বিশেষ প্রতিবেদন | The Indian Chronicles
দেশের নিরাপত্তা কাঠামো আরও দুর্ভেদ্য করতে বড়সড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নেতৃত্বে ৬৭,০০০ কোটি টাকার বিশাল অস্ত্রচুক্তি— যেখানে জায়গা পেয়েছে ১১০টিরও বেশি ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং অত্যাধুনিক ৮৭টি সশস্ত্র ড্রোন।
একবিংশ শতকের যুদ্ধকৌশলে ড্রোন এবং ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারত এবার তার সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারকে ঢেলে সাজানোর পথে। মঙ্গলবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বে হওয়া উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলি চূড়ান্ত হয়েছে।
৮৭টি সশস্ত্র ম্যাল ড্রোন: নতুন যুগের যুদ্ধনীতিতে ভারত
ড্রোন এখন আর শুধু নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয় না। আধুনিক ‘মিডিয়াম অ্যাল্টিচিউড লং এনডিওরেন্স’ (MALE) ড্রোন আজ ভয়ঙ্কর সব আক্রমণেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়, প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিদেশি প্রযুক্তি নির্ভর এমনই ৮৭টি ড্রোন কিনবে ভারত, যার নির্মাণে ৬০% দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করা হবে। আগামী ১০ বছরে এই ড্রোনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ করা হবে আরও ১১ হাজার কোটি টাকা।
এই ড্রোনগুলি শুধু নজরদারি চালাবে না, প্রয়োজনে শত্রুর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে সফলভাবে ফিরে আসতেও সক্ষম হবে। তিন বাহিনীর জন্যই এই সশস্ত্র ড্রোনগুলি অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ।
ব্রহ্মস: পৃথিবীর দ্রুততম ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র আরও ১১০টি
পৃথিবীর দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মস’ এখন ভারতের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয় জলে, স্থলে ও আকাশে— তিন বাহিনীরই রণনীতির অংশ হয়ে উঠেছে এটি।
বর্তমানে আরও ১১০টিরও বেশি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র সেনার অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা DRDO এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ট্রোয়েনিয়ার এক যুগান্তকারী সহযোগিতার ফসল।
৬৭,০০০ কোটি টাকার মেগা প্রতিরক্ষা প্রকল্প
ড্রোন ও ব্রহ্মস মিলিয়ে প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে সম্মতি দিয়েছে ডিফেন্স অ্যাকিউজিশন কাউন্সিল (DAC)। শুধু অস্ত্র কেনাই নয়, তাদের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দেশীয় উৎপাদনের উপরও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন সেনার সক্ষমতা বাড়বে, তেমনই দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের হাতও শক্ত হবে। এমনকি একে ভারতের ‘আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা অভিযানের’ আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে।






