দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় বংশোদ্ভূত টেক উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা এবং বিভিন্ন কমিউনিটি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। এই বৈঠকে প্রযুক্তি উদ্ভাবন, গ্লোবাল সহযোগিতা এবং ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার নানা দিক উঠে আসে। বিশেষ করে ভারতীয় ডায়াস্পোরার ভূমিকা এবং ভারতকে প্রযুক্তি–শক্তিধর দেশে রূপান্তরিত করার ভবিষ্যত পরিকল্পনা ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত টেক উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মোদির আলোচনায় উদ্ভাবনের নতুন দিশা
জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠেয় এই বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত একাধিক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা, আইটি কনসালট্যান্ট, এআই বিশেষজ্ঞ এবং উদীয়মান উদ্যোক্তা। মোদি তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে প্রযুক্তি খাতে ভারতের দ্রুত অগ্রগতির কারণ, সরকারের ডিজিটাল উদ্যোগ এবং “টেক ফর অল” ভাবনার সাফল্য তুলে ধরেন।
ভারতের ডিজিটাল ইকোসিস্টেম আজ বিশ্বের দ্রুততম বিকাশমান সেক্টরগুলোর একটি। এই প্রেক্ষাপটে, মোদি স্পষ্ট করে জানান—বিশ্বব্যাপী ভারতীয় ডায়াস্পোরার জ্ঞান, দক্ষতা এবং নেটওয়ার্ক ভারতের অগ্রগতিতে অমূল্য অবদান রাখছে।
তিনি “মেড ইন ইন্ডিয়া ইনোভেশন”, “ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার”, এবং AI-নির্ভর নতুন সমাধান তৈরিতে প্রবাসী ভারতীয়দের ভূমিকা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।
আলোচনার কয়েকটি মূল পয়েন্ট:
- ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা প্রযুক্তি সহযোগিতা বৃদ্ধি
- এআই, সাইবার সিকিউরিটি, ফিনটেক ও হেলথটেক ক্ষেত্রে যৌথ প্রকল্পের সম্ভাবনা
- দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ
- ভারতীয় ইউনিক আইডেন্টিটি, UPI-এর মতো ডিজিটাল মডেল আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহার

ভারতীয় কমিউনিটির সঙ্গে সম্প্রীতির বার্তা ও শক্তিশালী ডায়াস্পোরা সংযোগ
প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় ভারতীয় কমিউনিটির সদস্যদেরও শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের অবদানকে সম্মান জানান। দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত ভারতীয়দের উদ্যোক্তা মনোভাব, পরিশ্রম এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ স্থানীয় সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মোদি আরও বলেন, ভারতীয় ডায়াস্পোরা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক, তারা ভারতের “ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর”—তাঁদের সফলতাই ভারতের ইমেজকে বিশ্ব মঞ্চে শক্তিশালী করে।
তিনি ভারতের নীতি-পরিবর্তন, ড্রোন প্রযুক্তি, ৫জি–৬জি গবেষণা এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের বর্তমান চিত্রও কমিউনিটির কাছে তুলে ধরেন।
এই সেশনে আলোচনার মূল দিক:
- সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সহযোগিতা
- শিক্ষা ও স্কিল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের সম্ভাবনা
- নবীন উদ্যোক্তাদের ভারত সফরে আমন্ত্রণ
- গ্লোবাল ভারতীয় নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করা

ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা সম্পর্কের নতুন গতি: ভবিষ্যতের পথচলা
যদিও বৈঠকটি মূলত কমিউনিটি এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কেন্দ্রীভূত ছিল, তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটও বারবার উঠে আসে। ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে মোদির দক্ষিণ আফ্রিকা সফর কূটনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এই বৈঠক ভারত–আফ্রিকার প্রযুক্তি সহযোগিতাকে আরও বেগবান করবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
ভারত ইতোমধ্যেই আফ্রিকার অনেক দেশে টেক–ভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প চালাচ্ছে—ডিজিটাল লিটারেসি, মোবাইল–নির্ভর ব্যাংকিং, সোলার টেকনোলজি, এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট তার মধ্যে অন্যতম। জোহানেসবার্গের এই কমিউনিটি সেশন এই সহযোগিতাকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার একটি বাস্তব ভিত্তি তৈরি করেছে।
মোদি ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তাদের এই বৈঠক শুধু আনুষ্ঠানিক সৌজন্য নয়—এটি ভবিষ্যতের টেক-চালিত সহযোগিতার একটি শক্তিশালী সূচনা। বিশ্ব মঞ্চে ভারত যেমন দ্রুত এগিয়ে চলেছে, তেমনই বিদেশে থাকা ভারতীয়রা সেই সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জোহানেসবার্গের এই আলোচনা প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে আরও মজবুত করে এবং প্রযুক্তি–নির্ভর ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
👉 আপনি কি বিদেশে থাকা ভারতীয় কমিউনিটি বা টেক উদ্যোক্তা? নিচে মন্তব্য করে জানান—এই ধরনের বৈঠক ভারত–বিশ্ব সম্পর্ককে কতটা এগিয়ে দেয়।
👉 এই প্রতিবেদনটি বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন এবং আরও আন্তর্জাতিক খবর পেতে আমাদের অনুসরণ করুন।






