রণবীর সিংহ যেন আবারও প্রমাণ করলেন—তাঁর হাতে থাকলে পর্দা থমকে যায়, আর দর্শক মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে। নতুন ছবি ‘ধুরন্ধর’ মুক্তির প্রথম দিনেই বক্স অফিসে দাপট দেখিয়ে তুলল ₹28.60 কোটি—একেবারে ঝড়তোলা শুরু। এমন শক্তিশালী উদ্বোধন বলিউডে বছরের শেষ ভাগে নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছে।
অদিত্য ধর পরিচালিত এই অ্যাকশন-ড্রামায় রণবীর সিংহের চরিত্র হামজা, যাকে ঘিরেই ছবির উত্তেজনা, আবেগ, অ্যাকশন আর রোমাঞ্চ। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ও ক্রিটিকদের রিভিউতে একটাই সুর—রণবীর তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সাহসী, বহুমাত্রিক, এবং আগুনে ভরপুর অভিনয় দিয়েছেন।
শুক্রবার সকালে আর্লি শো থেকেই থিয়েটারে দর্শকের ভিড় বাড়তে থাকে। দুপুর-সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হতে না হতেই একাধিক প্রেক্ষাগৃহে মিডনাইট শো যোগ করতে বাধ্য হয় মাল্টিপ্লেক্স চেনগুলো। এ যেন খাঁটি ওয়ার্ড-অফ-মাউথ–এর শক্তি—যেখানে দর্শকই ছবির সবচেয়ে বড় প্রচারক।
চাহিদার এই তুঙ্গ মুহূর্তে বাজার বিশ্লেষকরা পরিষ্কার জানাচ্ছেন, ‘ধুরন্ধর’ কেবল শক্তিশালী ওপেনিং নয়, বরং বড়সড় উইকএন্ড রান–এর ইঙ্গিতও দিচ্ছে। দর্শকের মুখে একটাই কথা—“এমন অ্যাকশন, এমন আবেগ, আর এমন রণবীর—দীর্ঘদিন পর!”
রণবীর সিংহের ‘হামজা’: বছরের সবচেয়ে বিদ্যুতায়িত পারফরম্যান্স

রণবীর সিংহ বলিউডের সবচেয়ে এক্সপেরিমেন্টাল ও ট্রান্সফরমেটিভ অভিনেতাদের একজন—এটা বহুদিনের সত্যি। কিন্তু ‘ধুরন্ধর’-এ তিনি যেন নিজের সীমানা আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিলেন। হামজা চরিত্রে তাঁর ফিজিক্যাল ট্রান্সফরমেশন, ইমোশনাল ইন্টেনসিটি, এবং অ্যাকশন সিকোয়েন্সে বিস্ফোরক উপস্থিতি—সব মিলিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের অভিভূত করেছে।
ট্রেড অ্যানালিস্টদের ভাষায়,
“রণবীর সিংহ এই প্রজন্মের সবচেয়ে সাহসী পারফরমার। হামজাকে যেভাবে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন, তা বলিউডে বিরল।”
রিভিউতে বারবার উঠে আসছে তিনটি শব্দ—
“Unmatched.” “Electrifying.” “Finest.”
হামজার প্রতিটি ফ্রেমে রণবীরের শক্তিশালী শরীরী ভাষা, গভীর চোখের ভাষা, আর নিখুঁত ডায়ালগ ডেলিভারি তাঁকে একেবারে পর্দার কেন্দ্রে স্থাপন করেছে। ছবির মাঝামাঝিতে তাঁর কয়েকটি দৃশ্য দর্শককে শিহরিত করে—যা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হচ্ছে।
বক্স অফিসে আগুন: প্রথম দিনের ₹28.60 কোটি এবং বাড়তে থাকা দাপট

মুক্তির প্রথম দিনেই ছবির ₹28.60 কোটি আয় 2025 সালের অন্যতম শক্তিশালী ওপেনিং হিসাবে চিহ্নিত হচ্ছে। হিন্দি বাজারে যেখানে বছরের শুরুটা ধীর ছিল, সেখানে ‘ধুরন্ধর’ যেন নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে।
প্রেক্ষাগৃহগুলির তথ্য বলে—
- মর্নিং শোতে উচ্চ দখলদারিত্ব,
- দুপুর থেকে রাত অবধি মাসিভ জাম্প,
- এবং দর্শকের প্রবল চাহিদায় মিডনাইট শো যুক্ত হওয়া—সবকিছুই স্পষ্ট করে যে সামনে আরও বড়তর সংখ্যা অপেক্ষা করছে।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া এই সাফল্যের প্রধান চালিকাশক্তি। ছবি দেখে বেরোনোর পর তাঁদের মুখে একটাই কথা—
“স্কেল নিয়ে বললে—হল থরথর করে কেঁপে উঠছিল। রণবীর সিংহ পর্দা ফাটিয়ে দিয়েছেন।”
টিকিটিং পোর্টালগুলিতেও ‘ধুরন্ধর’ টপ ট্রেন্ড করছে। বুকিং-এর তরঙ্গ এখনো থামেনি, বরং শনিবার-রবিবারে হাউসফুল শো বাড়বে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
দর্শকের প্রতিক্রিয়ায় আগুন: গুজবাম্পস-মোমেন্টে ভরপুর ‘ধুরন্ধর’

থিয়েটার থেকে বেরিয়ে আসা দর্শকদের রিভিউ যেন ছবির সাফল্যের জ্বালানি। তাঁরা শুধু স্কেল বা অ্যাকশন নয়—হামজার চরিত্রে রণবীর সিংহের গভীর আবেগ, তীব্রতা এবং মানবিক দিকের প্রশংসা করছেন।
দর্শকের মন্তব্য—
- “হামজা চরিত্রটাই শিস-যোগ্য!”
- “রণবীর সিংহকে এর আগে কখনো এমন দেখিনি।”
- “শেষ ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে দেখা যায়—এমন গ্র্যান্ড এবং তীব্র পরিণতি!”
এমন ইতিবাচক রিভিউয়ের কারণে ছবির ওয়ার্ড-অফ-মাউথ এখন আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করছে।
সিনেমা হলগুলোর পরিবেশে এখনো উত্তেজনার রেশ—যা প্রমাণ করছে যে ‘ধুরন্ধর’ কেবল একটি ছবি নয়, বরং ২০২৫-এর অন্যতম বড় থিয়েট্রিকাল ইভেন্ট।
‘ধুরন্ধর’ শুধু শক্তিশালী ওপেনিং দিয়েই থেমে থাকছে না—এটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে দর্শকরা এখনও বড় স্কেল, দারুণ অভিনয় এবং থিয়েট্রিকাল অভিজ্ঞতাকে সমানভাবে ভালোবাসেন। রণবীর সিংহ তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে ছবিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন, আর পরিচালক অদিত্য ধর তাঁদের যৌথ ভিশনকে রূপ দিয়েছেন এক অনবদ্য অ্যাকশন-ড্রামায়।
উইকএন্ডের আগাম বুকিং রিপোর্ট, অনলাইন আলোচনা, দর্শকের উচ্ছ্বাস এবং সমালোচকদের প্রশংসা—সব মিলিয়ে ‘ধুরন্ধর’ বলিউডে এক বিরল, উজ্জ্বল, এবং ঐতিহাসিক সাফল্যের পথে হাঁটছে।
রণবীর সিংহের এই আগুনে ফেরা শুধু তাঁর ক্যারিয়ারের নতুন মাইলস্টোন নয়—২০২৫ সালের ভারতীয় সিনেমারও এক গৌরবময় মুহূর্ত।






