বলিউডে ভিজ্যুয়াল গ্র্যান্ডিয়র, রঙিন গল্প বলা এবং আবেগময় প্রেমের নাট্যরূপ মানেই সঞ্জয়লীলা ভন্সালি। তাঁর পরিচালিত গোলিয়োঁ কি রাসলীলা রাম-লীলা আজ ১২ বছর পূর্ণ করল—একটি চলচ্চিত্র যা এখনও দর্শককে মুগ্ধ করে রাখে তার আড়ম্বরপূর্ণ সেট, শক্তিশালী অভিনয়, এবং রণবীর সিং–দীপিকা পাড়ুকোনের অমলিন পর্দা chemistry দিয়ে।
শেক্সপিয়রের Romeo and Juliet–এর ‘দেশি’ ব্যাখ্যান, কঠোর ট্রেনিং, বিশাল বাজেট, অসামান্য সঙ্গীত—সব মিলিয়ে এই ছবিটি হয়ে উঠেছিল বলিউডের এক মাইলস্টোন। এখানে রইল রাম-লীলার ১২টি চমকপ্রদ তথ্য, যা ছবিটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
১. শেক্সপিয়রের ক্লাসিক প্রেমকাহিনির দেশি রূপ
গোলিয়োঁ কি রাসলীলা রাম-লীলা হল Romeo and Juliet–এর এক সাহসী এবং রঙিন ভারতীয় রূপান্তর। কাহিনিটি দুই শত্রু গুজরাটি সম্প্রদায়ের বিরোধকে কেন্দ্র করে, যেখানে রাম ও লীলা নিষিদ্ধ প্রেমের পথে এগিয়ে চলে। ভন্সালির স্টাইলাইজড গল্প বলা, লোকসংস্কৃতির ব্যবহার এবং গ্র্যান্ড সেট এই ক্লাসিক কাহিনিকে নতুন মাত্রা দেয়।

২. রণবীর সিংয়ের ১২ সপ্তাহের ম্যাসিভ ট্রান্সফরমেশন
রণবীর সিংকে চরিত্র অনুযায়ী ফিট রাখতে ভন্সালি মুম্বাই ফিল্ম সিটি সেটেই জিম তৈরি করেছিলেন। রণবীরকে কঠোর উচ্চ-প্রোটিন ডায়েট, দিনে দু’বার ওয়ার্কআউট এবং সম্পূর্ণ ডিসিপ্লিন বজায় রেখে ১২ সপ্তাহে নিজের লুক তৈরি করতে হয়েছিল।
এমন মনোযোগই তাঁর অভিনয় এবং শারীরিক উপস্থিতিকে ছবিতে আলাদা করে তুলে ধরেছে।
৩. ভন্সালির দ্বৈত প্রতিভা: পরিচালক থেকে সুরকার
ছবিটির সমস্ত গান নিজে সুর করেছেন সঞ্জয়লীলা ভন্সালি। এটি তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র যেখানে তিনি মিউজিক ডিরেক্টরের ভূমিকায় ছিলেন।
“লহু মুনহ লাগ গ্যায়া”, “নাগাড়ো সাঙ ঢোল”, “মোর বাণি ঠংঘাট করে”—প্রতিটি গানই চার্টবাস্টার হয়েছিল। আজও বিবাহ, উৎসব এবং ডান্স পারফরম্যান্সে এগুলোর জনপ্রিয়তা অটুট।

৪. দীপিকার ৩০ কেজির ঘাগরা—যার ঘেরা ৫০ মিটার!
রাম-লীলার অন্যতম আলোচিত দিক ছিল দীপিকা পাড়ুকোনের কস্টিউম। তাঁর পরা কিছু ঘাগরা ছিল ৩০ কেজি ওজনে, আর এর ‘ঘেরা’ ছিল প্রায় ৫০ মিটার!
গান ও নাচের সিকোয়েন্সে এমন ভারী পোশাক সামলানো ছিল ভীষণ চ্যালেঞ্জিং, তবে দীপিকার দৃঢ়তা ও দক্ষতা সেটিকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।
৫. এখান থেকেই শুরু ‘দীপবীর’
এই ছবিই রণবীর সিং এবং দীপিকা পাড়ুকোনের প্রথম অনস্ক্রিন জুটি। তাঁদের chemistry এতটাই আগুন লাগানো ছিল যে দর্শক পর্দার বাইরে তাঁদের প্রেমের গুঞ্জনও শুনতে শুরু করে। পরে এটি সত্যি হয়, এবং ‘দীপবীর’ বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় দম্পতি হয়ে ওঠে।

