ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে যখন ‘প্যান-ইন্ডিয়া’ শব্দটি কেবল একটি ট্রেন্ড নয়, বরং একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিচয়—ঠিক সেই সময়েই এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন Prabhas। বাহুবলী থেকে সালার, কল্কি ২৮৯৮ এডি—প্রতিটি প্রজেক্টে বক্স অফিসের সীমানা ভেঙেছেন তিনি। এবার সেই তারকাই বিশ্বব্যাপী গল্পকারদের জন্য খুলে দিলেন এক অনন্য দরজা—The Script Craft International Short Film Festival।
একটি বিদ্যুৎঝলমলে ঘোষণার ভিডিওর মাধ্যমে প্রভাস উন্মোচন করলেন এই আন্তর্জাতিক শর্ট ফিল্ম উৎসব, যা শুধু প্রতিযোগিতা নয়—বরং স্বপ্নকে পেশায় রূপান্তরের একটি প্ল্যাটফর্ম। দ্য স্ক্রিপ্ট ক্র্যাফটের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের নির্মাতারা সরাসরি পৌঁছে যেতে পারবেন প্রযোজক, দর্শক এবং গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রির নজরে।
ঘোষণার ভিডিওতে প্রভাস স্পষ্ট করে দেন, এটি কোনও সাধারণ ফেস্টিভ্যাল নয়। “Every voice deserves a beginning. Every dream story deserves a chance”—এই বার্তাই হয়ে উঠেছে দ্য স্ক্রিপ্ট ক্র্যাফটের মূল দর্শন। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ চলচ্চিত্র নির্মাণকে গণতান্ত্রিক করে তুলবে, যেখানে সুযোগ পাবে প্রতিভা, পরিচিতি নয়।
বিশেষত্ব এখানেই—এই উৎসবে জমা পড়া প্রতিটি শর্ট ফিল্মই পাবে দৃশ্যমানতা। শীর্ষ তিন বিজয়ী নির্ধারিত হবে দর্শকদের ভোট, লাইক ও রেটিংয়ের মাধ্যমে। কিন্তু প্রতিযোগিতার বাইরেও প্রতিটি কাজ নজরে পড়বে বড় বড় প্রোডাকশন হাউসের, যারা ইতিমধ্যেই নতুন প্রতিভা খুঁজতে দ্য স্ক্রিপ্ট ক্র্যাফট প্ল্যাটফর্মে চোখ রেখেছে।
প্রভাসের নেতৃত্বে বিশ্বমুখী গল্পের নতুন প্ল্যাটফর্ম

দ্য স্ক্রিপ্ট ক্র্যাফট ইন্টারন্যাশনাল শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল মূলত তৈরি হয়েছে স্বাধীন নির্মাতা, নতুন পরিচালক ও গল্পকারদের কথা মাথায় রেখে। এখানে ২ মিনিট বা তার বেশি দৈর্ঘ্যের শর্ট ফিল্ম যে কোনও ভাষা ও যে কোনও ঘরানায় জমা দেওয়া যাবে। সময়সীমা ৯০ দিন—এই দীর্ঘ সময় ধরে চলবে প্রতিযোগিতা ও দর্শকসংযোগ।
প্রভাস ব্যক্তিগতভাবে এই প্ল্যাটফর্মকে সমর্থন করেছেন এবং তাঁর বিশ্বাস, আজকের ডিজিটাল যুগে গল্পের শক্তিই সবচেয়ে বড় পরিচয়। কোনও ফিল্ম স্কুলের সার্টিফিকেট নয়, বরং নির্মাতার কাজই হবে তাঁর আসল পরিচয়—এই ভাবনাই দ্য স্ক্রিপ্ট ক্র্যাফটের মেরুদণ্ড।
বিশ্বজুড়ে যেসব গল্প হয়তো এতদিন সুযোগের অভাবে হারিয়ে গিয়েছে, এই ফেস্টিভ্যাল তাদের জন্য এক বাস্তব লঞ্চপ্যাড। প্রযোজকদের কাছে পৌঁছনোর জন্য আর মধ্যস্বত্বভোগীর প্রয়োজন নেই—সরাসরি দর্শকই এখানে বিচারক।
খ্যাতনামা পরিচালকদের বার্তা: কাজই আসল পরিচয়


