টলিপাড়ার সাম্প্রতিক গুঞ্জন যেন একেবারে সিরিয়ালের চেয়েও বেশি নাটকীয়। জনপ্রিয় রোম্যান্টিক সিরিয়ালের দুই মুখ্য অভিনেতা—জিতু কমল ও দিতিপ্রিয়া রায়ের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ চারদিকে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শ্যুটিং ফ্লোরে নায়ক-নায়িকার কথাবার্তা বন্ধ, দৃশ্য শ্যুট করতে অস্বীকৃতি, ফেসবুকে বিস্ফোরক অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে টিআরপি-র শীর্ষে থাকা সিরিয়ালটির ভবিষ্যৎ নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
আজকের রুদ্ধদ্বার বৈঠকেই ধরা পড়তে পারে টেলিপাড়ার আগামী অধ্যায়।
অভিনয় থেকে দূরত্ব: নায়িকার অস্বীকৃতি ও শ্যুটিং ফ্লোরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা

রোম্যান্টিক ধারাবাহিকে নায়িকার নায়ককে স্পর্শে অস্বীকৃতি—টেলিপাড়ায় এমন বিতর্ক সচরাচর দেখা যায় না। গত কয়েকদিন ধরে দাসানি ২ স্টুডিও-তে পরিবেশ একেবারে থমথমে। সূত্রের দাবি, রবিবার শ্যুটিং চললেও জিতু ও দিতিপ্রিয়া নাকি পরস্পরের মুখও দেখতে চাননি।
এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রযোজক সংস্থা ও চ্যানেলের উদ্বেগ বাড়ছে। টিআরপি-র নিরিখে ধারাবাহিকটি এখন শীর্ষে, তাই কোনো নেতিবাচক প্রচার বা অভ্যন্তরীণ অশান্তি চ্যানেলের ভাবমূর্তিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
দিতিপ্রিয়া যদিও নীরব, কিন্তু জিতু সোশ্যাল মিডিয়ায় যা লিখেছেন তা দ্বন্দ্বকে আরও উস্কে দিয়েছে।
ফেসবুকে জিতুর বিস্ফোরক অভিযোগ: সহ-অভিনেত্রীকে ‘অসহযোগী’ আখ্যা

জিতুর অভিযোগ, দিতিপ্রিয়া তাঁকে নাকি “খারাপ মানুষ”, “সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে অভিনয়ের যোগ্য নন” এমন মন্তব্য করেছেন। এমনকি, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি শ্যুটিং এড়িয়ে যাচ্ছেন—এই অভিযোগও তুলেছেন জিতু।
আরও চাঞ্চল্যকর দাবি—ক্রিয়েটিভ টিমের কয়েকজন নাকি তাঁকে সিরিয়াল ছাড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
এইসব প্রকাশ্যে আসতেই টলিপাড়া যেন আরও তপ্ত হয়ে উঠেছে।
প্রশ্ন উঠছে—এত বড় একটি শো-এর ভবিষ্যৎ কি সত্যিই কয়েকজনের ব্যক্তিগত মনোমালিন্যের কারণে বিপন্ন হবে?
রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আজই সমাধান? টলিপাড়ার নজর SVF-এর সিদ্ধান্তে
এসভিএফ প্রযোজনা সংস্থা সোমবার সন্ধ্যায় জিতু ও দিতিপ্রিয়াকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসছে। এর আগেও দু’জনের ঝামেলা উৎপাদন সংস্থা মিটিয়ে ছিল। তাই অনেকের ধারণা—এইবারও হয়তো সমাধান বেরিয়ে আসবে।
তবে পরিস্থিতি এবার তুলনামূলক বেশি জটিল।
চ্যানেলও নাকি ধারাবাহিকের নেতিবাচক প্রচার নিয়ে বেজায় অসন্তুষ্ট। দর্শকরা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলছেন—এই অস্থিরতার ফলে কি ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাবে?
টেলিপাড়ার চোখ এখন একটাই দিকে—আজকের বৈঠক।
টিআরপি-র শীর্ষ ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ কি ঝুলে রইল?
জিতু–দিতিপ্রিয়ার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এখন পুরো ইন্ডাস্ট্রির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। জনপ্রিয় ধারাবাহিকের সাফল্য, চ্যানেলের ভাবমূর্তি, দর্শকের আবেগ—সবকিছুই এখন নির্ভর করছে প্রযোজক সংস্থার আজকের সিদ্ধান্তের ওপর।
সমাধান কি মিলবে, নাকি সত্যিই পর্দা নামবে এই জনপ্রিয় সিরিয়ালের?
উত্তর হয়তো মিলবে খুব শিগগিরই।






