দুবাই এয়ারশো ২০২৫–এ ভারতীয় বায়ুসেনার এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। HAL Tejas–এর প্রদর্শনী চলাকালীন পাইলট উইং কমান্ডার নমনশ স্যয়াল প্রাণ হারানোর পরও এয়ারশো চলতে থাকে—যা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন মার্কিন F-16 ডেমো টিমের পাইলট টেলর হাইস্টার। তিনি নিজের পারফরম্যান্স বাতিল করে জানান, “এভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এয়ারশো–সংস্কৃতি, মানবিকতা এবং পেশাদারিত্ব—সবই এক নতুন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।
কীভাবে ঘটলো এই মর্মান্তিক ঘটনা?
টেজাস বিমানের লো-লেভেল অ্যাক্রোব্যাটিক ম্যানুভারের সময় আচমকা বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা মাটিতে বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। পাইলট বের হতে পারেননি—এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।
এই ঘটনার পর দর্শক, ভারতে থাকা পরিবার–সহ সকলের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। সাধারণত এ ধরনের দুর্ঘটনার পর আন্তর্জাতিক এয়ারশোগুলিতে প্রদর্শনী অন্তত সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। কিন্তু দুবাই এয়ারশো–তে শো থামেনি। একই উত্তেজনা, একই সংগীত, একই উদ্দীপনায় বাকি প্রদর্শনীগুলো চলতে থাকে।
এখানেই প্রশ্ন তৈরি হয়—নিরাপত্তা, নীতি এবং মানবিকতার জায়গায় কি ‘শো মাষ্ট গো অন’ নীতি ঠিক ছিল?

শো চালু রাখার সিদ্ধান্ত—কেন সমালোচনার মুখে?
আমেরিকান পাইলট টেলর হাইস্টার জানান, তারা র্যাম্পের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় দেখেছেন—টেজাস যেখানে দাঁড়ানো ছিল সেখানে কেবল একটি ফাঁকা স্পট, পড়ে থাকা সিঁড়ি এবং পাইলটের জুতার কভার। এই দৃশ্য তাঁদের শোকাহত করে।
তিনি এবং তার দল সঙ্গে সঙ্গে তাদের F-16 ডেমো পারফরম্যান্স বাতিল করেন। তাঁর মন্তব্য—
“একজন পাইলটকে হারানোর পর প্রদর্শনী চালিয়ে যাওয়া আমাদের কাছে অসম্ভব। এটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ঠিক নয়।”
অন্যদিকে, আয়োজক পক্ষের যুক্তি—ইভেন্টের সময়সূচি, স্পনসরশিপ, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং নিরাপত্তা প্রটোকল বিবেচনা করে তারা শো স্থগিত করেনি।
এই দুই সিদ্ধান্তের দ্বন্দ্বই মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—মানবিকতা বনাম ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট।

ঘটনা থেকে যেসব শিক্ষা পাওয়া যায়
এই দুর্ঘটনা শুধু এক পাইলটের মৃত্যু নয়; এটি ভবিষ্যতের এয়ারশোগুলির জন্য একটি সতর্কবার্তা।
১. অ্যাক্রোব্যাটিক ফ্লাইটে নিরাপত্তা মূল্যায়ন আরও কঠোর করা প্রয়োজন
কম উচ্চতায় রোল, টার্ন এবং দ্রুত ম্যানুভারে ছোট্ট ভুলই ভয়াবহ পরিণতি আনতে পারে। নিরাপত্তা চেকগুলো আরও শক্তিশালী হওয়া জরুরি।
২. বড় ইভেন্টে সংকট ব্যবস্থাপনার স্পষ্ট প্রটোকল থাকা উচিত
এক পাইলটের মৃত্যু বা বড় দুর্ঘটনার পর শোক, সম্মান ও নিরাপত্তার জায়গা অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
৩. পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন
হাইস্টার দেখিয়েছেন—সিদ্ধান্ত বড় ইভেন্ট হলেও মানবিক মূল্যবোধ কখনও উপেক্ষিত হওয়া উচিত নয়।
৪. দর্শকদের সঙ্গে স্বচ্ছ যোগাযোগ জরুরি
এ ধরনের সময়ে দ্রুত ঘোষণার মাধ্যমে পরিস্থিতির গুরুত্ব জানানো উচিত।
এই চারটি পয়েন্ট ভবিষ্যতে এয়ারশো সংগঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হতে পারে।
টেজাস দুর্ঘটনা ভারতের জন্য এক দুঃখজনক অধ্যায়। কিন্তু এর পরে শো চালিয়ে দেওয়া আরও বৃহত্তর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একজন পাইলটের মৃত্যু কেবল একটি দুঃখজনক ঘটনা নয়; এটি এমন মুহূর্ত যেখানে মানবিকতা, সম্মান এবং পেশাদারদের ঐক্য দেখানোর সুযোগ থাকে।
টেলর হাইস্টারের সিদ্ধান্ত তাই শুধু এক বাতিল করা পারফরম্যান্স নয়, বরং একটি বার্তা—“মানুষের জীবনের মূল্য যেকোনো শোর চেয়ে বড়।”
আপনার মতামত কী?
আপনার জায়গায় হলে আপনি কি শো বন্ধ করতেন? এই ঘটনার সিদ্ধান্ত–দ্বন্দ্ব সম্পর্কে আপনার মত কী? নিচে কমেন্টে জানান।






