ভারতের ঐতিহাসিক লালকেল্লায় জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টাকালে দিল্লি পুলিশের হাতে ধরা পড়ল পাঁচ অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিক। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ির মাঝেও এই ঘটনা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
কিভাবে ঘটল এই ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট সকালে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার পশ্চিম দরজার দিক থেকে পাঁচজন ব্যক্তি জোর করে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন।
নিয়মিত নজরদারির সময় নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের সন্দেহজনক কার্যকলাপে লক্ষ্য করে। বাধা দিলে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেন, তবে পুলিশ তাঁদের দ্রুত পাকড়াও করে।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেছেন। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিক আইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সরকারি সম্পত্তিতে অনুপ্রবেশের ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

ভারতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় প্রশ্ন
এই ঘটনা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে বড় সতর্কবার্তা। রাজধানীর মতো কড়া নিরাপত্তা বিশিষ্ট জায়গায় এমন অবৈধ অনুপ্রবেশ জাতীয় নিরাপত্তার বড় ফাঁকফোকরের ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষ করে ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগেই এই ধরনের ঘটনা ঘটায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। লালকেল্লা থেকেই দেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।
এই স্থানে নিরাপত্তার এমন ত্রুটি গোয়েন্দা মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বড়সড় ষড়যন্ত্র থাকতে পারে, অথবা আন্তর্জাতিক চক্রের ভূমিকা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তদন্ত এখন সেই দিকেই এগোচ্ছে।
অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ: একটি পুরনো সমস্যা
ভারতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নতুন কিছু নয়। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহার ও দিল্লিতে বহু বাংলাদেশি নাগরিক বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছেন।
অনেকেই স্থানীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে জীবন কাটিয়ে দেন। এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা ছাড়াও সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাও সৃষ্টি হচ্ছে।
সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার NRC (National Register of Citizens) এবং CAA (Citizenship Amendment Act)-এর মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবেলার চেষ্টা করছে।
উপসংহার: এখন কী হতে চলেছে?
দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ধৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের ভারতীয় সংযোগ এবং প্রবেশপথ সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হচ্ছে।
একইসঙ্গে, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিদেশ মন্ত্রক যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে। যদি এদের পেছনে কোনো বড় নেটওয়ার্ক থাকে, তবে তা ভেঙে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, সরকার কতটা কড়া পদক্ষেপ নেয় এবং এই ধরনের অনুপ্রবেশ রোধে ভবিষ্যতে কী কী প্রযুক্তিগত ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
📢 আপনার মতামত জানান: আপনি কি মনে করেন সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার হওয়া উচিত? কমেন্টে লিখুন এবং শেয়ার করে অন্যদেরও জানাতে সাহায্য করুন।






