বলিউড সুপারস্টার সলমন খান সম্পর্কে নানা রকম গসিপ, বিতর্ক এবং ব্লাইন্ড আইটেম শোনা যায়। কিন্তু প্রায়ই আড়ালে থেকে যাওয়া তার মানবিক দিক সামনে আসে না। সম্প্রতি এক মেডিক্যাল ফাইনাল ইয়ার ছাত্রীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সলমন খানের প্রতি তার ধারণা বদলে দিয়েছে। শিশু রোগ বিভাগের এক সাধারণ দিনে ঘটে যাওয়া একটি বাস্তব ঘটনা দেখিয়ে দেয়—‘বাজরঙ্গি ভাইজান’ শুধুই পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও মানুষের পাশে দাঁড়ান নিঃশব্দে, বিনা প্রচারে।
সলমন খানের নীরব সাহায্য: এক বাস্তব গল্প
মেডিক্যাল ছাত্রীর ভাষ্যমতে, তিনি শিশু বিভাগে একটি জন্মগত হার্ট ডিফেক্ট থাকা ছোট্ট মেয়ের ক্লিনিক্যাল হিস্ট্রি নিচ্ছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা দেখে স্পষ্ট ছিল—একটি ব্যয়বহুল হার্ট সার্জারি তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি জানতে পারেন, শিশুটির বড় ভাইও একই রোগে ভুগছিল এবং কয়েক বছর আগে মুম্বাইয়ের নামী হাসপাতালে তার সার্জারি হয়েছিল। অবাক হয়ে ছাত্রী বাবা-কে জিজ্ঞেস করেন—“এতো খরচ কীভাবে সামলালেন?”
বাবার উত্তর শুধু তাকেই নয়, পুরো ঘটনাকেই অন্য মাত্রা দেয়।
তিনি জানান,
তিনি সব নথিপত্র নিয়ে সোজা সলমন খানের অফিসে গিয়েছিলেন।
সেখানে সলমনের টিম সব ডকুমেন্ট যাচাই করে সম্পূর্ণ সার্জারির খরচ বহন করে।
এক টাকাও পরিবারকে দিতে হয়নি।
বাবা আরও জানান—
সলমন খান নীরবে, ক্যামেরা ছাড়া, প্রচার ছাড়া এমন শত শত রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।
এমনকি তিনি বিশ্বাস করেন, তার মেয়ের সার্জারিতেও সলমন নিশ্চয়ই সাহায্য করবেন।
এই কথাগুলো শুনে মেডিক্যাল ছাত্রীটি বুঝতে পারেন—মানুষ হিসেবে সলমন খানকে শুধুই খবরের শিরোনাম দেখে বিচার করা যায় না। বাস্তবে তিনি বহু মানুষের জীবনে আলো জ্বালিয়েছেন সম্পূর্ণ নিরবে।
বলিউডের আলো-আঁধারি: কেন এই গল্পটি গুরুত্বপূর্ণ
বিনোদন জগতে যেখানে প্রচার, পিআর স্টান্ট ও ইমেজ বিল্ডিং বড় ভূমিকা রাখে, সেখানে এ ধরনের নিঃশব্দ মানবিক কাজ সত্যিই বিরল। আমরা সাধারণত যেসব কেলেঙ্কারি বা বিতর্ক শুনি, তার ভিড়ে ভালো কাজগুলো চাপা পড়ে যায়।
এই গল্পটি গুরুত্বপূর্ণ দু’টি কারণে—
১. নায়কোচিত কাজ সবসময় প্রচারের প্রয়োজন হয় না
সলমন খান বহু বছর ধরে ‘বিইং হিউম্যান’ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসংখ্য দরিদ্র রোগীর চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু এ ধরনের ব্যক্তিগত সাহায্যের ঘটনা সাধারণত প্রকাশ্যে আসে না। কারণ তিনি নিজেই চান এগুলো নীরবে হোক।
২. তারকা ইমেজ আর বাস্তব মানুষ—সব সময় এক নয়
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সেলিব্রিটিদের সম্পর্কে মানুষের মনোভাব অনেকটাই ইন্টারনেটের কথাবার্তার উপর নির্ভর করে। কিন্তু এই ঘটনাটি দেখায়, একজন তারকার ব্যক্তিত্ব অনুধাবন করতে হলে তার কাজের গভীরে তাকাতে হয়।
সলমনের ক্যারিয়ার ফ্রন্ট: আসছে ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’ ও ‘বজরঙ্গি ভাইজান ২’
পেশাগত দিক থেকেও সলমন খানের আগামি সময় বেশ ব্যস্ত ও প্রতীক্ষিত।
‘Battle of Galwan’
তার নতুন ওয়ার ড্রামা ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’ ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথম লুক প্রকাশের পর থেকেই ছবিটি নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে।
Kabir Khan-এর সাথে সম্ভাব্য পুনর্মিলন
সলমন খানের সঙ্গে কবির খানের পুনর্মিলন মানেই বড় কিছু। বিশেষ করে যদি সেটা হয় ‘বজরঙ্গি ভাইজান ২’—যা আবেগঘন গল্প বলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারে।
এই সব মিলিয়ে বোঝা যায়—পর্দায় হোক বা পর্দার বাইরে—সলমন খান নিজের মতো করে কাজ করে যাচ্ছেন, মানুষের মনে জায়গা করে নিচ্ছেন।
উপসংহার
সলমন খানের নাম শুনলেই যেমন অনেকে বিতর্কের কথা মনে করেন, তেমনি এই ধরনের মানবিক কাজের কথা আমরা খুব কমই জানতে পারি। মেডিক্যাল ফাইনাল ইয়ার ছাত্রীর চোখে দেখা এই বাস্তব ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়—সত্যিকারের তারকা তারা-ই, যাদের আলো শুধুই পর্দায় নয়, মানুষের জীবনে ছড়িয়ে পড়ে।
আপনি যদি মনে করেন এই গল্পটি আরও মানুষের জানা উচিত—
শেয়ার করুন, মন্তব্য করুন এবং আপনার মতামত লিখে জানান।






