রণবীর সিংহের অভিনয়প্রতিভা নিয়ে দেশের সিনেমাপ্রেমীদের প্রশংসা নতুন কিছু নয়। তবে ধুরন্ধর মুক্তির পর যে পরিমাণ উচ্ছ্বাস, আলোড়ন এবং জাতীয় আলোচনার ঝড় তৈরি হয়েছে—তা সাম্প্রতিক বলিউডে সত্যিই বিরল। ছবিটি মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের প্রতিক্রিয়া একই সুরে গেয়েছে—রণবীর সিংহ এমন এক সংযমী অথচ বিস্ফোরক অভিনয় দিয়েছেন, যা তীব্রতা, আবেগ এবং বহুমুখীতার এক অনন্য সমন্বয়।
একদিকে সিনেমা হলে হাউসফুল শোয়ের জোয়ার, অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত উচ্ছ্বাসের ঢেউ—সবকিছু মিলিয়ে ধুরন্ধর আজ শুধু একটি ছবি নয়; এটি রণবীর সিংহ নামের এক অভিনেতার শক্তি, শৃঙ্খলা এবং নিষ্ঠার উদযাপন। সমালোচকদের রিভিউ হোক বা সাধারণ দর্শকের প্রতিক্রিয়া—সকলেই বারবার একটিই কথা বলছেন: “এটি রণবীরের সেরা অভিনয়গুলোর একটি।”
এই প্রশংসার তালিকায় এবার যুক্ত হল দক্ষিণ ভারতের সুপারস্টার, জাতীয় পুরস্কার–জয়ী অভিনেতা আল্লু অর্জুনের নাম। ছবিটি দেখার পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় যা লিখলেন, তা রণবীরকে নিয়ে চলা আলোচনাকে আরও উষ্ণ করে তুলেছে।
আল্লু অর্জুনের প্রশংসা: রণবীরের বহুমুখীতায় মুগ্ধ এক সুপারস্টার

আল্লু অর্জুনের প্রশংসাপত্রটিকে অনেকেই বলছেন—‘এক তারকার প্রতি আরেক তারকার হৃদয় নিংড়ানো সম্মান’। তিনি লিখেছেন, “Just watched #Dhurandhar. A brilliantly made film filled with fine performances, the finest technical aspects, and amazing soundtracks.” তিনি বিশেষভাবে রণবীরের অভিনয়ের প্রসঙ্গ টেনে যোগ করেন, “Magnetic presence by my brother Ranveer Singh, he rocked the show with his versatility.”
এই প্রশংসা যে কেবল বন্ধুত্বসুলভ নয়, বরং গভীরভাবে একজন শিল্পীর প্রতি আরেক শিল্পীর সম্মান—তা পরিষ্কার। রণবীরের অভিনয়ের মধ্যে যে শক্তি, আবেগ, রূপান্তরক্ষমতা এবং চরিত্র বিল্ডিংয়ের নিখুঁত ক্ষমতা ফুটে ওঠে, তারই স্বীকৃতি এই মন্তব্য।
অর্জুন এখানেই থামেননি। তিনি অক্ষয় খন্নার “কারিশম্যাটিক অরা”, সঞ্জয় দত্ত, মাধবন ও অর্জুন রামপালের “রক-সলিড প্রেজেন্স”, এবং সারা অর্জুনের “সুইট প্রেজেন্স”—সবকিছুকেই আলাদাভাবে উল্লেখ করেন। সঙ্গে ধন্যবাদ জানান নির্মাতা আদিত্য ধর, জিও স্টুডিওস এবং প্রযোজক জ্যোতি দেশপান্ডেকে।
তাঁর এই মন্তব্য স্পষ্ট প্রমাণ—ধুরন্ধর কেবল অভিনয় নয়; টেকনিক্যাল দক্ষতা, সাউন্ড ডিজাইন, স্টোরিটেলিং এবং গ্র্যান্ড ভিশনের মিলিত এক পরিণতি।
সমালোচকদের সর্বসম্মত অভিমত: রণবীর সিংহের ক্যারিয়ারের ‘উচ্চতম বিন্দু’

