ভারতীয় ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়া যেমন কঠিন, তেমনই কঠিন সেই সুযোগ হাতছাড়া করার যন্ত্রণা সামলানো। বিশেষ করে যখন নিজেকে প্রস্তুত রেখেও শেষ মুহূর্তে নাম কাটা যায়, তখন সেই ব্যথা নিঃশব্দে আরও গভীর হয়। ঠিক সেই অভিজ্ঞতার কথাই সম্প্রতি খোলাখুলি জানালেন Jitesh Sharma।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাথমিক আলোচনায় নাম থাকলেও চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পাননি এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। দেশের জার্সিতে বড় মঞ্চে খেলার স্বপ্ন যে কতটা কাছে গিয়েও দূরে সরে গেল, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।
জিতেশের এই স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত হতাশার গল্প নয়। এটি আজকের প্রতিযোগিতামূলক ভারতীয় ক্রিকেট ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র—যেখানে প্রতিভা, ফর্ম ও ভাগ্যের সূক্ষ্ম সমীকরণে প্রতিদিন বদলে যায় ভবিষ্যৎ।
এই আবেগঘন মুহূর্তে তিনি কী বললেন? কীভাবে এই ধাক্কা সামলে সামনে এগোতে চান? তাঁর কথার আড়ালে লুকিয়ে থাকা বার্তাই আজকের এই প্রতিবেদনের মূল সুর।
বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভাঙার মুহূর্ত


বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার দিনটা যে তাঁর কাছে কতটা কঠিন ছিল, তা অকপটে স্বীকার করেছেন জিতেশ। ফোনে খবর পাওয়ার পর কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, কঠোর পরিশ্রম আর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স—সব যেন হঠাৎ প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে যায়।
তিনি জানান, “নিজেকে মানসিকভাবে তৈরি রেখেছিলাম। সুযোগ না পাওয়াটা ভীষণ কষ্টের ছিল।” এই কথার মধ্যেই ধরা পড়ে একজন পেশাদার ক্রিকেটারের চাপা যন্ত্রণা—যেখানে আবেগকে সরিয়ে রেখে আবার পরের দিনের প্রস্তুতির পথে ফিরতে হয়।
আইপিএলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, ফিনিশারের ভূমিকায় সাফল্য—সবকিছু সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত দলে জায়গা না পাওয়া তাঁকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এই হতাশা তাঁকে ভেঙে দেয়নি, বরং আরও বাস্তববাদী করে তুলেছে।
বিশ্বকাপ দলে থাকা মানেই শুধু ফর্ম নয়, বরং টিম কম্বিনেশন, কৌশল এবং নির্দিষ্ট ভূমিকায় মানানসই হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ—এই উপলব্ধিই স্পষ্ট তাঁর কথায়।
নির্বাচনের কঠিন বাস্তবতা ও প্রতিযোগিতা

ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পাওয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। একাধিক তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটার, অলরাউন্ডার ও ফিনিশার—সবাই একই জায়গার জন্য লড়াই করছেন। এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই জিতেশ বলেন, “নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতেই হয়।”
নির্বাচন প্রক্রিয়ার এই কঠোর দিকটাই আধুনিক ক্রিকেটের সত্য। এক সিরিজে ভালো করলে পরের সিরিজে বাদ পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। জিতেশের কথায় ফুটে ওঠে সেই বাস্তববোধ—যেখানে আবেগের জায়গায় পেশাদার মানসিকতা জরুরি।
তিনি আরও জানান, এই বাদ পড়া তাঁকে নিজের খেলার দুর্বল দিকগুলো নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। শুধু শক্তি নয়, ধারাবাহিকতা ও ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতাও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, তা উপলব্ধি করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপ স্কোয়াডে না থাকা মানেই পথ শেষ নয়—বরং এটি নিজেকে আরও শাণিত করার সুযোগ। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।
হতাশা থেকে প্রেরণায় রূপান্তর


হতাশা যে তাঁর লক্ষ্যচ্যুতি ঘটাতে পারেনি, তা স্পষ্ট তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়। জিতেশ জানিয়েছেন, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে আরও শক্ত করেছে। তিনি এখন আগের চেয়ে বেশি ফোকাসড, বেশি ক্ষুধার্ত।
আইপিএল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের ভূমিকা আরও স্পষ্টভাবে তৈরি করতে চান তিনি। ম্যাচ ফিনিশ করার দক্ষতা, দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা এবং উইকেটের পিছনে নির্ভরযোগ্যতা—এই তিন অস্ত্রকেই আরও ধারালো করার লক্ষ্যে এগোচ্ছেন।
তাঁর মতে, প্রতিটি ধাক্কাই শেখার সুযোগ। বিশ্বকাপ দলে না থাকলেও দেশের হয়ে খেলবার স্বপ্ন তিনি ছাড়েননি। বরং সেই স্বপ্ন এখন আরও দৃঢ়।
এই মনোভাবই আজকের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য বড় বার্তা—সুযোগ না পেলে ভেঙে পড়া নয়, বরং নিজেকে আরও প্রস্তুত করা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে না থাকা জিতেশ শর্মার কেরিয়ারের শেষ অধ্যায় নয়। বরং এটি এক নতুন অধ্যায়ের শুরু—যেখানে হতাশা থেকে জন্ম নিচ্ছে আরও বড় প্রত্যয়। তাঁর স্বীকারোক্তি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সাফল্যের পথে ব্যর্থতাও এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক।
ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকতে হলে মানসিক দৃঢ়তা ও ধারাবাহিক উন্নতিই শেষ কথা। জিতেশ শর্মার গল্প তাই শুধু একজন ক্রিকেটারের নয়, বরং স্বপ্ন দেখা প্রতিটি তরুণের অনুপ্রেরণা।






