ইন্টার প্রেস ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আজকের রাউন্ডে যেন একাই গল্প লিখে গেল রাজ এক্সপ্রেস। মাঠে নামার মুহূর্ত থেকেই আত্মবিশ্বাসী শরীরী ভাষা, নিখুঁত পরিকল্পনা আর টিমওয়ার্ক—সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষকে কার্যত ম্যাচের বাইরে ঠেলে দেয় তারা। সাংবাদিকদের এই মর্যাদাপূর্ণ ক্রিকেট মঞ্চে রাজ এক্সপ্রেসের এমন পারফরম্যান্স দিনভর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
টুর্নামেন্টের গুরুত্ব এখানে আলাদা করে বলার দরকার নেই। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত দলগুলো শুধুই প্রতিযোগিতায় নামে না, বরং পেশাগত সংহতি, শারীরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত বুদ্ধিমত্তার এক অনন্য প্রদর্শনীও মেলে ধরে। সেই মঞ্চেই আজ রাজ এক্সপ্রেস প্রমাণ করল—তারা শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, প্রকৃত দাবিদার।
ব্যাটিং হোক বা বোলিং, প্রতিটি বিভাগেই রাজ এক্সপ্রেস ছিল এক ধাপ এগিয়ে। শুরুতেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নেওয়ার যে মানসিকতা, তা শেষ বল পর্যন্ত অটুট ছিল। প্রতিপক্ষ যতই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুক, রাজ এক্সপ্রেসের পরিকল্পিত আক্রমণে তা ভেঙে পড়েছে বারবার।
এই জয়ের প্রভাব শুধু পয়েন্ট টেবিলেই সীমাবদ্ধ নয়। দলের আত্মবিশ্বাস, সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এবং টুর্নামেন্টের সামগ্রিক আবহ—সবকিছুর উপরেই আজকের রাউন্ড গভীর ছাপ রেখে গেল।
ব্যাট হাতে রাজ এক্সপ্রেসের দাপুটে সূচনা

ম্যাচের শুরুতেই ব্যাট হাতে রাজ এক্সপ্রেস যে বার্তা দিল, তা ছিল স্পষ্ট—আজ তারা বড় স্কোরের লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছে। ওপেনিং জুটির দৃঢ়তা দলের ভিত গড়ে দেয়। প্রথম কয়েক ওভারে ঝুঁকি না নিয়ে বল বুঝে খেলা, তারপর ধীরে ধীরে স্ট্রাইক রেট বাড়ানো—এই ক্লাসিক কৌশলই ফল দেয়।
মিডল অর্ডারে এসে ব্যাটাররা আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। ফাঁক খুঁজে নেওয়া, লফটেড শটের নিখুঁত টাইমিং এবং দৌড়ের মাঝে সমন্বয়—সব মিলিয়ে স্কোরবোর্ড দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে। প্রতিপক্ষ বোলাররা একাধিক পরিবর্তন করেও ছন্দ ভাঙতে ব্যর্থ হন।
ডেথ ওভারে রাজ এক্সপ্রেস কার্যত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। টানা বাউন্ডারি ও দ্রুত রান সংগ্রহে নির্ধারিত ওভার শেষে দলটি এমন এক পুঁজি গড়ে তোলে, যা তাড়া করা যে কোনও দলের জন্যই কঠিন। সাংবাদিক ক্রিকেটের মঞ্চে এমন পরিপক্ব ব্যাটিং পারফরম্যান্স সচরাচর দেখা যায় না।
নিখুঁত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলল রাজ এক্সপ্রেস

বড় স্কোর রক্ষা করতে নামার সময় রাজ এক্সপ্রেসের বোলারদের চোখেমুখে ছিল আত্মবিশ্বাস। নতুন বলে শুরুতেই চাপ তৈরি করাই ছিল লক্ষ্য, এবং সেই পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে কার্যকর হয়। প্রথম কয়েক ওভারেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের গতি নিজেদের দিকে টেনে নেয় তারা।
মিডল ওভারে স্পিন ও সিমের মিশেলে প্রতিপক্ষের রান তোলার পথ কার্যত রুদ্ধ হয়ে যায়। প্রতিটি বলেই ছিল স্পষ্ট পরিকল্পনা—কখন শর্ট, কখন ফুল, কখন অফ-স্টাম্পের বাইরে প্রলুব্ধকারী ডেলিভারি। এই বৈচিত্র্য ব্যাটারদের সিদ্ধান্ত নিতে বারবার দ্বিধায় ফেলেছে।
ডেথ ওভারে এসে অভিজ্ঞ বোলাররা দায়িত্ব নেন। ইয়র্কার, স্লোয়ার আর নিখুঁত ফিল্ড প্লেসমেন্টে প্রতিপক্ষের শেষ মুহূর্তের প্রত্যাবর্তনের আশা ভেঙে যায়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচ কার্যত রাজ এক্সপ্রেসের মুঠোয় চলে আসে।
মাঠের বাইরে দলগত সংহতি ও কৌশলগত সাফল্য

আজকের জয়ের নেপথ্যে শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নয়, ছিল দলগত বোঝাপড়া ও পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন। ম্যাচের আগে ওভারের ভাগ, ব্যাটিং অর্ডার এবং ফিল্ডিং সেটআপ—সবকিছুতেই ছিল স্পষ্ট রূপরেখা।
ফিল্ডিংয়েও রাজ এক্সপ্রেস ছিল নজরকাড়া। দ্রুত মুভমেন্ট, সঠিক থ্রো এবং ক্যাচ মিস না করার মানসিকতা প্রতিপক্ষের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। সাংবাদিক ক্রিকেটে যেখানে অনেক সময় ফিল্ডিং দুর্বলতা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, সেখানে আজ রাজ এক্সপ্রেস সেই জায়গায়ও এগিয়ে।
দলের সিনিয়র ও জুনিয়র সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়ও চোখে পড়ার মতো। অভিজ্ঞরা যেমন চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়েছেন, তেমনই নতুন মুখরাও সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। এই ভারসাম্যই রাজ এক্সপ্রেসকে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
ইন্টার প্রেস ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আজকের রাউন্ডে রাজ এক্সপ্রেস যে আধিপত্য দেখাল, তা নিঃসন্দেহে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই ধারাবাহিক উৎকর্ষ তাদের আলাদা করে তুলেছে।
এই জয় রাজ এক্সপ্রেসকে শুধু পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে দিল না, বরং মানসিকভাবেও বাড়তি সুবিধা এনে দিল আগামী ম্যাচগুলোর জন্য। প্রতিপক্ষ দলগুলির কাছে বার্তা স্পষ্ট—শিরোপার দৌড়ে রাজ এক্সপ্রেসকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।
টুর্নামেন্ট যত এগোবে, প্রতিযোগিতা ততই কঠিন হবে। তবে আজকের পারফরম্যান্স দেখে একথা বলাই যায়, রাজ এক্সপ্রেস যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তাহলে ট্রফির দিকে তাদের যাত্রা আরও শক্তপোক্ত হবে।