ছবিটি মুক্তির প্রথম দিন থেকেই সমালোচকদের রিভিউ একই সুর তুলেছে—রণবীর সিংহ এই চরিত্রটিকে কেবল অভিনয় করেননি; তিনি চরিত্রে অবগাহন করেছেন। কখনও অগ্নিময় বিস্ফোরকতা, কখনও দহন করা নীরবতা, কখনও আবেগের টানাপোড়েন—রণবীর প্রতিটি শেডকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন অসাধারণ দক্ষতায়।
সমালোচকদের মতে—
- তিনি চরিত্রটির শারীরিকতা, মানসিক চাপ, দ্বন্দ্ব এবং উদ্দেশ্যকে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যা দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করে।
- তার ভোকাল মড্যুলেশন, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এবং চোখের অভিনয় ছবিটিকে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
- অ্যাকশন ও ড্রামা উভয় সেগমেন্টেই তিনি এমন নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছেন, যা এই প্রজন্মের খুব কম অভিনেতার ঝুলিতে রয়েছে।
বহু সমালোচকের মতে, ধুরন্ধর হলো সেই চলচ্চিত্র যেখানে রণবীর দেখিয়ে দিলেন—তিনি কেবল একটি শক্তিশালী তারকাই নন; তিনি একজন গভীর ও পরিণত পারফর্মার, যে চরিত্রকে নিজের মধ্যে শোষণ করে নিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারে।
দর্শকদের বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া: হাউসফুল শো, পুনরায় দেখা, এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্যানস্টর্ম

ইন্ডাস্ট্রির আলোচনার বাইরেও দর্শকেরা প্রত্যক্ষভাবে এই ছবিকে গ্রহণ করেছেন। দেশের নানা প্রান্তে ধুরন্ধর চলছে একাধিক হাউসফুল শোতে, অনেকে দ্বিতীয়-তৃতীয়বার ছবিটি দেখছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় রণবীরের অভিনয়ের ক্লিপ, ফ্যান এডিট এবং আবেগঘন রিভিউতে ভরে উঠেছে টাইমলাইন।
দর্শকদের মতে—
- “এটি রণবীরের এমন এক রূপ, যা আমরা বহুদিন ধরে দেখতে চেয়েছিলাম।”
- “তার উপস্থিতি পুরো পর্দাকে দখল করে রাখে।”
- “এই চরিত্রটি তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।”
ছবিটি শুধু টিকিট বিক্রির হিসেবেই নয়; সাংস্কৃতিক আলোচনায়ও এক বিশাল জায়গা দখল করে ফেলেছে। প্রায় প্রত্যেকেই এক মত—রণবীর সিংহ আবারও প্রমাণ করলেন, কেন তিনি এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা অভিনেতা।
ধুরন্ধর যে রণবীর সিংহের ক্যারিয়ারের একটি গৌরবময় অধ্যায় হয়ে থাকবে, তা এখন নিয়েই সন্দেহ নেই। আল্লু অর্জুনের মতো শিল্পীর প্রশংসা কেবল প্রতিভার স্বীকৃতি নয়; এটি একটি বার্তা—রণবীর সিংহ এখনো ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, সবচেয়ে পরীক্ষিত এবং সবচেয়ে বহুমুখী অভিনেতাদের একজন।
সমালোচকদের সর্বসম্মত প্রশংসা, দর্শকদের অপরিসীম ভালোবাসা এবং ইন্ডাস্ট্রির শ্রদ্ধা—সব মিলিয়ে ধুরন্ধর আজ রণবীর সিংহ নামের এক শিল্পীর অসামান্য দক্ষতার উদযাপনে পরিণত হয়েছে। এটি সেই প্রমাণ যে তিনি শুধু তারকা নন—তিনি একজন সত্যিকারের পারফর্মার। এবং এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা।






