টলিউডে আবার আলোচনার কেন্দ্রে পরিচালক–প্রযোজক Shiboprosad Mukherjee। বহু প্রতীক্ষিত নতুন ছবি Mana Shankara–এর ফার্স্ট লুক পোস্টার প্রকাশ করতেই সোশ্যাল মিডিয়া ও চলচ্চিত্র মহলে তৈরি হয়েছে প্রবল কৌতূহল। পোস্টারের ভিজ্যুয়াল ভাষা, রঙের ব্যবহার এবং নামের আধ্যাত্মিক ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে এই ছবি নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে।
শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মানেই বক্স অফিসে নির্ভরযোগ্য নাম, আবার একই সঙ্গে সামাজিক ও মানবিক গল্প বলার এক অনন্য ভঙ্গি। ‘Mana Shankara’ নামটি প্রথম সামনে আসার পর থেকেই দর্শক ভাবতে শুরু করেছেন—এ কি শুধুই ধর্মীয় ভাবনার ছবি, নাকি মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব, বিশ্বাস ও বাস্তবতার টানাপোড়েন নিয়ে এক আধুনিক আখ্যান?
ফার্স্ট লুক পোস্টার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ছবির নির্মাতা দল স্পষ্ট করে দিয়েছে, এটি কোনও সাধারণ প্রজেক্ট নয়। পোস্টার যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রশ্ন ছুড়ে দেয় দর্শকের দিকে—এই ‘শঙ্কর’ কি দেবতা, নাকি মানুষের ভিতরের শক্তির প্রতীক?
টলিপাড়ার অন্দরমহলে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে—‘Mana Shankara’ হতে পারে শিবপ্রসাদের কেরিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। কারণ, এই ছবিতে তিনি নাকি একেবারে নতুন আঙ্গিকে গল্প বলার পথে হাঁটছেন।
‘Mana Shankara’-র ফার্স্ট লুক পোস্টার: প্রতীক, রঙ ও নীরব বার্তা

ফার্স্ট লুক পোস্টার মানেই ছবির মেজাজের প্রথম ইশারা। ‘Mana Shankara’-র ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। পোস্টারে চোখে পড়ে এক রহস্যময় আবহ—কোনও অতিরিক্ত রং নয়, নেই চটকদার উপাদান। বরং সংযত ভিজ্যুয়ালেই তৈরি করা হয়েছে গভীর ভাব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পোস্টারে ব্যবহৃত রঙের টোন ইঙ্গিত দেয় আত্মসংযম ও অন্তর্মুখী যাত্রার। ‘শঙ্কর’ নামটি যেখানে শক্তি ও ধ্বংসের পাশাপাশি পুনর্জন্মের প্রতীক, সেখানে ‘Mana’ শব্দটি যেন মানুষের মন, বিশ্বাস ও উপলব্ধির দিকেই ইশারা করছে।
এই পোস্টার দেখেই অনেক দর্শক সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন—এ ছবি হয়তো ধর্মীয় গল্প নয়, বরং মানুষের বিশ্বাস ও সংশয়ের গল্প। পোস্টারের নীরবতা আসলে দর্শককে ভাবতে বাধ্য করছে, যা আধুনিক বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও টিম: নতুন গল্প বলার প্রস্তুতি

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি মানেই পারিবারিক আবেগ, সামাজিক বাস্তবতা এবং বাণিজ্যিক সাফল্যের এক সুষম মেলবন্ধন। তবে ‘Mana Shankara’-র ফার্স্ট লুক দেখে স্পষ্ট, এখানে তিনি কিছুটা আলাদা পথে হাঁটতে চাইছেন।
পরিচালক ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই ছবির গল্প মানুষের বিশ্বাস, ভয় এবং আত্মোপলব্ধির উপর দাঁড়িয়ে। এমন এক সময়ে যখন দ্রুতগতির জীবনে মানুষ ক্রমশ নিজের ভিতরের কণ্ঠস্বর ভুলে যাচ্ছে, তখন ‘Mana Shankara’ সেই হারিয়ে যাওয়া প্রশ্নগুলিকেই সামনে আনতে পারে।
শিবপ্রসাদের টিম বরাবরই গল্প বলায় সূক্ষ্মতা বজায় রাখে। এই ছবিতেও চিত্রনাট্য, আবহসংগীত এবং ভিজ্যুয়াল টোন—সবকিছু মিলিয়ে একটি গভীর অভিজ্ঞতা তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে বলে মনে করছেন সিনেমা বিশ্লেষকরা।
টলিউড ও দর্শকের প্রত্যাশা: কেন ‘Mana Shankara’ আলাদা?

বর্তমান টলিউডে কনটেন্ট-চালিত ছবির চাহিদা বাড়ছে। দর্শক শুধু বিনোদন নয়, গল্পে খুঁজছেন ভাবনার খোরাক। সেই দিক থেকে ‘Mana Shankara’ যেন সময়ের দাবির সঙ্গেই তাল মিলিয়ে এসেছে।
ফার্স্ট লুক প্রকাশের পর থেকেই দর্শকের একাংশ বলছেন—এই ছবি হয়তো ধর্মের বাইরে গিয়ে মানুষের ভিতরের শক্তি ও দুর্বলতার কথা বলবে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এটি হতে পারে সমাজের প্রচলিত বিশ্বাস ব্যবস্থার উপর এক সূক্ষ্ম প্রশ্নচিহ্ন।
টলিউড ইন্ডাস্ট্রির জন্যও এই ছবি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বড় নামের পরিচালক যখন আধ্যাত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়কে মূলধারার সিনেমায় আনেন, তখন তা ভবিষ্যতের ছবির ভাষাকেও প্রভাবিত করে।
‘Mana Shankara’-র ফার্স্ট লুক পোস্টার শুধু একটি ছবির প্রচার সামগ্রী নয়, বরং এক ধরনের প্রতিশ্রুতি। প্রতিশ্রুতি—একটি গভীর, ভাবনাপ্রবণ এবং আলাদা অভিজ্ঞতার। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর টিম যে আবারও দর্শককে ভাবতে বাধ্য করতে চলেছেন, তার ইঙ্গিত এই প্রথম ঝলকেই স্পষ্ট।
এখন প্রশ্ন একটাই—পর্দায় এই ‘Mana Shankara’ কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে? উত্তর মিলবে মুক্তির পরেই, তবে আপাতত টলিপাড়া ও দর্শক—দু’পক্ষই অপেক্ষায়।






