। শ্রেয়াসের এই কীর্তি দলকে দেবে আত্মবিশ্বাস, নির্বাচকদের দেবে স্পষ্ট বার্তা।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে শ্রেয়াসের রেকর্ড ও চ্যালেঞ্জ


নিউজিল্যান্ড বরাবরই এমন একটি দল, যারা পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রিকেট খেলে। পেস-সুইং, লাইন-লেংথ, ফিল্ড সেট—সব কিছুতেই শৃঙ্খলা। এই দলের বিরুদ্ধে শ্রেয়াস আইয়ারের পারফরম্যান্স তাই বিশেষভাবে নজরকাড়া।
পরিসংখ্যান বলছে, কিউই বোলারদের বিরুদ্ধে শ্রেয়াস মাঝের ওভারে রান তোলায় দক্ষ। স্পিনারদের বিরুদ্ধে তাঁর স্ট্রাইক রোটেশন এবং পেসারদের বিরুদ্ধে শর্ট বল সামলানোর ক্ষমতা তাঁকে বাড়তি সুবিধা দেয়। তবে এই ম্যাচে চ্যালেঞ্জও কম নয়। নতুন বলের সুইং, আবার শেষদিকে স্লোয়ার—সব কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
দ্বিতীয় ওয়ানডের প্রেক্ষাপটও আলাদা। সিরিজের গতি নির্ধারণ করবে এই ম্যাচ। ফলে শ্রেয়াসের ইনিংসের ওপর থাকবে দ্বিমুখী চাপ—একদিকে ব্যক্তিগত মাইলফলক, অন্যদিকে দলের জয়। অভিজ্ঞতা বলছে, এই চাপেই শ্রেয়াস সবচেয়ে বেশি পরিণত হয়ে ওঠেন।
এই ম্যাচে যদি তিনি নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেন, তাহলে শুধু রেকর্ড নয়, ম্যাচের মোড়ও ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
ভারতীয় মিডল অর্ডারে শ্রেয়াসের গুরুত্ব

ভারতীয় দলের মিডল অর্ডার বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ওপেনারদের ঝড়ো শুরু এবং শেষদিকে অলরাউন্ডারদের দ্রুত রান—এই দুইয়ের মাঝখানে যে স্থিরতা দরকার, তা দেন শ্রেয়াস আইয়ার।
তিনি এমন একজন ব্যাটার, যিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের খেলা বদলাতে পারেন। দরকার হলে ধীরস্থির ইনিংস, আবার দরকার হলে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। এই নমনীয়তাই তাঁকে অমূল্য করে তুলেছে।
আসন্ন বড় টুর্নামেন্টের কথা মাথায় রাখলে, শ্রেয়াসের এই মাইলফলক আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি দেখাবে যে তিনি শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতেরও সমাধান। দল যখন চাপে পড়ে, তখন তাঁর ব্যাটই হয়ে ওঠে আশ্রয়।
এই কারণেই দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তাঁর পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে থাকবে শুধু দর্শক নয়, গোটা ক্রিকেটবিশ্ব।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডে শ্রেয়াস আইয়ারের জন্য শুধুই আরেকটি ম্যাচ নয়—এটি ইতিহাসের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ। একটি ইনিংস, কয়েকটি নিখুঁত শট, আর তিনি পৌঁছে যাবেন এমন এক মাইলফলকে, যা তাঁর ক্যারিয়ারকে নতুন সংজ্ঞা দেবে।
এই ম্যাচ হয়তো ভবিষ্যতে ফিরে তাকিয়ে বলা হবে—এখান থেকেই শুরু হয়েছিল শ্রেয়াস আইয়ারের আরও বড় অধ্যায়। ভারতীয় ক্রিকেটের জন্যও এটি এক ইতিবাচক সংকেত, যেখানে মিডল অর্ডার মানেই নির্ভরতা, আর সেই নির্ভরতার নাম শ্রেয়াস আইয়ার।