৬. বরফজলে শুটিং: আঘাত পেলেও থামেননি দীপিকা
উদয়পুরে একটি পানির দৃশ্য শুটের সময় চরম ঠান্ডা পরিস্থিতির মধ্যে দীপিকা আঘাত পেলেও শুটিং চালিয়ে যান। কারণ, শুট পুনরায় করা হলে পুরো সময়সূচি নষ্ট হয়ে যেত। একজন পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর দায়বদ্ধতা এখানে স্পষ্ট।
৭. ‘তত্তড় তত্তড়’ এর জন্য ৩০টি কস্টিউম ট্রায়াল
রণবীর সিং–এর এনার্জেটিক গান “তত্তড় তত্তড়”–এর জন্য তিনি ৩০টি কস্টিউম ট্রায়াল করেছিলেন। কিন্তু শেষে ভন্সালি বলেছিলেন—“শার্টটা খুলেই নাচো”। গানটির কাঁচা এনার্জি এবং রণবীরের উপস্থিতি এটিকে আজও cult favourite করে রেখেছে।

৮. ‘লীলা’ নামটির আবেগী সংযোগ
লীলা চরিত্রের নাম আসলে ভন্সালির মা লীলা ভন্সালির নামে রাখা। এ থেকেই বোঝা যায়, ছবির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত আবেগও জড়িয়ে ছিল।
৯. ‘মোর বাণি ঠংঘাট করে’: ইতিহাসে ভর করা গান
গানটি আসলে ১৯৪১ সালে গুজরাটি কবি ঝাভেরচন্দ্র মেঘানির লেখা একটি লোকগীতির উপর ভিত্তি করে। ভন্সালি সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক সিনেমাটিক আঙ্গিকে তুলে ধরেছেন।
১০. প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার স্মরণীয় স্পেশাল অ্যাপিয়ারেন্স
“রাম ছেহে লীলা”–তে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বিশেষ উপস্থিতি ছবিটিকে আরও গ্ল্যামারাস করে তোলে। তাঁর নাচ, স্ক্রিন প্রেজেন্স ও স্টাইল এই গানটিকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যায়।
১১. ১০ দিনের মধ্যেই ১০০ কোটির ক্লাব!
প্রায় ₹৮০ কোটির বাজেটের এই ছবি মাত্র ১০ দিনেই ₹১০০ কোটি আয় করে। এটি ছিল ভন্সালি এবং রণবীর সিং–এর প্রথম ১০০ কোটির হিট।
অবশেষে এটি ২০১৩ সালের চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী বলিউড ছবির রেকর্ড ধরে।
১২. পুরস্কার জয়ের ঝড়
দীপিকা পাড়ুকোন Best Actress এবং সুপ্রিয়া পাঠক Best Supporting Actress সহ ছবিটি একাধিক Filmfare Awards জেতে। ভন্সালির কারিগরি দক্ষতা ও নান্দনিকতা পুরস্কার সমালোচকদের কাছ থেকেও ব্যাপক প্রশংসা পায়।
১২ বছরে রাম-লীলার চিরন্তনত্ব
১২ বছর পরও গোলিয়োঁ কি রাসলীলা রাম-লীলা বলিউড প্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে রেখেছে। ভিজ্যুয়াল গ্র্যান্ডিয়র, তীব্র প্রেম, শক্তিশালী অভিনয় ও সুর—all together এক মহাকাব্যিক সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা।
যারা এখনও এই ছবি দেখেননি, অবশ্যই দেখে নিন। আর যদি দেখে থাকেন—তাহলে বলুন, কোন তথ্যটি আপনাকে সবচেয়ে বিস্মিত করেছে?






