সম্প্রতি প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের বিরুদ্ধে উচ্চ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার পরেই, ভারত পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ার সাথে চলমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এক নতুন উত্তেজনার সূচনা করেছে, যেখানে ভণ্ডামির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে নয়াদিল্লি।
রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসায় ভণ্ডামি? ভারতের কূটনৈতিক পাল্টা বার্তা
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা যায়, যখন ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজেরা রাশিয়ার সাথে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য, বিশেষ করে জ্বালানি এবং প্রযুক্তি লেনদেন করছে, তখন ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করাটা কূটনৈতিক অসামঞ্জস্যতা।
নয়াদিল্লির মতে, ইউরোপ ও আমেরিকার কোম্পানিগুলো রাশিয়ার সাথে বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে আবদ্ধ। এই বাস্তবতায়, ভারত যদি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তবে সেটি কিভাবে দ্বৈত মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়?

ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি ও ভারতের প্রতিক্রিয়া
ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রচারাভিযান চলাকালীন, তিনি একাধিকবার চীন ও ভারতের বিরুদ্ধে বাণিজ্য অসামঞ্জস্যের অভিযোগ তুলেছেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, “ভারত আমাদের পণ্য আমদানিতে উচ্চ শুল্ক আরোপ করে। যদি আমি আবার প্রেসিডেন্ট হই, তবে আমরাও ভারতের পণ্যে দ্বিগুণ শুল্ক চাপাব।”
ভারত এই মন্তব্যকে “অন্যায্য ও অপ্রয়োজনীয় চাপ” বলে অভিহিত করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রক সাফ জানিয়েছে,
“আমরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতা মেনে চলি। ভারত বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইনের অংশীদার।”
এই মন্তব্যে কূটনৈতিক চাপ বাড়লেও, ভারতের অবস্থান দৃঢ়। দেশটি মনে করছে, আমেরিকা বা ইউরোপের পণ্য নীতি শুধু রাজনৈতিক নয়, ব্যবসায়িক ভাবে পক্ষপাতদুষ্ট।

ইউরোপ-আমেরিকার রাশিয়া বাণিজ্য বনাম ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি
ভারতের কূটনৈতিক মহল এবং বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি একটি বৃহৎ প্রশ্ন উত্থাপন করছে—আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কি নৈতিকতার ওপর ভিত্তি করে হবে, নাকি শুধুই কৌশলগত স্বার্থে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরেও ইউরোপীয় দেশগুলি গোপনে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কিনছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও নির্দিষ্ট পণ্য রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে।
ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে, আমরা দায়িত্বশীল বাণিজ্যের পক্ষে। কিন্তু দয়া করে আমাদের একতরফাভাবে দোষারোপ করবেন না।”
উপসংহার: দ্বৈত মাপকাঠির বিরুদ্ধে ভারতের বার্তা
ভারতের এই কূটনৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এক নতুন বিতর্ক উন্মোচন করেছে। এই ঘটনাটি দেখিয়ে দিল যে, শুধুমাত্র ক্ষমতা ও প্রভাব নয়, এখন স্বাধীন দেশের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিতে শুরু করেছে নয়াদিল্লি।
আগামী দিনে ট্রাম্প যদি পুনরায় ক্ষমতায় ফেরেন, তবে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে চাপ ও আলোচনার সম্ভাবনা প্রবল। তবে এখনই ভারতের এই কৌশলগত প্রতিক্রিয়া এক শক্ত বার্তা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে—ভণ্ডামি মেনে নেওয়া হবে না।






