বলিউডে প্রতিভা অনেক, কিন্তু সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা খুব কম অভিনেতার মধ্যেই দেখা যায়। সেই জায়গা থেকেই অভিজ্ঞ অভিনেতা রাকেশ বেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল চর্চা। এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানালেন—রণবীর সিং এমন একজন অভিনেতা, যাঁর মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার “guts” আছে, যা আজকের দিনে বিরল।
রাকেশ বেদী নিজে কয়েক দশকের কেরিয়ারে থিয়েটার, টেলিভিশন ও সিনেমার নানা স্তর দেখেছেন। তাঁর চোখে বহু তারকার উত্থান-পতন। তাই রণবীর সিং সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন নিছক প্রশংসা নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির গভীর অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা এক পর্যবেক্ষণ।
এই সাক্ষাৎকারে রাকেশ বেদী শুধু রণবীরের অভিনয় দক্ষতার কথা বলেননি, বলেছেন তাঁর মানসিক শক্তি, চরিত্র বেছে নেওয়ার সাহস এবং নিজেকে ভাঙার ক্ষমতা নিয়েও। এমন এক সময়ে, যখন নিরাপদ ফর্মুলার সিনেমাই বক্স অফিসে বেশি দেখা যায়, তখন রণবীরের মতো অভিনেতার ঝুঁকি নেওয়া সত্যিই উল্লেখযোগ্য।
এই প্রসঙ্গে উঠে এসেছে বলিউডের বর্তমান ট্রেন্ড, নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের চ্যালেঞ্জ এবং কেন রণবীর সিং আলাদা। রাকেশ বেদীর এই এক্সক্লুসিভ মন্তব্য তাই শুধু একটি সাক্ষাৎকার নয়, বরং আজকের হিন্দি সিনেমার দিকনির্দেশও বটে।
রাকেশ বেদীর চোখে রণবীর সিং: সাহসের সংজ্ঞা


সাক্ষাৎকারে রাকেশ বেদী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “রণবীর সিংয়ের মধ্যে একটা অদ্ভুত সাহস আছে। ও জানে যে ব্যর্থতার সম্ভাবনা আছে, তবুও ঝুঁকি নিতে ভয় পায় না।” তাঁর মতে, এই মানসিকতাই একজন অভিনেতাকে তারকা থেকে শিল্পীতে পরিণত করে।
রাকেশ বেদীর দাবি, আজকের অনেক অভিনেতাই স্টার ইমেজ ধরে রাখার জন্য নিরাপদ চরিত্র বেছে নেন। কিন্তু রণবীর সিং সেই ধারার বাইরে গিয়ে এমন চরিত্র করেন, যেগুলো তাঁকে ভেঙে দেয়, নতুন করে গড়ে তোলে। এই প্রবণতাই তাঁকে আলাদা করেছে।
তিনি আরও বলেন, রণবীরের অভিনয়ে এক ধরনের অস্থির শক্তি আছে—যা দর্শককে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে, আবার মুগ্ধও করে। ঠিক এই জায়গাটাই একজন সাহসী অভিনেতার পরিচয়। বেদীর মতে, এই সাহস না থাকলে ‘পদ্মাবত’, ‘গালি বয়’ বা ‘৮৩’-র মতো চরিত্র সম্ভব নয়।
এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে রাকেশ বেদী কার্যত ইন্ডাস্ট্রির এক বাস্তব সত্য তুলে ধরেছেন—অভিনয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে হলে শুধু জনপ্রিয়তা নয়, সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও জরুরি।
ঝুঁকি নেওয়ার রাজনীতি: কেন রণবীর সিং আলাদা


রাকেশ বেদীর মতে, রণবীর সিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হল তাঁর ভয়হীনতা। তিনি চরিত্র বাছাইয়ের সময় বক্স অফিসের অঙ্কের চেয়েও স্ক্রিপ্ট ও চরিত্রের গভীরতাকে বেশি গুরুত্ব দেন। এই মানসিকতা তাঁকে সমসাময়িক অনেক অভিনেতার থেকে এগিয়ে রেখেছে।
বলিউডে যেখানে “হিরো ইমেজ” ভাঙা প্রায় নিষিদ্ধ, সেখানে রণবীর নিজেই সেই ইমেজ ভাঙতে এগিয়ে আসেন। কখনও তিনি একজন র্যাপার, কখনও ইতিহাসের নিষ্ঠুর শাসক, আবার কখনও বাস্তব জীবনের ক্রিকেট কিংবদন্তি। এই বৈচিত্র্যই তাঁর কেরিয়ারের মূলধন।
রাকেশ বেদী বলেন, “এই সাহস না থাকলে আপনি নিরাপদ থাকবেন, কিন্তু স্মরণীয় হবেন না।” তাঁর মতে, রণবীর সেই অভিনেতা, যিনি স্মরণীয় হতে চান—শুধু সফল নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে ভবিষ্যতের ক্লাসিক অভিনেতাদের তালিকায় জায়গা করে দিতে পারে।
এই আলোচনা থেকে পরিষ্কার, রণবীর সিংয়ের ঝুঁকি নেওয়া কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়। এটি পরিকল্পিত, সচেতন এবং শিল্পীসত্তার গভীর উপলব্ধি থেকে জন্ম নেওয়া এক পছন্দ।
বলিউড ও ভবিষ্যৎ: রাকেশ বেদীর স্পষ্ট বার্তা
সাক্ষাৎকারের শেষভাগে রাকেশ বেদী বলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন। তাঁর মতে, দর্শক এখন অনেক বেশি সচেতন। তাঁরা শুধু গ্ল্যামার নয়, সত্যিকারের অভিনয় দেখতে চান। এই পরিবর্তিত দর্শকের যুগে রণবীর সিংয়ের মতো অভিনেতার গুরুত্ব আরও বাড়বে।
তিনি নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের উদ্দেশে বলেন, সাহসী হোন, কিন্তু দায়িত্বশীলও থাকুন। ঝুঁকি নিন, তবে শুধুই চমক দেওয়ার জন্য নয়—চরিত্রের প্রয়োজনেই ঝুঁকি নিন। এই দর্শনই রণবীর সিংকে আলাদা করেছে বলে তাঁর মত।
রাকেশ বেদীর এই বক্তব্য আসলে ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা। ফর্মুলাভিত্তিক সিনেমা সাময়িক সাফল্য আনতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায় সাহসী অভিনয়ই।
রাকেশ বেদীর এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে রণবীর সিং সম্পর্কে যে ছবি উঠে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে শক্তিশালী। “Ranveer Singh has the guts to take risks”—এই একটি বাক্যেই লুকিয়ে আছে তাঁর অভিনয় দর্শন ও কেরিয়ারের মূল রহস্য।
এই মন্তব্য শুধু রণবীরের প্রশংসা নয়, বরং বলিউডের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর বিশ্লেষণ। সাহস, ঝুঁকি ও সততার মিশ্রণই যে একজন অভিনেতাকে স্মরণীয় করে তোলে—রাকেশ বেদীর কথায় সেটাই আবার প্রমাণিত।






