কলকাতার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এ এক বিশেষ মুহূর্ত। সেলুলয়েড ফিল্মস আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করল তাদের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘হাটি হাটি পা পা’-র ট্রেলার ও পোস্টার। পরিচালনায় অর্ণব কে মিদ্দ্যা; প্রধান চরিত্রে ঋতুর সৌন্দর্য ও আবেগের সুরে সমৃদ্ধ ঋতুপর্ণা মৈত্র নয়, এবার দেখা যাবে রুক্মিনী মৈত্র ও অভিজ্ঞ অভিনেতা চিরঞ্জীত চক্রবর্তীকে।
আধুনিক শহুরে বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্রটি তুলে ধরছে বাবা-মেয়ের সম্পর্কের নীরব টানাপোড়েন, দায়িত্ববোধ এবং ভালোবাসার গভীরতা — যেগুলো প্রায়ই শব্দহীন থেকেও সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখে।
এক ভিন্নধর্মী গল্প: বাবা-মেয়ের নীরব সম্পর্কের ভেতরকার আবেগ
অবকাশ, একাকিত্ব ও দায়িত্ব—‘হাটি হাটি পা পা’-তে জীবনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি
চলচ্চিত্রের কাহিনি এক তরুণী ও তার বৃদ্ধ বাবাকে কেন্দ্র করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের ভাষা যেমন বদলায়, তেমনই বদলায় আবেগ প্রকাশের ধরন। সমাজ যত এগিয়ে চলেছে, একাকিত্ব ও মানসিক দূরত্ব ততই বেড়ে উঠছে — কিন্তু পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ও নীরব ভালোবাসা আজও অটল।

ছবিতে দেখানো হয়েছে—
- বার্ধক্যের চাপে হারিয়ে যাওয়া এক পিতার অনুভূতি
- কর্মব্যস্ত জীবনে মেয়ের দায়িত্ববোধ
- প্রজন্মগত দূরত্বের কারণে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি
- এবং নীরব ভালোবাসা, যা অনুচ্চারিত হলেও সম্পর্ককে ধরে রাখে
পরিচালকের ভাষায়, “ভালোবাসা সবসময় শব্দ চায় না—কখনো কখনো শুধু উপস্থিতিই যথেষ্ট।”
তারকাখচিত কাস্ট ও টেকনিক্যাল টিম: ছবির অন্যতম শক্তি
চমকপ্রদ অভিনয়শিল্পী দল
ছবির প্রধান ভূমিকায়—
- রুক্মিনী মৈত্র
- চিরঞ্জীত চক্রবর্তী

সহযোগী ভূমিকায় আরও রয়েছেন—
- অঞ্জনা বসু
- তুলিকা বসু
- সন্দীপ ভট্টাচার্য
- বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
- ঈশিকা দে
- স্বাগত বসু
- সায়ন ঘোষ
- মোনালিসা চ্যাটার্জি
প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব চরিত্রকে বাস্তবতার গভীরতায় ফুটিয়ে তুলেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টেকনিক্যাল টিমের নিপুণতা
টিমের মধ্যে রয়েছেন—
- চিত্রগ্রহণ: ইন্দ্রনাথ মারিক
- সম্পাদনা: প্রণয় দাসগুপ্ত
- সাউন্ড ডিজাইন: অমিত কুমার দত্ত
- চিত্রনাট্য: প্রিয়ঙ্কা পোদ্দার
- আর্ট ডিরেকশন: আনন্দ অধ্যা
- সংগীত: রণজয় ভট্টাচার্য ও অনির্বাণ অজয় দাস
সমগ্র টিম মিলিতভাবে ছবিকে ভিজ্যুয়ালি ও আবেগগতভাবে শক্তিশালী করে তুলেছেন।
পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি: মনের গভীরে পৌঁছে যাওয়া এক যাত্রা
পরিচালক অর্ণব কে মিদ্দ্যা জানিয়েছেন, এই চলচ্চিত্র তাঁর কাছে শুধুমাত্র একটি গল্প নয় — এটি বাস্তব জীবনের বহু বাবা-মেয়ের অসমাপ্ত, অব্যক্ত সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি।

তিনি বলেন—
“আজকের ব্যস্ত শহুরে জীবনে পরিবারের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব বাড়ছে। কিন্তু ভালোবাসার সূক্ষ্ম সুতোর টান এখনও আমাদের বেঁধে রাখে। এই ছবি সেই অদৃশ্য বন্ধনের গল্প।”
এই বক্তব্যই ছবির মূল আত্মা—নীরবে বোনা ভালোবাসার সুর।
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ট্রেলার
চলচ্চিত্রটি ২৮ নভেম্বর ২০২৫ থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্ট্যান্ডঅ্যালোন প্রেক্ষাগৃহ ও মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি পাবে।
এছাড়াও—
- ট্রেলার ইতিমধ্যে বড় বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিম হওয়ার পথে
- দর্শকরা পাবে ছবির আবেগঘন সুর ও সম্পর্কের রসায়নের ঝলক
- প্রচারে যুক্ত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন বিশেষ কনটেন্ট
ছবিটি পরিবার, আবেগ এবং সম্পর্কভিত্তিক গল্প পছন্দ করেন এমন দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে।
উপসংহার
‘হাটি হাটি পা পা’ কেবল একটি চলচ্চিত্র নয় – এটি আমাদের চারপাশের সম্পর্কগুলোর নীরব গল্প। বাবা-মেয়ের আবেগ, দায়িত্ব এবং ভালোবাসার বাস্তব উপস্থাপনা এই ছবি বহু মানুষের মন ছুঁয়ে যাবে।
আপনার পরিবারেও কি এমন নীরব ভালোবাসার গল্প আছে? নিচে মন্তব্যে জানাতে পারেন।






