পূর্বাঞ্চলের অপরাধ-রাজনীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কাহিনি আবারও ফিরে আসছে পর্দায়। বহু প্রতীক্ষিত ক্রাইম-ড্রামা ওয়েব সিরিজ ‘রক্তাঞ্চল’-এর তৃতীয় সিজন অবশেষে ফ্লোরে গিয়েছে। লখনউ ও বারাণসীকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে শুটিং, যা সিরিজটির বাস্তবতা ও মাটির গন্ধ বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন অনেকে।
২০২০ সালে প্রথম মুক্তির পর থেকেই ‘রক্তাঞ্চল’ দর্শকদের মধ্যে আলাদা জায়গা করে নেয় তার নির্মম বাস্তববাদ, শক্তিশালী চরিত্রায়ণ ও টানটান রাজনৈতিক আবহের জন্য। আশির দশকের পূর্ব উত্তরপ্রদেশের টেন্ডার মাফিয়া, গ্যাং-যুদ্ধ ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কাহিনি এক নতুন মাত্রা পায় এই সিরিজে। দ্বিতীয় সিজন সেই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে, রেখে যায় বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন।
এবার সিজন ৩-এ সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার পাশাপাশি গল্প আরও গভীরে প্রবেশ করবে বলে ইঙ্গিত মিলছে। নির্মাতারা যদিও এখনই গল্পের খুঁটিনাটি প্রকাশ করতে নারাজ, তবে জানা যাচ্ছে—নতুন সিজনে ক্ষমতার পালাবদলের ফলাফল, চরিত্রগুলির ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এবং আরও তীব্র সংঘাতই হবে মূল আকর্ষণ।
সবচেয়ে বড় খবর, আগের সিজনগুলিতে দর্শকের মন জয় করা ক্রান্তি প্রকাশ ঝা আবারও ফিরছেন তাঁর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। তাঁর সঙ্গে থাকছেন নিকিতিন ধীর-সহ আরও পরিচিত মুখ, যাঁদের পারফরম্যান্স ‘রক্তাঞ্চল’-এর কেন্দ্রীয় দ্বন্দ্বকে আরও শক্তিশালী করেছিল।
লখনউ ও বারাণসীতে শুটিং: বাস্তবতার খোঁজে ‘রক্তাঞ্চল’

Search Text: Raktanchal Season 3 shooting Lucknow Varanasi
Caption (BN): লখনউ ও বারাণসীর বাস্তব লোকেশনে শুটিংয়ে ‘রক্তাঞ্চল সিজন ৩’
Alt Text (BN): লখনউ ও বারাণসীর রাস্তায় ‘রক্তাঞ্চল সিজন ৩’-এর শুটিং দৃশ্য
‘রক্তাঞ্চল’-এর সবচেয়ে বড় শক্তি তার লোকেশন ও পরিবেশ। পূর্ব উত্তরপ্রদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলতে লখনউ ও বারাণসীর মতো শহরের বিকল্প নেই। পুরনো গলি, প্রশাসনিক ভবন, নদীতীর—সব মিলিয়ে এই অঞ্চল সিরিজটিকে দিয়েছে এক অনন্য চরিত্র।
নির্মাতাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, “রক্তাঞ্চল সবসময়ই নিজের শিকড়ের প্রতি সৎ থেকেছে। লখনউ ও বারাণসীতে শুটিং করলে যে আবহ ও সূক্ষ্ম ডিটেইল পাওয়া যায়, সেটাই গল্পের প্রাণ। সিজন ৩ আগের তুলনায় অনেক বড় স্কেল ও আরও তীব্র হবে।”
এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র নান্দনিকতার জন্য নয়, বরং গল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তব লোকেশনে শুটিংয়ের ফলে চরিত্রগুলির লড়াই, ক্ষমতার রাজনীতি এবং স্থানীয় সংস্কৃতি আরও গভীরভাবে পর্দায় উঠে আসবে।
ক্রান্তি প্রকাশ ঝার প্রত্যাবর্তন ও পুরনো দ্বন্দ্বের নতুন রূপ

‘রক্তাঞ্চল’ মানেই শক্তিশালী চরিত্র ও তীব্র অভিনয়। সেই তালিকায় ক্রান্তি প্রকাশ ঝার নাম নিঃসন্দেহে প্রথম সারিতে। তাঁর অভিনীত চরিত্রটি সিরিজের নৈতিক দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লড়াই ও ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
সিজন ৩-এ তাঁর প্রত্যাবর্তন দর্শকদের জন্য বড় চমক। সূত্র বলছে, এই সিজনে তাঁর চরিত্র আরও জটিল হবে। অতীতের সিদ্ধান্তের ফলাফল, হারানো ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার লড়াই এবং নতুন শত্রুর মুখোমুখি হওয়া—সব মিলিয়ে তাঁর চরিত্রে এক নতুন স্তর যোগ হবে।
নিকিতিন ধীরের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব ছিল আগের সিজনগুলির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। নতুন সিজনে সেই সংঘাত আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে চলেছে বলেই ইঙ্গিত। পুরনো হিসাব-নিকাশের সঙ্গে যুক্ত হবে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ, যা পুরো গল্পকে আরও অপ্রত্যাশিত দিকে নিয়ে যেতে পারে।
‘রক্তাঞ্চল সিজন ৩’: বড় স্কেল, গভীর গল্প ও তীব্র সংঘাত

সিজন ৩ নিয়ে প্রত্যাশা যে আকাশছোঁয়া, তা বলাই বাহুল্য। নির্মাতারা জানিয়েছেন, এবার গল্প শুধুমাত্র গ্যাং-যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং অপরাধ, রাজনীতি ও প্রশাসনের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হবে।
ক্ষমতার পালাবদল মানেই নতুন সমস্যা। দ্বিতীয় সিজনের শেষে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, তার পরিণতি এবার সামনে আসবে। নতুন চরিত্রের প্রবেশ, পুরনো সম্পর্কের ভাঙন এবং নৈতিকতার প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ‘রক্তাঞ্চল’ তার পরিচিত রুক্ষতা বজায় রেখেই আরও পরিণত গল্প বলার পথে হাঁটছে।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ভারতীয় ক্রাইম ড্রামার ভিড়ে ‘রক্তাঞ্চল’ আলাদা হয়ে ওঠে তার আঞ্চলিক সত্যতা ও চরিত্রকেন্দ্রিক কাহিনির জন্য। সিজন ৩ সেই উত্তরাধিকারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
লখনউ ও বারাণসীর বাস্তব লোকেশনে শুটিং, ক্রান্তি প্রকাশ ঝার প্রত্যাবর্তন এবং আরও বড় পরিসরের গল্প—সব মিলিয়ে ‘রক্তাঞ্চল সিজন ৩’ ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে। মুক্তির দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা না হলেও, এই সিজন যে দর্শকদের জন্য আরও তীব্র, আরও বাস্তব এবং আরও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে চলেছে, তা বলাই যায়। পূর্বাঞ্চলের রক্তাক্ত ক্ষমতার লড়াই আবারও পর্দায় ফিরে আসছে—আর সেই লড়াইয়ের সাক্ষী হতে মুখিয়ে আছেন দর্শকেরা।






