বাংলার জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’-কে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অভিনেত্রী সাগরিকা রায় অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর অনুমতি ছাড়াই ধারাবাহিকের একটি দৃশ্যে তাঁর ছবি মৃত ব্যক্তির মতো মালা পরানো অবস্থায় দেখানো হয়েছে। এই ঘটনাকে তিনি শুধু অসম্মানজনক বলেই নয়, বরং শিল্পীসম্মানহানির একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
এই অভিযোগ সামনে আসতেই টলিউডে নড়চড় পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে—টেলিভিশন কনটেন্ট তৈরি করতে গিয়ে কি কোনওভাবেই শিল্পীদের অধিকার লঙ্ঘন করা উচিত?
সাগরিকা রায়ের অভিযোগ: অনুমতি ছাড়া ছবি ব্যবহার কেন বড় সমস্যা?
অভিনেত্রী সাগরিকা রায়ের মতে, তাঁর ছবি ব্যবহার করার পূর্বে নির্মাতারা একবারও অনুমতি নেননি। বিশেষত, সেই ছবি যখন মৃত্যুদৃশ্যের অংশ হিসেবে দেখানো হয়, তখন তা শিল্পীসুলভ সম্মান ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি অপমান হিসেবেই তিনি দেখছেন।
তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন,
“কি ভেবেছিলেন আমি খুব সস্তা? প্রতিবাদ করতে পারবো না? একটা শিল্পীকে কেউ সস্তা করতে পারেন না। আর আমি তো মরে যাইনি যে আমার ছবি ব্যবহার হবে। একবার জিজ্ঞেস করলেই হতো।”
এই বিবৃতিতে তাঁর আক্রোশ স্পষ্ট। বহুদিনের অভিনয়জীবনে তিনি কখনওই এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হননি বলে জানান।

এই ঘটনার একটি বড় দিক হলো শিল্পীদের ব্যক্তিগত অধিকারের প্রশ্ন। কারও ছবি বা ব্যক্তিগত কনটেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সাধারণত লিখিত অনুমতির প্রয়োজন হয়। এটি শুধু আইনগত দিক নয়, নৈতিকতার প্রশ্নও বটে। ধারাবাহিকের মতো জনপ্রিয় মাধ্যম যখন কোনও শিল্পীর ছবিকে সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করে, তখন অনুমতি না নেওয়া আরও বেশি সমস্যাজনক।
নির্মাতা ও প্রযোজনা সংস্থার নীরবতা: শিল্পী–সম্মানের প্রতি উদাসীনতা?
এই অভিযোগ সামনে আসার পরেও এখনও পর্যন্ত ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’-র নির্মাতা, পরিচালক বা প্রযোজনা সংস্থার তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এই নীরবতা আরও প্রশ্ন তৈরি করছে—
• তারা কি ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন?
• না কি দায় স্বীকার এড়াতে অপেক্ষা করছেন?
টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞদের মত, এই ধরনের ঘটনা প্রযোজনা সংস্থার দায়িত্বহীনতা বা পেশাদারিত্বের অভাব নির্দেশ করে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে কোনও ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত ডেটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কপিরাইট ও পারমিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিতর্কের প্রেক্ষাপট: কেন এটি শিল্পী–অধিকারের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে?
এটি নিছক একটি ধারাবাহিকের ছোট ঘটনা নয়—বরং শিল্পীদের অধিকার, সম্মান এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে একটি বহুল আলোচিত উদাহরণ হতে পারে।
১. শিল্পীকে মৃত দেখানো একটি সংবেদনশীল প্রসঙ্গ
বলা হয়, শিল্পী তাঁর পরিচয় ও ইমেজ দিয়ে বেঁচে থাকেন। তাঁকে মৃত্যুদৃশ্যে যুক্ত করা স্বাভাবিকভাবেই মানসিক আঘাতের কারণ হতে পারে।
২. অনুমতি ছাড়া ছবি ব্যবহার আইনগত সমস্যা তৈরি করতে পারে
পরিচালক বা প্রযোজনা সংস্থা চাইলে সহজ এক ফোনকলেই অনুমতি নিতে পারত। অনুমতি না নেওয়া কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
৩. শিল্পীদের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন
বাংলা বিনোদন জগতে শিল্পীরা প্রায়শই সম্মানহানির অভিযোগ তোলেন। এই ঘটনা সেই তালিকায় আরেকটি সংযোজন।
শিল্পীদের সম্মান রক্ষা করা মাধ্যম–সংস্থার নৈতিক দায়
সাগরিকা রায়ের অভিযোগ আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয়—শিল্পীদের সম্মান সর্বাগ্রে। শুধুমাত্র গল্পের প্রয়োজনে বা চিত্রনাট্যের যুক্তিতে শিল্পীদের ব্যক্তিগত ছবি এভাবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি যত জনপ্রিয় হচ্ছে, ততই এই ধরনের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার গুরুত্ব বাড়ছে।
যদি ধারাবাহিকের নির্মাতারা এ বিষয়ে দ্রুত ও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া না দেন, তবে এই বিতর্ক আরও বড় আকার নিতে পারে।
পাঠকদের প্রতি আবেদন:
আপনি এই বিষয়ে কি ভাবছেন? নিচে মন্তব্য করে জানান। আর যদি খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, তবে শেয়ার করে অন্যদেরও জানাতে ভুলবেন না।






