ভারতীয় সিনেমার বক্স অফিস ইতিহাসে শনিবার মানেই শক্তি প্রদর্শনের দিন। কিন্তু দ্বিতীয় শনিবারে সাধারণত ছবির গতি কিছুটা কমে—এই অঘোষিত নিয়মটাই ভেঙে দিলেন রণবীর সিং। তাঁর অভিনীত ‘ধুরন্ধর’ দ্বিতীয় শনিবারে ₹৫৩.৭০ কোটি টাকার ব্যবসা করে এমন এক নজির গড়ল, যা আগে কোনও ভারতীয় ছবি ছুঁতে পারেনি।
এই সাফল্য শুধুই সংখ্যার খেলা নয়। এটি আস্থা, ধারাবাহিকতা ও প্রভাবের এক বিরল সমন্বয়। মুক্তির পর থেকে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চলেছে ‘ধুরন্ধর’, আর দ্বিতীয় শনিবারের এই ঐতিহাসিক অঙ্ক ছবিটির শক্তিশালী ওয়ার্ড অব মাউথের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
বর্তমানে ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ₹৩০৬.৪০ কোটি। যেখানে অধিকাংশ ছবির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সপ্তাহে দর্শকসংখ্যা কমতে থাকে, সেখানে ‘ধুরন্ধর’ উল্টো গতি পেয়েছে। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ভিড় প্রমাণ করে দিচ্ছে—এটি কেবল বড় মাপের ছবি নয়, বরং একটি ‘রিপিট ভ্যালু’ সম্পন্ন সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা।
এই সাফল্যের কেন্দ্রে রয়েছেন রণবীর সিং। তাঁর উপস্থিতি, পারফরম্যান্স ও বিশ্বাসযোগ্যতা ছবিটিকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ভারতীয় সিনেমায় এমন দ্বিতীয় শনিবারের নজির আগে কখনও দেখা যায়নি—এবং সেখানেই ইতিহাস রচনা করলেন রণবীর।
দ্বিতীয় শনিবারে রেকর্ড: বক্স অফিসে ‘ধুরন্ধর’ ঝড়


দ্বিতীয় শনিবারে ₹৫৩.৭০ কোটির ব্যবসা—এই পরিসংখ্যান ভারতীয় বক্স অফিসের ভাষাই বদলে দিয়েছে। সাধারণত ওপেনিং উইকএন্ডের পর ছবির গ্রাফ ধীরে ধীরে নামতে শুরু করে। কিন্তু ‘ধুরন্ধর’ সেই প্রচলিত ধারাকে কার্যত উল্টে দিয়েছে।
ট্রেড বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হল দুর্দান্ত ওয়ার্ড অব মাউথ। দর্শকরা শুধু একবার দেখেই থেমে থাকেননি, বরং আবার হলে ফিরেছেন। শহর থেকে মফস্বল—সব জায়গাতেই শো হাউসফুল থাকার খবর মিলেছে।
এই রেকর্ড আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, এর আগে বহু মেগা-স্টার ও বড় বাজেটের ছবি এলেও কেউ দ্বিতীয় শনিবারে এই অঙ্ক ছুঁতে পারেনি। ‘ধুরন্ধর’ প্রমাণ করে দিল, তার গতি কেবল প্রথম সপ্তাহে সীমাবদ্ধ নয়—এটি দীর্ঘ দৌড়ের ঘোড়া।
বক্স অফিসের ভাষায়, এমন পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের মুক্তি পরিকল্পনাকেও প্রভাবিত করবে। দ্বিতীয় সপ্তাহের শনিবার যে আবারও বড় অঙ্ক আনতে পারে, ‘ধুরন্ধর’ সেটাই দেখিয়ে দিল।
রণবীর সিংয়ের অভিনয়: শক্তি, সংযম ও বিস্ফোরণের নিখুঁত মেলবন্ধন

