নিউ ইয়ার্স ইভ মানেই কলকাতার রাস্তায় উৎসবের ঢেউ—আলো, সঙ্গীত, মানুষের ভিড় আর রাতভর উদযাপন। কিন্তু আনন্দের এই মুহূর্ত যাতে কোনওভাবেই অপ্রীতিকর ঘটনায় পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে এবার আরও কড়া নিরাপত্তার ছক কষেছে কলকাতা পুলিশ।
পার্ক স্ট্রিট, নিউ টাউন, সল্টলেক, এসপ্ল্যানেড, দক্ষিণ কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা—সব জায়গাতেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শুধু পুলিশ মোতায়েন নয়, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যেও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
বিশেষ করে নারী নিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং ভিড় সামলানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য একটাই—উৎসবের রাতে যেন শহরবাসী নিরাপদে, নির্বিঘ্নে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পারেন।
কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একাধিক কন্ট্রোল রুম ও বিশেষ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
🔴 পার্ক স্ট্রিটে নিউ ইয়ার্স ইভ: বাড়তি পুলিশ, কড়া ব্যারিকেডিং


কলকাতার নিউ ইয়ার্স ইভ মানেই পার্ক স্ট্রিট। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এখানে জমায়েত হন। সেই ভিড় সামলাতেই এবার আগে থেকেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পার্ক স্ট্রিট জুড়ে বসানো হয়েছে একাধিক ব্যারিকেড। নির্দিষ্ট সময়ের পর যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রয়োজন ছাড়া কোনও গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে না। পথচারীদের জন্য নির্দিষ্ট রুট তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভিড়ের চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সাদা পোশাকের পুলিশ, মহিলা পুলিশ এবং কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন থাকবে সর্বক্ষণ। পার্ক স্ট্রিট থানার পাশাপাশি আশপাশের থানাগুলিও থাকবে হাই অ্যালার্টে।
পুলিশ জানিয়েছে, অশালীন আচরণ, মদ্যপ অবস্থায় ঝামেলা বা আইন ভাঙার চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উৎসবের নামে কোনওরকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।
🔵 সল্টলেক ও নিউ টাউন: প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, ড্রোন ও সিসিটিভি

শুধু মধ্য কলকাতা নয়, সল্টলেক ও নিউ টাউন এলাকাতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এই সব এলাকায় একাধিক নাইট পার্টি, রুফটপ অনুষ্ঠান ও হোটেল ইভেন্ট হওয়ায় প্রশাসন বিশেষভাবে সতর্ক।
হাই-রেজোলিউশন সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি ড্রোন নজরদারিও চালানো হবে। সন্দেহজনক ভিড় বা আচরণ নজরে এলেই কন্ট্রোল রুম থেকে পুলিশ টিম পাঠানো হবে।
সল্টলেকের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, অফিস পাড়া এবং আবাসিক এলাকার প্রবেশপথে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট। নিউ টাউনে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে সিকিউরিটি টিম।
প্রশাসনের মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার না করলে এত বড় এলাকার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই এবার মানুষের পাশাপাশি প্রযুক্তিও ‘নিউ ইয়ার্স ইভ ডিউটি’-তে।
🟡 নারী নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা

নিউ ইয়ার্স ইভে নারী নিরাপত্তা বরাবরই প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই কারণে মহিলা পুলিশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
ইভটিজিং বা হেনস্থার অভিযোগ এলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকবে বিশেষ স্কোয়াড। শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থাকবে ‘হেল্প ডেস্ক’ ও টহলদারি ভ্যান।
একই সঙ্গে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ। রাতে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ সামলাতে নির্দিষ্ট রুটে ডাইভারশন কার্যকর করা হবে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে চালানো হবে বিশেষ চেকিং।
পুলিশের বার্তা স্পষ্ট—উৎসব উপভোগ করুন, কিন্তু আইন মেনে। নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি অন্যের নিরাপত্তার কথাও ভাবুন।
নিউ ইয়ার্স ইভে কলকাতা আবারও প্রস্তুত এক ঝলমলে রাতের জন্য। আলো, গান আর আনন্দের মাঝে যেন কোনও ছায়া না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।
পার্ক স্ট্রিট থেকে সল্টলেক, নিউ টাউন থেকে দক্ষিণ কলকাতা—সব জায়গাতেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর এই রাতে শহরবাসীর কাছেও আবেদন—দায়িত্বশীল আচরণ করুন, আইন মেনে চলুন। নিরাপদ কলকাতাই আনন্দময় কলকাতা।






