প্রতিবেদন | The Indian Chronicles | ৬ আগস্ট ২০২৫
মার্কিন বাণিজ্য নীতির সম্ভাব্য ধাক্কা, রুপি দুর্বলতার শঙ্কা, বৈশ্বিক আর্থিক অস্থিরতা—এই তিনের মাঝে দাঁড়িয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ঋণনীতি কমিটির (MPC) বৈঠকের পর শুক্রবার ঘোষণা করা হয়, সুদের হার বা রেপো রেট ৫.৫ শতাংশেই রাখা হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে যখন আশঙ্কা ছড়াচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি ঘিরে, তখন ভারতের রফতানি ও বিনিয়োগে সম্ভাব্য প্রভাব পড়ার পূর্বাভাস দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। রুপির দাম কমলে আমদানির খরচ বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মুদ্রাস্ফীতিতে। ঠিক এই সময়েই রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখে ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখল আরবিআই।
টাকা ও শুল্কের টানাটানি: পটভূমি
ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের নির্বাচনী ময়দানে। তাঁর নতুন শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি মার্কিন বাজার থেকে শুরু করে ভারতীয় বাজারেও চাপ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার কমালে রুপি আরও দুর্বল হতো, যার ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ত।
আরবিআই তাই কৌশলী সিদ্ধান্ত নিয়েছে—‘অপেক্ষা ও নজরদারি’র পথ বেছে নিয়েছে।
RBI গভর্নরের বার্তা
গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, “মূল মুদ্রাস্ফীতি ৪ শতাংশের আশেপাশে রয়েছে। এখনই সুদের হারে হস্তক্ষেপ না করাই সঠিক।” তিনি জানান, RBI ভবিষ্যতের পরিস্থিতি বিবেচনা করে নীতিগত পরিবর্তন আনতে দ্বিধা করবে না।
আগের সিদ্ধান্ত ও বর্তমান স্থিতি
চলতি অর্থবর্ষের শুরুতেই RBI রেপো রেট ৬% থেকে ৫.৫%-এ নামিয়েছিল। পাশাপাশি CRR কমিয়ে ৪% থেকে ৩% করেছে। এর ফলে বাজারে তারল্য বেড়েছে। এই মুহূর্তে নতুন করে সুদের হার কমানোর প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
GDP প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য আরবিআই জানিয়েছে, ভারতের বাস্তব GDP বৃদ্ধির হার হবে ৬.৫%। ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পূর্বাভাস:
- দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক: ৬.৭%
- তৃতীয় ত্রৈমাসিক: ৬.৬%
- শেষ ত্রৈমাসিক: ৬.৩%
সাধারণ মানুষের জন্য কী বার্তা?
সুদের হার অপরিবর্তিত থাকায় হোম লোন, গাড়ি লোন বা পার্সোনাল লোনের EMI-তে এখনই কোনও পরিবর্তন আসছে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয়, ফিক্সড ডিপোজিট ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্ববাজারে যখন অস্থিরতা বাড়ছে, তখন আরবিআই-এর এই ‘স্টেবল’ অবস্থান সাধারণ মানুষের জন্য খানিকটা স্বস্তির, অন্তত আপাতত।






