বিতর্ক নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যখন Deepika Padukone নতুন মা হিসেবে কাজের সময়সীমা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। আট ঘণ্টার কাজের অনুরোধ ঘিরে যে প্রশ্ন উঠেছিল, তারই প্রেক্ষিতে প্রকাশ্যে সমর্থনে এগিয়ে এলেন প্রযোজক Nikhil Dwivedi।
দীপিকা পাডুকোনের পেশাদারিত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই—দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একের পর এক বড় বাজেটের ছবি, আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিতি এবং কঠোর শুটিং শিডিউল সামলেছেন তিনি। তাই নতুন মা হওয়ার পর কাজের সময় নিয়ন্ত্রণের অনুরোধকে ‘অপেশাদার’ বলা অন্যায্য—এই বার্তাই স্পষ্টভাবে দিয়েছেন নীখিল দ্বিবেদী।
তার বক্তব্য শুধু একজন অভিনেত্রীর পক্ষে নয়, বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রির কাজের সংস্কৃতির দিকেই আঙুল তুলেছে। বিশেষ করে নতুন মায়েদের ক্ষেত্রে সহানুভূতি, বাস্তবসম্মত শিডিউল এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এই প্রসঙ্গে নীখিল দ্বিবেদীর মন্তব্য বলিউডে কাজ–জীবনের ভারসাম্য নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও গভীর করেছে—যেখানে প্রশ্ন একটাই: পেশাদার সাফল্যের সঙ্গে মাতৃত্ব কি সহাবস্থান করতে পারে না?
নীখিল দ্বিবেদীর স্পষ্ট সমর্থন: পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন নয়

নীখিল দ্বিবেদী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দীপিকার কাজের প্রতি নিষ্ঠা নিয়ে কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তার কথায়, “আমি নিশ্চিত, সে আগেও ১০ ঘণ্টা, ১২ ঘণ্টা, এমনকি ১৪ ঘণ্টাও কাজ করেছে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন—দীপিকার আট ঘণ্টা কাজের অনুরোধ কোনো অলসতা বা অনীহার ফল নয়।
প্রযোজকের মতে, নতুন মা হওয়ার পর শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন স্বাভাবিক। সেই অবস্থায় কাজের সময় কিছুটা নিয়ন্ত্রিত করতে চাওয়া সম্পূর্ণ যৌক্তিক। বরং এটি একজন শিল্পীর নিজের সীমা বোঝার পরিণত সিদ্ধান্ত।
নীখিল আরও জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের বিষয়কে ‘বিশেষ সুবিধা’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং এটি একটি মানবিক প্রয়োজন। ইন্ডাস্ট্রিতে বহু বছর ধরে কাজ করা একজন অভিনেত্রী হঠাৎ করে দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়ে উঠতে পারেন—এই ধারণাটাই তিনি নাকচ করেছেন।
নতুন মা ও শিশুর প্রয়োজন: সহমর্মিতার ডাক

নীখিল দ্বিবেদীর বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল শিশুর প্রয়োজন নিয়ে তার মন্তব্য। তিনি বলেন, “একটি নবজাতকের জন্য মা বা বাবার উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে মায়ের।” এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে মাতৃত্বের বাস্তবতা, যা প্রায়শই গ্ল্যামারের আড়ালে চাপা পড়ে যায়।
চলচ্চিত্র জগতে শুটিংয়ের দীর্ঘ সময়, লোকেশন বদল এবং শারীরিক পরিশ্রম নতুন মায়েদের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। তাই এই সময়ে কাজের সময় সীমিত রাখা মানে দায়িত্ব এড়ানো নয়, বরং পরিবার ও সন্তানের প্রতি দায়িত্ব পালন।
দীপিকার উদাহরণ টেনে নীখিল বুঝিয়েছেন, পেশাদার জীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য আনা মানেই কাজের মান কমে যাওয়া নয়। বরং সুস্থ মানসিক অবস্থায় কাজ করলে সৃজনশীলতাও আরও সমৃদ্ধ হয়।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইন্ডাস্ট্রির কাছে এক ধরনের নৈতিক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন—আমরা কি সত্যিই নতুন মায়েদের প্রয়োজন বুঝতে শিখেছি?
কাজের সময় লিখিতভাবে নির্ধারণ: বাস্তবতার কথা

নীখিল দ্বিবেদী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন—কাজের সময় লিখিতভাবে নির্ধারণ করা কেন প্রয়োজন। তার কথায়, “যদি আট বা নয় ঘণ্টা কাজের কথা কাগজে লেখা থাকে, তাহলে প্রযোজক ১২ ঘণ্টা কাজের দাবি করতে পারেন না।”
এই বক্তব্য আসলে বলিউডের দীর্ঘদিনের সমস্যার দিকেই ইঙ্গিত করে। অনেক সময় মৌখিক সমঝোতার সুযোগ নিয়ে শুটিংয়ের সময় বেড়ে যায়, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে থাকা শিল্পীদের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে।
দীপিকার ক্ষেত্রে এই লিখিত শর্ত একটি সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করছে। নীখিল পরিষ্কার করেছেন, প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ দিনে দীপিকা বাড়তি সময়ও কাজ করতে পারেন—কিন্তু সেটি যেন নিয়ম না হয়ে যায়।
এই দৃষ্টিভঙ্গি ইন্ডাস্ট্রিতে স্বচ্ছতা এবং পারস্পরিক সম্মানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। কাজের সময় নির্ধারিত থাকলে শিল্পী ও প্রযোজক—দু’পক্ষই নিজেদের সীমা ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন।
নীখিল দ্বিবেদীর মন্তব্য শুধু দীপিকা পাডুকোনের সমর্থনে সীমাবদ্ধ নয়—এটি বলিউডের কাজের সংস্কৃতি নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে। নতুন মায়েদের জন্য সহমর্মিতা দেখানো কি পেশাদারিত্বের পরিপন্থী? নাকি এটি একটি পরিণত ও মানবিক ইন্ডাস্ট্রির লক্ষণ?
দীপিকার উদাহরণ দেখিয়ে নীখিল বুঝিয়েছেন, দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের পর একজন শিল্পী যদি নিজের জীবনের নতুন অধ্যায়ে কিছুটা ভারসাম্য চান, সেটিকে সম্মান করাই উচিত। এই আলোচনা যদি ইন্ডাস্ট্রিতে বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা করে, তাহলে তা শুধু অভিনেত্রীদের নয়—পুরো কাজের পরিবেশের জন্যই ইতিবাচক হবে।






