ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে আবারও বড়সড় উত্তেজনা। দ্রুত বর্ধনশীল লজিস্টিক্স ও লাস্ট-মাইল ডেলিভারি সংস্থা Shadowfax এই মাসেই আনতে চলেছে প্রায় ₹১,৯০০ কোটির আইপিও। দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে এই আইপিও নিয়ে জল্পনা চলছিল, অবশেষে তা বাস্তবের পথে।
ই-কমার্স, কুইক কমার্স এবং অন-ডিমান্ড ডেলিভারির চাহিদা যেভাবে গত কয়েক বছরে বেড়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে Shadowfax-এর মতো প্ল্যাটফর্ম। শহর ও গ্রাম—দু’জায়গাতেই তাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইপিও শুধু একটি কোম্পানির পাবলিক লিস্টিং নয়, বরং ভারতীয় লজিস্টিক্স সেক্টরের পরবর্তী গ্রোথ ফেজের ইঙ্গিত। খুচরা বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী—সব মহলেই আগ্রহ তুঙ্গে।
বাজারে যখন নতুন নতুন আইপিও আসছে, তখন প্রশ্ন একটাই—Shadowfax-এর এই ₹১,৯০০ কোটি আইপিও কতটা গুরুত্বপূর্ণ, আর কেনই বা এটিকে “মাসের অন্যতম হট ইস্যু” বলা হচ্ছে?
Shadowfax-এর আইপিও: পরিমাণ, কাঠামো ও সময়সূচি

Shadowfax-এর প্রস্তাবিত আইপিওর মোট আকার প্রায় ₹১,৯০০ কোটি। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রেশ ইস্যু এবং অফার ফর সেল (OFS)—যার মাধ্যমে প্রাথমিক বিনিয়োগকারীরা আংশিক এক্সিট নিতে পারবেন।
বাজার সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই মাসের মধ্যেই ডিআরএইচপি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির লক্ষ্য রাখা হয়েছে। আইপিওর প্রাইস ব্যান্ড এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও, প্রি-আইপিও আলোচনায় কোম্পানির ভ্যালুয়েশন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই আইপিও থেকে তোলা অর্থ মূলত তিনটি খাতে ব্যবহৃত হবে—
- প্রযুক্তি ও অটোমেশন উন্নয়ন
- ডেলিভারি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ
- ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ও সম্ভাব্য অধিগ্রহণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই আইপিওর টাইমিং যথেষ্ট কৌশলী। কারণ লজিস্টিক্স ও কুইক কমার্স সেক্টরের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফের বাড়ছে।
কেন বিনিয়োগকারীদের নজরে Shadowfax?
Shadowfax-এর মূল শক্তি তাদের লাস্ট-মাইল ডেলিভারি মডেল। ই-কমার্স জায়ান্ট, কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং ডিটিসি ব্র্যান্ড—সবাই তাদের পরিষেবা ব্যবহার করে।
বর্তমানে কোম্পানিটি হাজারেরও বেশি শহর ও টাউনে পরিষেবা দেয়। গ্রামাঞ্চলেও তাদের উপস্থিতি বাড়ছে, যা ভারতের মতো বিশাল বাজারে বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাদের অ্যাসেট-লাইট মডেল। নিজস্ব বড় গাড়ি বহর না রেখেও, টেক-ড্রিভেন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ডেলিভারি পার্টনারদের যুক্ত করে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। এর ফলে অপারেটিং মার্জিন ধীরে ধীরে উন্নত হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে, Shadowfax শুধুমাত্র একটি ডেলিভারি কোম্পানি নয়—এটি একটি ডেটা ও প্রযুক্তি-নির্ভর লজিস্টিক্স প্ল্যাটফর্ম, যা ভবিষ্যতে আরও স্কেল করতে পারবে।
প্রতিযোগিতা, ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
যদিও Shadowfax-এর গ্রোথ স্টোরি শক্তিশালী, তবুও ঝুঁকি নেই এমন নয়। এই সেক্টরে প্রতিযোগিতা তীব্র—বড় ই-কমার্স সংস্থার ইন-হাউস লজিস্টিক্স ইউনিট থেকে শুরু করে অন্যান্য স্টার্টআপ সবাই বাজার দখলের লড়াইয়ে।
ডেলিভারি খরচ, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক নীতির পরিবর্তন কোম্পানির লাভজনকতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গিগ ওয়ার্কার নীতিমালা ভবিষ্যতে খরচ বাড়াতে পারে।
তবে ইতিবাচক দিক হলো—ভারতে ই-কমার্স পেনিট্রেশন এখনও তুলনামূলক কম। টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরে অনলাইন শপিং বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লজিস্টিক্স চাহিদাও বাড়বে। এই জায়গাতেই Shadowfax নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই আইপিও বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে, যদি কোম্পানি গ্রোথ ও প্রফিটেবিলিটির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।
Shadowfax-এর ₹১,৯০০ কোটি আইপিও নিঃসন্দেহে এই মাসের অন্যতম আলোচিত বাজার ঘটনা। এটি শুধু একটি স্টার্টআপের পাবলিক যাত্রা নয়, বরং ভারতীয় লজিস্টিক্স ও লাস্ট-মাইল ডেলিভারি সেক্টরের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রতিফলন।
যাঁরা আইপিওতে বিনিয়োগের কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এটি উচ্চ গ্রোথ সম্ভাবনাসম্পন্ন হলেও প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটি সেক্টরের অংশ। সঠিক ঝুঁকি মূল্যায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি রাখাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।






