ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কেন্দ্রে আবারও ধাক্কা দিল একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। লালকেল্লা বিস্ফোরণ ষড়যন্ত্রের তদন্তে উঠে এসেছে, এক বিদেশি হ্যান্ডলার এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে এক ভারতীয় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিল এবং তাকে পাঠিয়েছিল ৪২টি বোমা তৈরির ভিডিও। গোয়েন্দা সংস্থার নথি অনুযায়ী, এই ভিডিওগুলো ছিল অত্যন্ত কারিগরি এবং জঙ্গি মডিউল সক্রিয় করার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল।
এই ঘটনার পেছনের নেটওয়ার্ক, যোগাযোগের পদ্ধতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আজকের এই বিশ্লেষণ।
বিদেশি হ্যান্ডলারের গোপন যোগাযোগ কীভাবে কাজ করত
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, লালকেল্লা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা নতুন করে সক্রিয় করে তুলতে বিদেশি হ্যান্ডলার অত্যন্ত উন্নত এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করেছিল। প্রচলিত সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে তারা বেছে নিয়েছিল এমন অ্যাপ, যা end-to-end encryption এর কারণে ট্র্যাক করা কঠিন।
এনক্রিপ্টেড অ্যাপই কেন নির্বাচিত হয়েছিল?
- কথোপকথন ডিকোড করা কঠিন
- মেটাডেটা ট্র্যাকিং সীমিত
- ফাইল শেয়ার—বিশেষ করে ভিডিও—সহজ ও নিরাপদ
- তদন্ত সংস্থার নজর এড়াতে পারে বিশেষভাবে ডিজাইন করা ফিচার
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদেশি হ্যান্ডলার চিকিৎসকের সঙ্গে ধাপে ধাপে যোগাযোগ করত। শুরুতে সাধারণ আলাপ, পরে আদর্শিক বিষয়, এবং তারপর ধীরে ধীরে সন্ত্রাসমূলক কন্টেন্ট পাঠানো শুরু হয়।

৪২টি বোমা তৈরির ভিডিও: তদন্তে কী কী উঠে এসেছে
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়—বিদেশি হ্যান্ডলার যে ভিডিওগুলো পাঠিয়েছিল, সেগুলো ছিল বাস্তবধর্মী, ধাপে ধাপে বোমা তৈরির নির্দেশিকা সম্বলিত।
এই ভিডিওগুলোতে ছিল—
- ব্যবহৃত রাসায়নিকের তালিকা
- মিশ্রণ প্রণালী
- টাইমার সেটআপ ও সার্কিট
- বিস্ফোরণ ক্ষমতা বাড়ানোর পদ্ধতি
- লুকিয়ে রাখার কৌশল
চিকিৎসকের ফোন ও ল্যাপটপ ফরেন্সিক বিশ্লেষণে এই ৪২টি ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিটি ভিডিওর উৎস আলাদা সার্ভার থেকে এসেছে, যা ইঙ্গিত দেয়—এটি কোনও সংগঠিত জঙ্গি চক্রের কাজ।
তদন্তকারীদের মতে এর উদ্দেশ্য কী ছিল?
- ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার প্রস্তুতি
- দেশে নতুন লোক নিয়োগ ও র্যাডিকালাইজেশন
- প্রযুক্তিগত দক্ষতা দিয়ে স্থানীয় মডিউল তৈরি
- আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন
চিকিৎসকই বা কীভাবে যুক্ত হলেন এই চক্রে?
এই ঘটনা আরও বিস্ময়কর কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন চিকিৎসক। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে—
- তিনি ব্যক্তিগতভাবে সামাজিক মাধ্যমে বিদেশি যোগাযোগের সঙ্গে পরিচিত হন
- তাকে ধীরে ধীরে আদর্শিকভাবে প্রভাবিত করা হয়
- আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল
- চিকিৎসককে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ‘কাজ ভাগ করে দেওয়ার’ নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল
তদন্ত সংস্থার বক্তব্য—এটি ছিল “soft recruitment” এর একটি উদাহরণ, যেখানে পেশাদার, শিক্ষিত মানুষকেও সন্ত্রাস নেটওয়ার্কে টেনে আনা হয়।
ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
এই ঘটনা স্পষ্ট করেছে—সন্ত্রাসবাদ এখন আগের মতো সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র এনে কাজ সম্পন্ন করার মডেল অনুসরণ করছে না। বরং ডিজিটাল র্যাডিকালাইজেশন এবং রিমোট অপারেশন-এর মাধ্যমে দেশীয় মডিউল গড়ে তুলছে।
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাকে এখন আরও মনোযোগ দিতে হবে:
- সাইবার নজরদারি
- এনক্রিপ্টেড অ্যাপ মনিটরিং
- ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল যোগাযোগ
- আর্থিক লেনদেন ট্র্যাকিং
- উচ্চশিক্ষিত নাগরিকদের র্যাডিকালাইজেশন প্রতিরোধ

লালকেল্লা বিস্ফোরণ মডিউলে ৪২টি বোমা তৈরির ভিডিও পাঠানোর ঘটনা শুধু একটি জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়ার লক্ষণ নয়—এটি দেখিয়ে দেয়, ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে প্রযুক্তি-নির্ভর সন্ত্রাসবাদের একটি জটিল রূপ দাঁড়িয়ে আছে।
এই ঘটনার তদন্ত চলছে এবং গোয়েন্দারা নিশ্চিত—এই নেটওয়ার্ককে ছিন্ন করতেই হবে, নইলে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারত।
👉 আপনি যদি দেশ, নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ ও জাতীয় ইস্যুতে আপডেট থাকতে চান, তবে এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন। মন্তব্যে জানান আপনার মতামত। আরও বিশ্লেষণ পড়তে আমাদের প্ল্যাটফর্ম অনুসরণ করুন।






