‘কাটুকুটু বুড়ো’-র তৃতীয় গান ‘বুড়ো বুড়ি’: নীরব ভালোবাসার সুরে হৃদয় ছুঁয়ে গেল নতুন মেলোডি

আসন্ন বাংলা ছবি ‘কাটুকুটু বুড়ো’-র তৃতীয় গান ‘বুড়ো বুড়ি’ নীরব, পরিণত ও চিরন্তন ভালোবাসার গল্প বলে। কৌশিক ও উজান গঙ্গোপাধ্যায়ের গীতরচনা, উজানের সুর এবং দেবায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৃজিতা মিত্রের কণ্ঠ গানটিকে দিয়েছে অনন্য আবেগ।

Table of Contents

Share Our Blog Now :
Facebook
WhatsApp

বাংলা সিনেমায় প্রেমের গল্পের সংজ্ঞা বদলে দেওয়ার মতো আরও এক আবেগঘন মুহূর্ত নিয়ে হাজির হয়েছে আসন্ন চলচ্চিত্র ‘কাটুকুটু বুড়ো’-র তৃতীয় গান ‘বুড়ো বুড়ি’। ছবির মুক্তির আগে প্রকাশিত এই নতুন গানটি ইতিমধ্যেই শ্রোতাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে তার সুর, কথা এবং আবেগের গভীরতার জন্য। যেখানে আজকের সময়ে প্রেমকে প্রায়শই বড় বড় ঘোষণা কিংবা নাটকীয় মুহূর্তের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়, সেখানে ‘বুড়ো বুড়ি’ একেবারেই অন্য পথ বেছে নিয়েছে।

এই গান ভালোবাসার সেই রূপকে উদযাপন করে, যা ধীরে ধীরে জীবনের সঙ্গে মিশে যায়। চোখের ভাষা, ছোট্ট হাসি, একে অপরের পাশে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা সময়ের সঙ্গে একসঙ্গে বুড়িয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি—এসব ছোট ছোট মুহূর্তই এখানে হয়ে উঠেছে প্রেমের সবচেয়ে বড় প্রকাশ। তাই গানটি কেবল একটি রোমান্টিক ট্র্যাক নয়, বরং দীর্ঘদিনের সম্পর্কের উষ্ণতা ও নির্ভরতার এক সুরেলা প্রতিচ্ছবি।

‘বুড়ো বুড়ি’-র আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ এর গীতরচনা। বাবা-ছেলের সৃজনশীল জুটি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং উজান গঙ্গোপাধ্যায় একসঙ্গে লিখেছেন এই গানের কথা। দুই প্রজন্মের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা এবং গল্প বলার ভঙ্গি একসূত্রে গেঁথে তৈরি হয়েছে এমন এক লিরিক, যা সহজ অথচ গভীর।

গানটির সুরারোপ করেছেন উজান গঙ্গোপাধ্যায়। আর কণ্ঠ দিয়েছেন দেবায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়সৃজিতা মিত্র। তাঁদের আবেগময় পরিবেশনা গানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। ইতিমধ্যেই গানটি বিভিন্ন ডিজিটাল মিউজিক প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে। আগামী ২৪ জুলাই বড় পর্দায় মুক্তি পাবে ‘কাটুকুটু বুড়ো’


ভালোবাসার সংজ্ঞা বদলে দেয় ‘বুড়ো বুড়ি’

বর্তমান সময়ের অধিকাংশ প্রেমের গান যেখানে সম্পর্কের উচ্ছ্বাস বা বিচ্ছেদের বেদনাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, সেখানে ‘বুড়ো বুড়ি’ সম্পূর্ণ ভিন্ন অনুভূতির কথা বলে। এই গান জানায়, ভালোবাসার আসল শক্তি লুকিয়ে থাকে প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্তে—এক কাপ চা ভাগ করে নেওয়া, ক্লান্ত দিনের শেষে নীরব উপস্থিতি কিংবা কোনো কথা না বলেও সবকিছু বুঝে নেওয়ার মধ্যে।

গানের প্রতিটি শব্দ এবং সুরে রয়েছে এক ধরনের প্রশান্তি। যেন সম্পর্কের পরিণত রূপকে খুব স্বাভাবিকভাবে উদযাপন করা হয়েছে। এই কারণেই গানটি তরুণ প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে শুরু করে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবন কাটানো মানুষ—সব বয়সের শ্রোতার কাছেই সমানভাবে আবেদন তৈরি করতে পারে।

বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গীতে এই ধরনের সংযত এবং হৃদয়স্পর্শী প্রেমের গান বরাবরই বিশেষ স্থান দখল করে এসেছে। ‘বুড়ো বুড়ি’ সেই ধারাকেই নতুন প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরার সম্ভাবনা রাখে।


দুই প্রজন্মের কলম, এক অনুভূতির গল্প

‘বুড়ো বুড়ি’-র অন্যতম বড় শক্তি এর গীতরচনা। বাবা-ছেলের এই যৌথ সৃষ্টিতে যেন দুই প্রজন্মের অভিজ্ঞতা এবং ভালোবাসা সম্পর্কে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। ফলে গানটির ভাষা যেমন সহজবোধ্য, তেমনি তার অন্তর্নিহিত আবেগ অত্যন্ত গভীর।

সুরকার হিসেবেও উজান গঙ্গোপাধ্যায় অত্যন্ত সংযত এবং পরিমিত একটি মেলোডি নির্মাণ করেছেন। কোথাও অপ্রয়োজনীয় বাদ্যযন্ত্রের বাড়াবাড়ি নেই, বরং গানের অনুভূতিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এই সংযমই গানটিকে দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো করে তুলতে সাহায্য করেছে।

বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেখানে মৌলিক মেলোডির চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে ‘বুড়ো বুড়ি’ সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে বলেই মনে করছেন সঙ্গীতপ্রেমীদের একাংশ।


দেবায়ন ও সৃজিতার কণ্ঠে উষ্ণতার স্পর্শ

গানটি নিয়ে শিল্পী দেবায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সৃজিতা মিত্র বলেন,

“‘বুড়ো বুড়ি’ এমন একটি গান, যা শুধু ভালোবাসার কথা বলে না—ভালোবাসাকে অনুভব করায়। এখানে ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া যায় ছোট ছোট মুহূর্তে, একটি আশ্বাসের হাসিতে, নীরব বোঝাপড়ায় এবং একে অপরের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিতে। এই আবেগময় যাত্রার অংশ হতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। আশা করি, শ্রোতারাও নিজেদের জীবনের কিছু না কিছু গল্প এই গানের মধ্যে খুঁজে পাবেন এবং গানটির উষ্ণতা অনেক দিন সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন।”

তাঁদের কণ্ঠে আবেগের সূক্ষ্ম প্রকাশ গানটির মূল শক্তিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গানের প্রতিটি লাইন শ্রোতার মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলতে সক্ষম।

বর্তমানে গানটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া মিলছে। ছবির মুক্তির আগে এই গান দর্শকদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।


‘বুড়ো বুড়ি’ প্রমাণ করে যে ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো কখনও উচ্চস্বরে বলা হয় না। বরং সেগুলো ধীরে ধীরে জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ও উজান গঙ্গোপাধ্যায়ের আবেগঘন গীতরচনা, উজানের মেলোডিয়াস সুর এবং দেবায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৃজিতা মিত্রের হৃদয়ছোঁয়া কণ্ঠ মিলিয়ে এই গান বাংলা চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম অনুভূতিপ্রবণ প্রেমের গান হিসেবে আলাদা পরিচিতি পেতে পারে। এখন অপেক্ষা শুধুই ২৪ জুলাই, যখন বড় পর্দায় মুক্তি পাবে ‘কাটুকুটু বুড়ো’

RELATED Articles :
বিনোদন

‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ টিজার প্রকাশ: মা তারার প্রতি বামার চিরন্তন ভক্তির এক ঝলক

কৌশিকী অমাবস্যার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পেল SVF-এর ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’-র টিজার। তারাপীঠের আবহে বামাচরণ ও মা তারার চিরন্তন সম্পর্ক, সাধনা, ভক্তি ও আত্মসমর্পণের গল্প নিয়ে কালীপুজো ২০২৬-এ বড় পর্দায় আসছে ছবিটি।

Read More »
বিনোদন

প্রেম যখন বেপরোয়া, সাবধানতার জায়গা থাকে কোথায়? আদৃত-আরিয়ার ‘বেপরোয়া’য় নতুন প্রেমের তীব্রতা

আদৃত রায় ও ডেবিউট্যান্ট আরিয়া রায়কে নিয়ে আসছে অভিরূপ ঘোষের নতুন বাংলা ছবি ‘বেপরোয়া’। প্রেমের তীব্রতা, আবেগ, অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার গল্প বলা এই ছবির অফিসিয়াল ট্রেলার ইতিমধ্যেই তৈরি করেছে আগ্রহ। ‘বেপরোয়া’ মুক্তি পাবে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

Read More »
কলকাতা

৫,৬০০ পদ, ১,১০৮ কেজির কেক! জন্মাষ্টমীর ভোগে মন্দিরে মহা আয়োজন

৫,৬০০ পদ এবং ১,১০৮ কেজির বিশাল কেক নিয়ে জন্মাষ্টমীর মহাভোগ আয়োজন। কৃষ্ণের জন্মোৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দিরের এই নজিরবিহীন প্রস্তুতি ভক্তদের মধ্যে তৈরি করেছে ব্যাপক আগ্রহ।

Read More »
কলকাতা

কলকাতা পুজোয় নতুন সুরের আবহ, বিশেষ সঙ্গীত রচনা উন্মোচন করলেন পণ্ডিত বিশ্ব মোহন ভাট

কলকাতার ৮৪তম মণিকতলা চালতাবাগান লোহাপট্টি দুর্গাপুজোর জন্য বিশেষ সঙ্গীত রচনা উন্মোচন করলেন গ্র্যামি জয়ী পণ্ডিত বিশ্ব মোহন ভাট। মহিষাসুরমর্দিনীর আবহ, মোহন বীণা ও তিন প্রজন্মের ভাট পরিবারের সঙ্গীত সহযোগিতায় তৈরি এই সৃষ্টি成为েছে এবারের পুজোর অন্যতম আকর্ষণ।

Read More »
কলকাতা

কলকাতা পুলিশের পুজো প্রস্তুতি জোরদার: ভিড় সামলাতে বড় মণ্ডপে বিশেষ নজর, ট্রাফিক ও নিরাপত্তা পরিকল্পনায় লালবাজার

দুর্গাপুজোর আগেই বড় প্রস্তুতি শুরু কলকাতা পুলিশের। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, মণ্ডপের গেট ও ব্যারিকেড, জরুরি পরিষেবার পথ এবং পুজো কমিটির তথ্য সংগ্রহে জোর দিচ্ছে লালবাজার। বড় পুজো-কেন্দ্রগুলিতে বাড়তি নজরদারির পাশাপাশি ২০০-র বেশি রাস্তা মেরামতের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

Read More »
error: Content is protected !!