সমালোচক ও দর্শক—উভয়ের কাছেই রণবীর সিংয়ের অভিনয় এই ছবির সবচেয়ে বড় সম্পদ। ‘ধুরন্ধর’-এ তিনি দেখিয়েছেন এক পরিণত, নিয়ন্ত্রিত এবং গভীর অভিনয়, যেখানে অতিনাটক নেই, কিন্তু প্রভাব প্রবল।
চরিত্রের প্রতিটি আবেগ তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন সূক্ষ্মতার সঙ্গে। কোথাও নীরব দৃষ্টি, কোথাও সংযত রাগ, আবার প্রয়োজনে বিস্ফোরক শক্তি—সব মিলিয়ে এক পূর্ণাঙ্গ পারফরম্যান্স। অনেকেই এটিকে তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় বলে অভিহিত করছেন।
এই অভিনয়ের কারণেই দর্শক চরিত্রটির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারছেন। গল্পের ভার তিনি একাই কাঁধে তুলে নিয়েছেন, আর সেই দায়িত্ব তিনি নিখুঁতভাবে পালন করেছেন। প্রতিটি ফ্রেমে তাঁর উপস্থিতি ছবিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এই বিশ্বাসযোগ্যতাই বক্স অফিসের সাফল্যের মূল চালিকা শক্তি। দর্শক জানেন—রণবীর মানেই মানসম্মত পারফরম্যান্স। ‘ধুরন্ধর’ সেই আস্থাকেই আরও পোক্ত করল।
প্রজন্মের সেরা অভিনেতা থেকে বক্স অফিসের মানদণ্ড: রণবীরের উত্তরাধিকার


Search Text: Ranveer Singh career milestones
Caption: সাফল্যের নতুন অধ্যায়—‘ধুরন্ধর’ দিয়ে রণবীর সিংয়ের কেরিয়ারে ঐতিহাসিক মুহূর্ত
Alt Text: রণবীর সিংয়ের কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হিসেবে ধুরন্ধরের সাফল্য
বছরের পর বছর ধরে রণবীর সিং প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু হিট অভিনেতা নন—তিনি একজন মানদণ্ড নির্ধারক শিল্পী। বিভিন্ন ঘরানা, ভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করেছে।
‘ধুরন্ধর’ সেই উত্তরাধিকারকে আরও শক্তিশালী করল। ₹৩০৬.৪০ কোটির মোট আয় এবং দ্বিতীয় শনিবারে সর্বোচ্চ ব্যবসা—এই যুগলবন্দি তাঁকে বক্স অফিস ইতিহাসে এক অনন্য জায়গায় বসিয়েছে।
এই সাফল্য ভবিষ্যতের জন্যও দিশা দেখায়। প্রযোজক, পরিবেশক ও নির্মাতাদের কাছে এটি স্পষ্ট বার্তা—শক্তিশালী কনটেন্ট ও বিশ্বাসযোগ্য অভিনয় থাকলে দর্শক শেষ পর্যন্ত হলে আসবেই।
রণবীর সিং এখন আর শুধু একজন সফল অভিনেতা নন, তিনি এক ‘ফেনোমেনন’। তাঁর প্রতিটি নতুন ছবি নতুন প্রত্যাশা তৈরি করে—আর ‘ধুরন্ধর’ সেই প্রত্যাশার ভার অনায়াসে বহন করেছে।
‘ধুরন্ধর’-এর দ্বিতীয় শনিবারের রেকর্ড কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি বৃহত্তর সত্যের প্রতিফলন। রণবীর সিংয়ের অভিনয়, ছবির গল্প ও দর্শকের আস্থা—এই তিনের মিলনেই জন্ম নিয়েছে ইতিহাস। ₹৫৩.৭০ কোটির দ্বিতীয় শনিবার ও ₹৩০৬.৪০ কোটির মোট আয় শুধু সংখ্যা নয়, এটি আধুনিক ভারতীয় সিনেমার শক্তির ঘোষণাপত্র। রণবীর সিং আবারও প্রমাণ করলেন—তিনি কেবল হিট দেন না, তিনি মানদণ্ড তৈরি করেন।






