কলকাতা, আগস্ট ২০২৫ –
ভারতের রাজনীতিতে যেন এক নতুন বিতর্কের সূচনা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায় পেশ করেছেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল—কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন (সংশোধনী) বিল ২০২৫, জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্বিন্যাস (সংশোধনী) বিল ২০২৫ এবং বহুল আলোচিত সংবিধান (১৩০ তম সংশোধনী) বিল ২০২৫।
প্রস্তাবিত এই বিলে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রীরা যদি কোনও গুরুতর অপরাধে ৩০ দিনের বেশি জেলে থাকেন, তবে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করা হবে। সরকারের দাবি—এই পদক্ষেপ গণতন্ত্র ও প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করার পথে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
কিন্তু বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখে এটি ‘কালো দিন’।
I condemn the 130th Constitutional Amendment Bill, proposed to be tabled, by the Government of India today. I condemn it as a step towards something that is more than a super- Emergency, a step to end the democratic era of India for ever. This draconian step comes as a death… pic.twitter.com/Vx78R1fh6V
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) August 20, 2025
মমতার আক্রমণ – “গণতন্ত্রের মৃত্যুঘণ্টা”
লোকসভায় বিল পেশের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মমতা। তিনি লিখেছেন,
“এই বিল কোনও সংশোধনী নয়, বরং গণতন্ত্রকে বিকৃত করার ষড়যন্ত্র। আদালতের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া মানে জনগণকে তাদের ন্যায়বিচারের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। এটি ভারতের উপর হিটলারি আক্রমণের মতো।”
তাঁর অভিযোগ, জরুরি অবস্থার থেকেও ভয়াবহ এই আইন গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চলেছে। তিনি বিজেপি সরকারের শাসনব্যবস্থাকে সরাসরি ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়া
লোকসভার ভিতরে বিরোধীরা বিলের কপি ছিঁড়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, এই বিলের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে কেন্দ্র। বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে আইনের মোড়কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চাপিয়ে দেওয়া হবে।
গণতন্ত্র নাকি ফ্যাসিবাদ?
প্রশ্ন উঠছে—এটি কি দুর্নীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কঠোর আইন? নাকি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমন করার একটি হাতিয়ার?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী শিবিরের মতে, এই বিল পাশ হলে দেশের সংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়বে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকবে না, সিদ্ধান্ত চলে যাবে সরকারের হাতে।
ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে অনেক বিতর্কিত বিল এসেছে। কিন্তু ১৩০ তম সংশোধনী বিল নিঃসন্দেহে একটি নতুন মোড়। একদিকে কেন্দ্র দাবি করছে—এটি সুশাসনের পথে পদক্ষেপ। অন্যদিকে বিরোধীদের মতে—এটি গণতন্ত্রের মৃত্যুঘণ্টা।
ভারতের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কোনদিকে যাবে, তা এখন নির্ভর করছে সংসদে এই বিলের ভাগ্যের উপর।






