মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির দেরি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেই ভারতীয় রুপি নতুন রেকর্ড নিম্নস্তরে পৌঁছেছে—৮৯.৬১। বছরের শুরু থেকে রুপি ইতিমধ্যে ৪.৬% দুর্বল হয়েছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারী, আমদানিকারক এবং সাধারণ মানুষ—সবাই উদ্বিগ্ন একটি প্রশ্ন নিয়ে: এবার রুপির ভবিষ্যৎ কী?
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও ভূ-রাজনৈতিক চাপে রুপির ধস
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রবাহে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ভারত যেসব মূল ক্ষেত্রের উপর নির্ভর করে—তেল আমদানি, প্রযুক্তি বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম—এসব খাতে ডলার-নির্ভর লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় রুপির ওপরে চাপ আরও তীব্র হয়েছে।
রুপি দুর্বল হলে আমদানির খরচ বাড়ে, বিশেষ করে তেল, ইলেকট্রনিকস ও ফার্মাসিউটিক্যাল কাঁচামালের ক্ষেত্রে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের মুদ্রাস্ফীতিতে এবং সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন খরচে।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিও একই রকম চাপের মুখে রয়েছে—তবে ভারতের বৃহৎ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ আপাতত পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া থেকে রক্ষা করছে।

বাণিজ্য চুক্তির দেরি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দা প্রভাব
রুপি দুর্বল হওয়ার আরেকটি বড় কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোতে বিলম্ব। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের সাথে নতুন বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে আলোচনাগুলো স্থবির হয়ে আছে।
এদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীর। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ সুদের হার নীতির ফলে ডলার শক্তিশালী হচ্ছে, ফলে উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলো আরও চাপে পড়ছে।
রুপি কেন এবার বেশি দুর্বল?
- বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদে (ডলার) ঝোঁক
- বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ কমে যাওয়া
- আমদানি খাতে ডলার চাহিদা বৃদ্ধি
- আন্তর্জাতিক বন্ড বাজারে অস্থিরতা

এখন প্রশ্ন: সামনে কী হতে পারে?
বর্তমান পরিস্থিতি থেকে তিনটি সম্ভাব্য পথ স্পষ্ট—
১. রুপির আরও পতন
যদি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, রুপি ৯০–৯১ এর দিকেও যেতে পারে।
২. নীতিগত হস্তক্ষেপে স্থিতিশীলতা
ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) প্রয়োজন হলে ডলার বিক্রি করে রুপিকে স্থিতিশীল করতে পারে।
৩. দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার
যদি বাণিজ্য চুক্তিগুলো পূর্ণ হয় এবং বিদেশি বিনিয়োগ ফিরে আসে, রুপি আবার শক্তি ফিরে পেতে পারে।
৮৯.৬১—যা রুপির ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানগুলোর একটি—এ মুহূর্তে ভারতীয় অর্থনীতির জন্য সতর্ক সংকেত। তবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কৌশলগত হস্তক্ষেপ, সফল বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি ভবিষ্যতে রুপিকে আরও স্থিতিশীল করতে পারে।
ভারতের অর্থনীতির শক্ত ভিত্তির কারণে আতঙ্কের কারণ এখনই নেই, তবে ঝুঁকি স্পষ্ট।
আপনি এই ধরনের অর্থনৈতিক আপডেট পেতে চাইলে শেয়ার ও কমেন্ট করুন।






