ভারতের নিজস্ব লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট HAL Tejas (এলসিএ এমকে-1) উড়ছিল প্রদর্শনী উড়ানে Dubai Air Show 2025-এ। মঞ্চটি ছিল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির প্রদর্শন। কিন্তু সেই উজ্জ্বল মঞ্চেই ঘটে গেলো এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা—হতাহতের তালিকায় নাম লেখালেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর সাহসী পাইলট, উইং কমান্ডার নামনশ স্য্যাল।
তাঁর প্রদর্শনী ঘুরানোর সময় বিমানটির নিয়ন্ত্রণচ্যুতি ঘটে এবং মুহূর্তেই সবকিছু বদলে যায়। এই ঘটনাটি শুধুই এক সামরিক পাইলটের হারিয়ে যাওয়া নয়—এটি ভারতের বিমান প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রতিপত্তির ওপরও গভীর প্রশ্নচিহ্ন রেখে গেলো।
কারা ছিলেন উইং কমান্ডার নামনশ স্য্যাল? এক যোদ্ধার গৌরবময় যাত্রাপথ

উইং কমান্ডার নামনশ স্য্যাল ছিলেন হিমাচল প্রদেশের কাংগ্রা জেলার নাগরোটা বাগওয়ানের বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল দেশের আকাশে উড়বে—আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি ভর্তি হন Sujanpur Tira সৈনিক স্কুলে। এখান থেকেই শুরু তাঁর এক যোদ্ধার পথচলা।
২০০৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি ভারতীয় বিমান বাহিনীতে কমিশন পান। দক্ষতা, শৃঙ্খলা, সাহস ও দায়িত্ববোধ—এই চারটি গুণ তাঁকে অল্প সময়েই অন্যতম অভিজ্ঞ ফাইটার পাইলট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
তাঁর পরিবারও দেশের প্রতি উৎসর্গের প্রতীক—পিতা ছিলেন আর্মি মেডিক্যাল কর্পসে, পরে স্কুল অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্ত্রীও ভারতীয় বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তা। একটি কন্যাসন্তান রেখে আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই।
তবে তাঁর জীবন, আত্মত্যাগ ও পেশাগত উৎকর্ষ তাঁকে ভারতের গর্বে পরিণত করেছে।
ডুবাই এয়ার শো’র দুর্ঘটনা: কি ঘটেছিল সেই ভয়াবহ মুহূর্তে?
২১ নভেম্বর ২০২৫। Dubai Air Show-এর মাঝামাঝি মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী চলছিল। সারা বিশ্বের চোখ তখন HAL Tejas-এর দিকে—ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আধুনিক যুদ্ধবিমান। কিন্তু হঠাৎই ঘটে যায় বিপর্যয়।
প্রদর্শনী উড়ানের সময়ই Tejas বিমানের নিয়ন্ত্রণচ্যুতি লক্ষ্য করা যায়। কিছু সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি নিচের দিকে ধাবিত হয়ে বিধ্বস্ত হয়।
যদিও পাইলট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। গুরুতর আহত অবস্থায় সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার পরই আন্তর্জাতিক বিমান প্রদর্শনীতে ভারতের নিরাপত্তা-প্রটোকল, বিমান প্রযুক্তি এবং প্রস্তুতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
দুর্ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে এবং কারণ জানতে বেশ কিছু সময় লাগবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিক্রিয়া, তদন্ত ও ভবিষ্যতের প্রভাব
উইং কমান্ডার স্য্যালের মৃত্যুতে গোটা দেশ শোকাহত। তাঁর নিজ জেলা থেকে শুরু করে হিমাচল প্রদেশের সাধারণ মানুষ ও প্রশাসন সবাই শোকবার্তা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক নেতৃত্বও তাঁর আত্মত্যাগকে দেশের ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছে।
দুর্ঘটনার পরই বিমান বাহিনী একটি উচ্চ-স্তরের তদন্ত বোর্ড গঠন করেছে। কীভাবে একটি প্রদর্শনী উড়ানে এমন বিপর্যয় ঘটলো, কেন বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারালো — এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বিশেষজ্ঞরা।

এই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব:
- Tejas-এর আন্তর্জাতিক রপ্তানি পরিকল্পনা ধাক্কা খেতে পারে
- বিশ্ববাজারে ভারতীয় প্রযুক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে
- সামরিক প্রদর্শনী উড়ানের নিরাপত্তা-নীতিতে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে
- IAF-এর প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি-প্রটোকলে আরও সংযমিত নজরদারি প্রয়োজন হতে পারে

উইং কমান্ডার নামনশ স্য্যালের প্রয়াণ শুধু এক ব্যক্তির ক্ষতি নয়—এটি পুরো দেশের বিমান প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর এক গভীর চিন্তা রেখে গেছে। তাঁর জীবন ও সাহসের গল্প আমাদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা-প্রটোকল, বিমান প্রস্তুতি, এবং প্রযুক্তিগত পরিশীলন আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানায়।
আজ আমরা একজন সাহসী দেশপ্রেমিককে হারিয়েছি, কিন্তু তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের সামনে নতুন দায়িত্ব স্থাপন করেছে—
নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং দায়িত্ববোধের নতুন মানদণ্ড নির্মাণের।
➡️ আপনার মতামত কমেন্টে জানান—এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা বড় ভূমিকা রাখে, নাকি মানবীয় সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়া?
➡️ আর্টিকেলটি শেয়ার করে অন্যদের জানাতে ভুলবেন না।