ঘোষণার ভিডিওতে উপস্থিত ছিলেন একাধিক প্রতিষ্ঠিত পরিচালক। Sandeep Reddy Vanga বলেন, “কাগজে লেখা আর পর্দায় বাস্তবায়নের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। শর্ট ফিল্ম বানানোই সেই সত্যিকারের শেখার জায়গা।” তাঁর মতে, নতুনদের জন্য এটাই সঠিক সময় নিজেদের কাজ তুলে ধরার।
Nag Ashwin নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেন, ইউটিউবের একটি শর্ট ফিল্ম দেখেই তিনি অনুদীপকে খুঁজে পেয়েছিলেন, যার ফল ‘জাতি রত্নালু’। তাঁর কথায়, “ফিল্ম স্কুলের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হল আপনি আপনার কাজকে কতটা বুঝতে পারেন।”
Hanu Raghavapudi নতুন নির্মাতাদের উদ্দেশে বার্তা দেন—স্বপ্ন দেখুন, নিজের ভিশন তুলে ধরুন, আর সাহসের সঙ্গে সেই স্বপ্ন জয় করুন। এই সম্মিলিত বার্তাই প্রমাণ করে, দ্য স্ক্রিপ্ট ক্র্যাফট শুধু একটি ফেস্টিভ্যাল নয়—এটি একটি মুভমেন্ট।
কুইক টিভির সঙ্গে এক্সক্লুসিভ পার্টনারশিপ: শর্ট ফিল্ম থেকে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা


এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করেছে কুইক টিভির সঙ্গে এক্সক্লুসিভ পার্টনারশিপ। কুইক টিভির অভ্যন্তরীণ জুরি ১৫ জন প্রতিভাবান নির্মাতাকে বেছে নেবে, যাঁরা প্রত্যেকে পাবেন সম্পূর্ণ অর্থায়িত ৯০ মিনিটের স্ক্রিপ্ট এবং পূর্ণ প্রোডাকশন সাপোর্ট।
শুধু তাই নয়, এই ১৫টি প্রজেক্টের গ্লোবাল প্রিমিয়ার হবে কুইক টিভি প্ল্যাটফর্মে। অর্থাৎ, শর্ট ফিল্ম বানানো নির্মাতারা সরাসরি পা রাখতে পারবেন পেশাদার ফিচার ফিল্ম পরিচালনার জগতে—আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে।
এই মডেল ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে একেবারেই নতুন। যেখানে সাধারণত শর্ট ফিল্ম আর ফিচার ফিল্মের মাঝে একটি বড় ফাঁক থাকে, সেখানে দ্য স্ক্রিপ্ট ক্র্যাফট সেই দূরত্ব মুছে দিতে চাইছে।
দ্য স্ক্রিপ্ট ক্র্যাফট ইন্টারন্যাশনাল শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়—এটি একটি দর্শন। প্রভাসের নেতৃত্বে, থাল্লা বৈষ্ণব ও প্রমোদ উপ্পালাপতির প্রতিষ্ঠিত এই প্ল্যাটফর্ম প্রমাণ করে, আগামী দিনের শ্রেষ্ঠ গল্পকার হয়তো আজ কোনও অজানা শহরে একটি ছোট ক্যামেরা হাতে স্বপ্ন দেখছে।
রেজিস্ট্রেশন ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ ও বিভাগ শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। প্রভাসের আসন্ন প্রজেক্ট—দ্য রাজাসাব, ফৌজি, স্পিরিট, কল্কি ২৮৯৮ এডি পার্ট ২, সালার পার্ট ২—এর মাঝেই এই উদ্যোগ তাঁর ক্যারিয়ারের এক অন্যরকম অধ্যায় হয়ে থাকল।






